১১ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ১৯শে সফর, ১৪৪৩ হিজরি



আগুন নিয়ন্ত্রণে সকলের সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন

শাকিবুল হাসান
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ৬ মে, ২০২১

আগুনে পুড়ে মৃত্যু। কত কষ্ট, কত যন্ত্রণার সেটা নিজে না পুড়লে বোঝা যাবে না। আগুনে পোড়া এসব মানুষকে দেখলেও অনুমান করা যেতে পারে। অথচ অর্থহীন শুধু সাময়িক বেদনা প্রকাশ করাই আমাদের কাজ! বাস্তবতা হচ্ছে, না তো আছে কারো প্রতি মায়া দয়া আর না–ই সাহায্য করবার বিন্দুমাত্র আগ্রহ। যদি থাকতো তাহলে অসহায় মানুষের আগুনে পোড়ার বিভৎস গন্ধ আর মর্মান্তিক দৃশ্য দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে উপভোগ করতো না। কেউ কেউ আবার জনপ্রিয়তা লাভের জন্য সেই দৃশ্যকে ক্যামেরা বন্দী করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লাইভ প্রচার করেন।

কথায় আছে – রোম পুড়ছিল, নিরু তখন বাঁশি বাজাচ্ছিল। আসলে আমরা লোক দেখানো কর্ম করতে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছি। মিথ্যা সমবেদনা নিয়ে আগুন! আগুন!  বলে চিৎকার করছে আর কিছু মানুষ দাঁড়িয়ে লাইভ সিনেমা দেখছে। যদি তা-ই করতে হয় তাহলে বাসায় গিয়ে টেলিভিশনের পর্দায় দেখতেন। ওখানে দাঁড়িয়ে থেকে ফায়ার সার্ভিস আর অ্যাম্বুলেন্সের কাজে ব্যাঘাত ঘটানোর তো কোনো মানেই হয় না।

গত মাসের ২৬ তারিখ রাজশাহীর কাটাখালী উপজেলায় এক মর্মান্তিক সড়ক দূর্ঘটনা ঘটেছে। বড় বাসের সাথে অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হওয়ার সাথে সাথে মাইক্রোবাসের গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে আগুন ধরে যায়। যার ভয়াবহতা পুরো দেশ দেখেছে। ক্ষণিকের সেই দূর্ঘটনায় স্পটেই ১৮ টি প্রাণ ঝরে গেছে। দূর্ঘটনা ঘটবে এটা অস্বাভাবিক নয়। আগুন লাগার পর ফায়ার সার্ভিস আসতে অতিরিক্ত দেরি হওয়া অস্বাভাবিক। আগুন লাগার পর মানুষকে জীবিত রাখতে না পারাটা অস্বাভাবিক। কিন্তু কেন এই অস্বাভাবিক ঘটনাগুলো ঘটবে? একেকটি ঘটনার পর তদন্ত কমিটি গঠন করলেই কি সব দায় শেষ!

সেদিনের দূর্ঘটনার অনেক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তাতে দেখা যায় মাইক্রোবাসে থাকা মানুষগুলো আগুনে পুড়ছে আর কিছু অতিবিবেকবান মানুষ আগুন নেভানোর কথা ভুলে গিয়ে লাইভ ভিডিও চালু করে সেই ভয়াবহতার নিখুঁত দৃশ্য ধারণে ব্যস্ত। এটা মোটেই কাম্য নয়।

এছাড়াও বহুতল ভবনে আগুন লাগা এখন রোজকার ব্যাপার। মানুষ জানালা দিয়ে হাত নেড়ে বলছে বাঁচাও বাঁচাও। ওরা চিৎকার করে বলছে ওরা বাঁচতে চায়। কিন্তু আমরা ওদের বাঁচাতে পারছি না। এই বাঁচাতে না পারার খুব সহজ কিছু কারণ হলো, অপরিকল্পিত নগরায়ন, আগুন নিয়ন্ত্রণে অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতির অভাব এবং আগুনের মধ্যেও মানুষকে বাঁচানোর কৌশল রপ্ত করতে না পারা। আগুনে সবচেয়ে বেশি পুড়ছে ঢাকা। যার কারণ হলো ঢাকায় তৈরি হচ্ছে অপরিকল্পিত সব দালান–কোঠা। দালানের জঙ্গল গড়ে উঠেছে ঢাকায়। ফায়ার সার্ভিস আসার মতো সুযোগও অনেকে রাখে না। যেসব দালান গড়ে উঠছে সেগুলোতেও কোনো ধরনের অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা নেই। যার ফলে এ সব দালানে আগুন লাগলে মানুষকে বাঁচানো অসম্ভব হয়ে ওঠে। তাই দালানের মালিকদের সচেতন হতে হবে অনেক বেশি। অনেক সময় দেখা যায় মানুষ বাঁচার জন্য দালান থেকে লাফ দিয়েছে। তাতেও এদের শেষ রক্ষা হয় না।

এসবকিছুর পরেও অনেক সময় সাধারণ মানুষের কিছু ভূমিকা থাকে। কিন্তু আমাদের সেই মানসিকতা নেই। চোখের সামনে মানুষ মরে যেতে দেখে আমরা সমবেদনা জানিয়ে পাশ কাটিয়ে চলে যাই কিন্তু তাকে সাহায্য করার কথা ভাবি না। এমন আত্মকেন্দ্রিক মানসিকতা থেকে আমাদের বেড়িয়ে আসতে হবে। বিপদে সাহায্যের মানসিকতা তৈরি করতে হবে। সর্বোপরি আত্মসচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে।

 

লেখকঃ শাকিবুল হাসান 

শিক্ষার্থী, বরেন্দ্র কলেজ রাজশাহী

 

কুশিয়ারাভিউ২৪ডটকম/৬ মে,২০২১/শাকিবুল






এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ





















© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD
themesbazar_brekingnews1*5k