২রা আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ১০ই সফর, ১৪৪৩ হিজরি



অপরিকল্পিত বন্দোবস্তের খেসারত

বিশেষ প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ২৫ আগস্ট, ২০২১

কুমিল্লার মুরাদনগরের কোম্পানীগঞ্জ বাজারে দীর্ঘ ১৬ বছর আগে জেলা পরিষদ অপরিকল্পিতভাবে খালের উপর দোকান ভিটি বন্দোবস্ত দেয়ায় দুর্ভোগে হাজারো জনগণ। দুর্ভোগ লাগবে নীরব ভূমিকায় জেলা পরিষদ, স্থানীয় প্রশাসন ও বাজার কমিটি।

এদিকে সমস্যার স্থায়ী সমাধানের কোনো প্রকার উদ্যোগ না থাকায় ব্যবসায়ীদের চোখে মুখে হতাশার ছাপ। কুমিল্লা উত্তর জেলার বৃহত্তম পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ের কেন্দ্রস্থল হিসেবেই সবার কাছে পরিচিত এ বাজারটি।

সামান্য বৃষ্টি হলেই এখানে তলিয়ে যায় কোম্পানীগঞ্জ নবীনগর আঞ্চলিক সড়ক ও বাজারের সকল যোগযোগ ব্যবস্থা। উপরে উঠে আসে ড্রেনের ময়লা আবর্জনা এবং নোংরা দূষিত পানি। এতে করে ভোগান্তিতে পরে ছোট-বড় কয়েক হাজার দোকানিসহ আশে পাশের কয়েকটি উপজেলার হাজার হাজার মানুষ। বছরের অধিকাংশ সময় বাজারের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও অলিগলিতে পানি থাকার ফলে ক্রেতারা মালামাল ক্রয় করে নিয়ে যেতে ভরসা করতে হয় নৌকার উপরে। অপরদিকে জলাবদ্ধ রাস্তায় চলাচল করতে গিয়ে যানবাহন গর্তে পড়ে ঘটে দুর্ঘটনা ও তৈরি হয় দীর্ঘ যানজট।

ব্যবসায়ী নাজিম উদ্দিন বলেন, সামান্য বৃষ্টি হলেই বাজারের ভেতর হাটু পানি জমে যায়। নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় দীর্ঘদিন জমে থাকে পানি। নোংরা ও দূষিত পানির কারণে বাজারে তেমন কাস্টমার আসে না। আমরা চাই যত দ্রুত সম্ভব পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নেয়া হোক। এভাবে চলতে থাকলে বড় কোনো ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে আমরা ব্যবসা ছেড়ে চলে যেতে হবে।

সিএনজি চালক মাসুম বলেন, বৃষ্টি হলেই আমরা আর বাজারে জেতে পারি না। যাত্রীদের মন রক্ষার্থে বাজারে যেতে গিয়ে কয়েকবার আমার সিএনজি উল্টে গেছে। আর এই গাড়ি মেরামত করতে কয়েক মাসের ইনকাম চলে যায়। যার ফলে বেশি টাকা দিলেও এখন আর ওই বাজারে যাই না।

অটোরিকশাচালক কাউসার মিয়া বলেন, এই বাজারে গিয়া আমার রিকশার চাক্কা ভাঙছে দুইবার, মটার জ্বলছে একবার। বর্তমানে ভাড়া না পাইলেও ওই বাজারে আর যাই না।

কোম্পানীগঞ্জ বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান জানান, ২০০৫ সালের দিকে তৎকালীন এমপি কায়কোবাদের সহযোগিতায় উনার নেতাকর্মীরা জেলা পরিষদের কাছ থেকে সুকৌশলে খালের একটি অংশ বন্দোবস্ত নিয়ে আসে। পরে কিছুদিনের মধ্যেই সেখানে গড়ে উঠে দোকানপাট। এরপর ২০১২ সালে কুমিল্লা উত্তর জেলা আ.লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম সরকারের সহযোগিতা উনার নিকট আত্মীয় এবং নেতাকর্মীরা খালের বাকি অংশটুকু দখল করে রাতারাতি মার্কেট নির্মাণ করে। ফলে বন্ধ হয়ে যায় বাজারের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা। আমরা চাই বৃহত্তর এই বাজারের সার্থে খালটি পূনরায় উদ্ধার করা হোক।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অভিষেক দাশ বলেন, জায়গাটি নিয়ে জেলা পরিষদ, জেলা প্রশাসক ও কোম্পানীগঞ্জ বদিউল আলম ডিগ্রি কলেজ কর্তৃপক্ষের মধ্যে মামলা চলমান। যে কারণে নির্মাণাধীন দোকানগুলো উচ্ছেদ করে আমরা বাজারের সমস্যা নিরসনে স্থায়ীভাবে কিছু করতে পারছি না। গত কিছুদিন আগে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে রাস্তার পূর্ব পাশের বন্দোবস্তকৃত দোকান ভেঙে পাঁচ ফুট জায়গা উন্মুক্ত করা হয়েছে। সেখানে কিছুদিনের মধ্যেই বাজারের পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেন নির্মাণ করা হবে।

কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, প্রথমত আমাদের অগোচরে এসব জায়গার শ্রেণি পরিবর্তন করে বন্দোবস্ত নিয়ে থাকে। দ্বিতীয়ত, বন্দোবস্ত দেয়ার সময় বলা থাকে যেকোনো জনদুর্ভোগে, প্রয়োজনে জায়গা ছেড়ে দিতে হবে। যদি জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে বন্দোবস্ত দেয়া এই জায়গাটির জন্য কোনো প্রকার জনভোগান্তি হয়, তাহলে অবশ্যই আমরা বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।






এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ





















© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD
themesbazar_brekingnews1*5k