২১শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ ৬ই ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ২রা জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৩ হিজরি



ইউপি নির্বাচন: বিদ্রোহীদের কাছে ধরাশায়ী আ.লীগ প্রার্থীরা

কুশিয়ারা ভিউ ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ১৪ নভেম্বর, ২০২১

চলমান ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নিজ দলের বিদ্রোহী প্রার্থীদের কাছে ধরাশায়ী হচ্ছেন নৌকার প্রার্থীরা। বিএনপিবিহীন নির্বাচনে ঘরের মাঠে খেলতে গিয়ে অধিকাংশ ইউপিতে জয় ছিনিয়ে নিচ্ছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। দলের বিপক্ষে গিয়ে বিদ্রোহীদের হয়ে মাঠে কাজ করছেন দলীয় নেতাকর্মীরা।

দ্বিতীয় ধাপে ৮৩৪টি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) মধ্যে ৩৩০টিতেই জয় পেয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। শতকরা হিসাবে তা প্রায় ৪০ শতাংশ। বিজয়ী স্বতন্ত্রদের মধ্যে বেশির ভাগই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী।

এ ধাপে আ.লীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থীরা ৪৮৬টি ইউপিতে চেয়ারম্যান পদে জয়ী হয়েছেন। শতকরা হিসাবে আ.লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থীরা ৫৮ শতাংশ ইউপিতে জয়ী হয়েছেন দ্বিতীয় ধাপে।

ইসি সূত্র মতে, দ্বিতীয় ধাপে এক কোটি ৪৭ লাখ ৯০ হাজার ৫৫৯ ভোটারের মধ্যে এক কোটি আট লাখ ৬৯ হাজার ৪৪৩ জন ভোট দিয়েছেন। সে হিসাবে ভোট পড়েছে ৭৩ দশমিক ৪৯ শতাংশ। অর্থাৎ ভোট পড়েছে ৭৩ দশমিক ৪৯ শতাংশ।

ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে প্রথম ধাপের তুলনায় দ্বিতীয় ধাপের স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বিজয়ী হার বেশি। প্রথম ধাপে ২১ জুনের ভোটে ২০৪টি ইউপির মধ্যে আ.লীগের ১৪৮ জন চেয়ারম্যান পদে জয়ী হয়েছিলেন। ২০ সেপ্টেম্বরের নির্বাচনে ১৬০টি ইউপির মধ্যে নৌকার প্রার্থীদের মধ্যে নির্বাচিত হন ১১৯ জন।

স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে ২১ জুনের ভোটে ৪৯ জন এবং ২০ সেপ্টেম্বর জয় পান ৩৬ জন। সব মিলিয়ে প্রথম ধাপে আ.লীগের ২৬৭ জন ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ৮৫ জন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। হিসাবে প্রথম ধাপে ৭৩ ইউনিয়ন পরিষদে আ.লীগ মনোনীত প্রার্থীরা জয় পেয়েছিলেন। আর স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয়ী হন। ২৩ শতাংশ ইউনিয়ন পরিষদে।

ফরিদপুরের নগরকান্দা ও সালথা উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মোট ১৭টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ১০টিতে আ.লীগ মনোনীত নৌকা মার্কার প্রার্থী ও সাতটি ইউনিয়নে আ.লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। এর মধ্যে সালথা উপজেলার আটটি ইউনিয়নে পাঁচটিতে নৌকা ও তিনটিতে আ.লীগের বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। শরীয়তপুর সদর উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ১১টি ইউনিয়নের মধ্যে ১০টি ইউনিয়নের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে বিনোদপুর এবং চন্দ্রপুর ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থীরা বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।

জাল স্বাক্ষর দিয়ে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের দায়ে চিতলিয়া ইউনিয়নের নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। ভোটগ্রহণকৃত সাতটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থীর মধ্যে দুটিতে আ.লীগের মনোনীত প্রার্থী এবং পাঁচটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। খুলনা জেলার ২৫টি ইউনিয়নের মধ্যে ১০টিতে আ.লীগ মনোনীত প্রার্থী, ১০টিতে আ.লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী এবং পাঁচটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। এই পাঁচজন স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত।

মাগুরা সদর উপজেলার ১০ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে সাতটিতে আ.লীগের প্রার্থী, দুটিতে আ.লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ও একটিতে ইসলামি শাসনতন্ত্র আন্দোলনের প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। ১৩টি ইউনিয়নের মধ্যে অপর তিনটি ইউনিয়নে আগেই নৌকা প্রতীকের প্রার্থীরা বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের মধ্যে পাঁচটিতে আ.লীগের প্রার্থী, আটটিতে আ.লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ও অপর একটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। কুষ্টিয়ার মিরপুর ও ভেড়ামারা উপজেলার ১৭টি ইউনিয়নের মধ্যে চেয়ারম্যান পদে আ.লীগের ৯, বিদ্রোহী সাত ও জাসদের একজন বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।

মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের চারটিতেই বিজয়ী হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা, বাকি একজন নৌকার প্রার্থী। চুয়াডাঙ্গার পাঁচটি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তিনটিতে আ.লীগ এবং দুটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।

নাটোরে দুই উপজেলার ১২টি ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আ.লীগের সাত ও স্বতন্ত্র পাঁচজন নির্বাচিত হয়েছেন। পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায় সাতটি ইউনিয়ন পরিষদের দুটিতে আ.লীগ ও পাঁচটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা নির্বাচিত হয়েছেন।

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নে ছয়টিতে আ.লীগ এবং আটটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন। গাইবান্ধা সদর উপজেলার ১৩ ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে তিনটিতে আ.লীগ ও ১০টিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। নওগাঁর দুই উপজেলার ২০টি ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকে ১১ জন, আ.লীগের বিদ্রোহী ছয়জন ও স্বতন্ত্র তিনজন নির্বাচিত হয়েছেন। নড়াইল সদর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নে নির্বাচনে আ.লীগ মনোনীত প্রার্থীরা আটটি ইউনিয়ন পরিষদে এবং স্বতন্ত্র পাঁচ প্রার্থী চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী হয়েছেন। ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলায় ১২টি ইউনিয়নে আ.লীগের নৌকা প্রতীকে ছয়জন ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ছয়জন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।

আগামী ২৮ নভেম্বর তৃতীয় ধাপে সারা দেশে এক হাজার চারটি ইউপি ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ওই নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে আ.লীগের রাজনীতিতে জড়িত এক হাজার ৬৯ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী স্বতন্ত্র প্রার্থী হচ্ছেন।






এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ





















© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD
themesbazar_brekingnews1*5k