১২ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ ১লা রবিউল আউয়াল, ১৪৪৪ হিজরি



আজ লাইলাতুল কদর: জাতীয় জীবনের কল্যাণ হোক

কুশিয়ারা ভিউ ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২২

পূর্ণ একটি মাস সিয়াম সাধনার শেষ প্রান্তে উপনীত হয়েছে গোটা জাতি তথা বিশ্বের সব মুসলিম উম্মাহ। বলা হয়ে থাকে যে, পবিত্র মাহে রমাদান ইবাদতের বসন্ত মাস। এই মাসটি শরিয়তের সব বিধিবিধানকে অতিরিক্ত সম্মানিত করে দিয়েছে। পুণ্য লাভের দিক থেকে বিস্তৃত পাপের গণ্ডিকে দূর করে অধিক সওয়াবের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ মুসলিম মানসে উপনীত করতে সক্ষম হয়েছে। আর এ মাসের শেষ দশ দিনের যে কোনো বেজোড় রাত সেই পুণ্য রজনী যেদিন পরম করুণাময়ের কাছ থেকে জগৎবাসী পেয়েছিল সমগ্র জীবনবিধান ‘আল-কোরআন’। বিভিন্ন আলামত ও মতামতের ভিত্তিতে ২৬ রমজান দিবাগত রজনীতে লাইলাতুল কদর হওয়ার সম্ভাবনা বেশি হওয়ায় প্রতি বছর মাহে রমজানের ২৭ তারিখে ‘লাইলাতুল কদর’ পালিত হয়।

আজ সেই লাইলাতুল কদর। এ রজনীতে মহান আল্লাহ সন্ধ্যা থেকে ঊষার আবির্ভাব পর্যন্ত রহমতের বারিধারা বর্ষণ করেন। পাপী-তাপী বান্দাদের তওবা কবুল করে জাহান্নাম থেকে মুক্তির ফয়সালা দেন। বিশ্বনবী হজরত মোহাম্মদ (সা.)-এর উম্মতের জন্য বিশেষ নেয়ামত হচ্ছে এ রজনী। আল্লাহতায়লা উম্মতে মোহাম্মদির এক রাত্রির ইবাদতকে পূর্ববর্তী উম্মতগণের হাজার মাসের ইবাদতের চেয়ে শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন। পৃথিবীর রজনীগুলোর মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ হলো ‘লাইলাতুল কদর’। মুসলিম উম্মাহর কাছে এ রজনী খুবই গুরুত্ব ও তাৎপর্যপূর্ণ।

ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা মাহে রমজানের ২৭ তারিখে সারা রাত জেগে ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে লাইলাতুল কদরের বরকত ও ফজিলত লাভের চেষ্টা করেন। হাদিস শরিফে বলা হয়েছে, পবিত্র এই রাতে পরম করুণাময় সৃষ্টিকর্তা বান্দার মুনাজাত কবুল করেন এবং ক্ষমা করে দেন। নিঃসন্দেহে তাঁর ক্ষমালাভই হচ্ছে বান্দার জন্যে শ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি। এ প্রসঙ্গে ঐশী বাণী স্মরণযোগ্য। সুরা বাকারায় ইরশাদ হয়েছে, আল্লাহ তাঁর বান্দার ওপর এমন কোনো বোঝা চাপান না, যা বান্দার সাধ্যাতীত। মানুষ সেটাই পায়, যা সে অর্জন করে। এর তাৎপর্য হচ্ছে মানুষ তার নিজের কর্মফল ভোগ করে অর্থাৎ যেমন কর্ম তেমন ফল পায়। তবে আল্লাহ ক্ষমা করে দিলে মানুষের ইহজাগতিক এবং পরকালীন কল্যাণের পথে আর কোনো বাধা থাকার প্রশ্নই ওঠে না।

পরম করুণাময় মহাগ্রন্থ আল-কোরআনের সূরা আল কদরে ঘোষণা করেন, ‘নিশ্চয়ই আমি কোরআন অবতীর্ণ করেছি কদরের রজনীতে। আর কদরের রজনী সম্পর্কে তুমি কী জানো? কদরের রজনী হাজার মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। এ রজনীতে ফেরেশতারা ও রুহ অবতীর্ণ হয়, প্রত্যেক কাজে তাদের প্রতিপালকের অনুমতিক্রমে। শান্তিই শান্তি, বিরাজ করে ঊষার আবির্ভাব পর্যন্ত। সুতরাং এই রাতটি মুসলিম উম্মাহর বিবেকের দরজাকে এমনভাবে জাগ্রত করে দেয়, যার ফলে পাপী তার পাপের অনুশোচনা করার মাধ্যমে নাজাত ও ক্ষমার সনদ পেয়ে যায়। পাহাড় সমতুল্য কিংবা তারা থেকেও অধিক গুনাহ করার পরেও ক্ষমার ভান্ডার থেকে বিচ্ছুরিত হয় না। পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তের তাঁর বান্দারা এই রাত্রিটি তথা লাইলাতুল কদরে ক্ষমা, তাওবা ও ইস্তেগফারের মাধ্যমে কাটিয়ে দিয়ে আমলনামাকে পরিশুদ্ধ করে নেয়।

আল্লাহতায়ালা আমাদের ক্ষমা করুন। মাহে রমজানের ফজিলত, বরকত দান করুন। লাইলাতুল কদরের যাবতীয় কল্যাণ দান করুন। পুণ্যস্নাত এই লাইতুল কদরে কামনা করি জাতীয় জীবনের সুখ ও সমৃদ্ধি। আমাদের প্রত্যেকের জীবন হয়ে উঠুক সুন্দর ও প্রাণবন্ত।





এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ









All Bangla Newspapers






















© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত২০২২ কপিরাইট © কুশিয়ারা ভিউ টোয়েন্টিফোর ডটকম
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD
themesbazar_brekingnews1*5k