১লা ভাদ্র, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ ১৬ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ ১৮ই মহর্‌রম, ১৪৪৪ হিজরি



উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা

কুশিয়ারা ভিউ ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ৯ জানুয়ারি, ২০২২
ফাইল ছবি

সড়কে উদ্বেগজনক হারে বেড়ে চলেছে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে প্রতিদিন নিজেদের বীরত্ব দেখাতে গিয়ে নির্মমভাবে এ ধরনের মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাচ্ছে তরুণরা। যেখানে সড়কে শতকরা প্রায় ৫০ ভাগ মর্মান্তিক দুর্ঘটনাই মোটরসাইকেলে ঘটে বলে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন নামের একটি সংগঠনের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

দেশের ৭টি জাতীয় দৈনিক, ৫টি অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং ইলেক্ট্রনিক সংবাদমাধ্যমের তথ্যের ভিত্তিতে এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।

গতকাল শনিবার (৮ জানুয়ারি) সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি ডিআরইউতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরে সংগঠনটি।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য তুলে ধরেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এ আই মাহবুব উদ্দিন আহমেদ।

বক্তব্য রাখেন বুয়েটের এক্সিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. হামিদুজ্জামান ও রোড সেফটির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহান।

সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে কাজ করা গবেষকদের এই প্রতিবেদনে বলা হয়, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার পিছনে বেশ কিছু কারণ হলো-অদক্ষ চালক, বেপরোয়া গতি, ওভারটেকিংয়ের চেষ্টা, বারবার লেন পরিবর্তন করা, ট্রাফিক আইন না মানা, চলন্ত অবস্থায় মুঠোফোনে কথা বলা, হেলমেট ব্যবহার না করা কিংবা নিম্নমানের হেলমেট ব্যবহার করা প্রভৃতি।

এতে আরো বলা হয়, ২০২১ সালে সারা দেশে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে ৫৩৭১টি। এর মধ্যে নিহত হয়েছেন ৬ হাজার ২৮৪ জন এবং আহত ৭ হাজার ৪৬৮ জন। নিহতদের মধ্যে ৯২৭ জন নারী ও ৭৩৪ জন শিশু। আর ২০৭৮টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা ২২১৪, যা মোট নিহতের ৩৫ দশমিক ২৩ শতাংশ। আর মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার হার ৩৮ দশমিক ৬৮ শতাংশ। নিহতদের মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশেরই বয়স ২১-এর নিচে; অর্থাৎ কিশোর-তরুণ।

দুর্ঘটনায় ১৫২৩ জন পথচারী নিহত হয়েছে, যা মোট নিহতের ২৪ দশমিক ২৩ শতাংশ। যানবাহনের চালক ও সহকারী নিহত হয়েছেন ৭৯৮ জন, অর্থাৎ ১২ দশমিক ৬৯ শতাংশ। এ সময়ে ৭৬টি নৌ-দুর্ঘটনায় ১৫৯ জন নিহত, ১৯২ আহত এবং ৪৭ জন নিখোঁজ রয়েছে। ঝালকাঠির সুগন্ধ্যা নদীতে ১টি লঞ্চে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ৫১ জন নিহত, ২৩ জন চিকিৎসাধীন এবং অজ্ঞাত সংখ্যক নিখোঁজ রয়েছে। এছাড়ার ঈদে ঘরমুখো যাত্রায় শিমুলিয়া-বাংলাবাজার ফেরি ঘাটে তাড়াহুড়া করে নামার সময় ৬ জন নিহত এবং ৩১ জন আহত হয়েছে।

এছাড়া, ১২৩টি রেলপথ দুর্ঘটনায় ১৪৭ জন নিহত এবং ৩৯ জন আহত হয়েছে। সেফটি ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে সড়কে দুর্ঘটনা বেড়ে যাওয়ার পেছনে মোটরসাইকেলকে দায়ী করে সড়কে মোটরসাইকেল কমিয়ে আনার পরামর্শ দেওয়া হয়। পাশাপশি, দুর্ঘটনা রোধে ব্যক্তি সচেতনতাই মুখ্য বলা হয়। মনে রাখতে হবে, মোটরসাইকেল বেপরোয়া গতিতে চালানোর ফলে চালক কেবল নিজেকেই ঝুঁকিতে ফেলছেন না একইসঙ্গে পথযাত্রীদেরও ভোগান্তি

পোহাতে হচ্ছে। জীবনের নিরাপত্তা সবার আগে।

জীবন থাকলে মোটরসাইকেল ছাড়াও অনেক জায়গায় নিজের বীরত্ব প্রদর্শনের সুযোগ রয়েছে। তাই মোটরসাইকেল চালানোর সময় সতর্ক থাকতে হবে। পাশাপাশি প্রশাসনকেও মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা রোধে কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। ট্রাফিক আইন যথাযথ প্রয়োগ করতে হবে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ











All Bangla Newspapers



অনলাইনে বাংলাদেশের সকল পত্রিকা পড়ুন…
















© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত২০২২ কপিরাইট © কুশিয়ারা ভিউ টোয়েন্টিফোর ডটকম
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD
themesbazar_brekingnews1*5k