১১ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ ২৭শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ২১শে রবিউল আউয়াল, ১৪৪৩ হিজরি



আত্মহত্যার মহামারী রুখতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দিন

ইসরাত জাহান 
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ২০ জুন, ২০২১
প্রতীকী ছবি

বাংলাদেশে সর্বপ্রথম করোনাভাইরাস শনাক্ত হয় ২০২০ সালের ৮ই মার্চ। এই ভাইরাসের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা পেতে সরকার ২০২০সালের ১৭ই মার্চ থেকে সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করে।

দিনের পর দিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম চালু করার নতুন নতুন তারিখ ঘোষণা করলেও তা বারবার পরিবর্তন হতে থাকে। অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়ার জন্য পরামর্শ দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। কিন্তু খুব কম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এভাবে কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়ার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম প্রায় বন্ধ। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় স্থগিত ঘোষণা করা হয় সব ধরনের পরীক্ষা। তবে গত বছরের এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের এবং প্রথম থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের অটো পাশ দেওয়া হয়।

কিন্তু বিপাকে পড়েছে এসএসসি, এই বছরের এইচএসসি পরীক্ষার্থী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে অনলাইন পরীক্ষা নেওয়া হলেও জাতীয় এবং পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার আশায় দিন গুনতে থাকে। কিন্তু তাদের আশার প্রহর শেষ না হয়ে বরং বাড়তে থাকে। চিন্তার বোঝা দিনের পর দিন ভারী হয়ে উঠতে থাকে। একজন শিক্ষার্থী দেশ ও জাতির ভবিষ্যৎ। শুধুমাত্র ভবিষ্যতের কর্ণধার নয়, একজন শিক্ষার্থীকে জাতির মেরুদন্ড বলা হয়। একটা মানুষের মেরুদন্ডে যখন আঘাত আসে তখন সে মানুষটির অবস্থা অনেকটা আশঙ্কাজনক হয়ে পড়ে। ঠিক তেমনি আজ আঘাত এসেছে শিক্ষার্থীদের উপর যা জাতির মেরুদন্ড।

এভাবে শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সেশনজটের আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। এইতো খুব বেশি দিন আগের কথা নয় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সেশনজটে ছিল ভরপুর। বছরের পর বছর লেগে যেত একজন শিক্ষার্থীর অনার্স এবং মাস্টার্সের শিক্ষা কার্যক্রম শেষ করতে। অনেক চেষ্টার ফলে সেই সমস্যা দূরীভূত হয়। বিগত বছরগুলোতে সেশনজট মুক্ত ছিল জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। এই মহামারী উচ্চশিক্ষায় অধ্যয়নরত প্রত্যেকটা শিক্ষার্থীর জীবনে ডেকে এনেছে দুর্বিষহ অভিশাপ। সেশনজটের সুর বাজতে চলেছে পাবলিক এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে। গত কয়েকদিন যাবত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার জন্য আন্দোলন করে শিক্ষার্থীরা। এরপর শিক্ষার্থীদের কথা ভেবে কিছু কিছু পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় সশরীরে পরীক্ষা নেওয়া শুরু করেছে এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া বাকি বিশ্ববিদ্যালয় গুলোও পরীক্ষার সময় নির্ধারণ করে দিয়েছে। তবে এখন এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন, তাদের পরীক্ষাগুলো শেষ করতে পারবে তো বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ? তবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ফেব্রুয়ারীর শুরু থেকে স্হগিত থাকা বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষার্থীদের পরিক্ষা নেওয়ার শুরু করে। এতে করে কিছুটা আশার আলো দেখেছিল জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্হ শিক্ষার্থীরা। কিন্তু সেই আলো নিভে যায় গত ২২ফেব্রুয়ারি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সব ধরনের পরীক্ষা স্হগিত ঘোষণা করার পর। গত ১৫জুন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ঘোষণা করেছে, প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের অটোপাশ দেওয়া হবে তবে শর্তসাপেক্ষে করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তাদের পরীক্ষা নেওয়া হবে এবং তার পাশাপাশি দ্বিতীয় ও তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের অনলাইন পরীক্ষা অথবা অনলাইন মৌখিক পরীক্ষার কথা ভাবছে।

হাজারো স্বপ্ন এবং আশা নিয়ে প্রত্যেকটা শিক্ষার্থী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অভিমুখে যাত্রা করে। কিন্তু তাদের সে প্রত্যেকটা আশা ভেঙে ধীরে ধীরে হতাশায় পরিণত হচ্ছে। এই করোনা মহামারীতে হতাশায় আত্মহত্যা করেছে ১৫১জন শিক্ষার্থী। এখন শিক্ষার্থীদের মনে একটাই প্রশ্ন এভাবে আত্মহত্যার দায় নিবে কে? এভাবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় চোখে মুখে অন্ধকার দেখছে শিক্ষার্থীরা৷ অন্ধকারের দিকে ধাবিত হচ্ছে তাদের ভবিষ্যৎ। শিক্ষার্থীদের ভাষ্যমতে, তবে কি দেশকে মেধাশূন্য করার চক্রান্ত চলছে মহামারীর আড়ালে?

বিশ্লেষকদের মতে, এভাবে চলতে থাকলে ধীরে ধীরে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীশূন্য হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিবে। তাই। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উচিত জরুরি ভিত্তিতে শিক্ষা কার্যক্রম চালু করার জন্য পদক্ষেপ নেওয়া। অন্যথায় জাতির মেরুদণ্ড বেঁকে গেলে দেশ ও জাতির অবস্থা হবে সংকটাপন্ন।

কুশিয়ারাভিউ২৪ডটকম/২০ জুন,২০২১/ ইসরাত






এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ





















© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD
themesbazar_brekingnews1*5k