২২শে আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ ৭ই অক্টোবর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ ১১ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৪ হিজরি



উন্নয়নে সিলেটে কাটা পড়েছে হাজারো গাছ

কুশিয়ারা ভিউ ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ২ ডিসেম্বর, ২০২১

‘হে পথিক, আমাকে হত্যার প্রস্তুতি চলছে। অক্সিজেন দিয়ে ছায়া দিয়ে তোমাদের বাঁচাই। আমাকে বাঁচাও।” সিলেট নগরের চৌহাট্টা এলাকার একটি বিশাল গাছের গায়ে লাগানো লাল কাপড়ে এটি লেখা।

পরিবেশবাদী সংগঠন ‘বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন, সিলেট’ ও ‘ভূমিসন্তান বাংলাদেশ’-এর সদস্যরা গাছের পায়ে টাঙিয়েছেন এই লাল নিশান।

সংগঠনগুলোর নেতাদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, ড্রেন নির্মাণের অজুহাতে চৌহাট্টা এলাকার শতবর্ষী এই গাছটি কাটার উদোগ নেয় সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক)। খবর পেয়ে তারা সেখানে জড়ো হয়ে গাছের গায়ে বাঁচার আকুতিসংবলিত এই ব্যানার টাঙিয়ে দেন।

পরিবেশকর্মীদের এই উদ্যোগে রক্ষা পায় শতবর্ষী এই গাছটি। তবে সিলেট নগরের অনেক গাছকেই রক্ষা করা যায়নি।

সম্প্রতি নগরে নির্বিচারে চলছে বৃক্ষনিধন। উন্নয়নের নামে কেটে ফেলা হয়েছে সড়কের পাশের বেশির ভাগ গাছ। তোয়াক্কা করা হচ্ছে না বন বিভাগের অনুমতির। নগরের শাহজালাল উপশহর এলাকার সড়ক সম্প্রসারণ ও ড্রেন নির্মাণের কাজ করছে সিটি করপোরেশন। এই সড়ক সম্প্রসারণের জন্য কিছু গাছ কাটার জন্য বন বিভাগের কাছে আবেদন করে সিসিক।

তবে বন বিভাগের জরিপের আগেই গত ২৫ নভেম্বর এক রাতে কেটে ফেলা হয় ওই এলাকার সড়কের পাশের ২০০টি গাছ। গাছ কেটে এক দিনের মধ্যে বিক্রি করে দেওয়া হয়।

জরিপকাজ শেষ হওয়ার আগে গাছ কেটে ফেলা সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. তৌফিকুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘সরকারের এক প্রতিষ্ঠান নিয়ে আরেক প্রতিষ্ঠানের মন্তব্য করা শোভন নয়। আপনারাই খোঁজখবর নিয়ে দেখেন।’

পরিবেশকর্মীদের দাবি, ২০১৬ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরে সড়ক সম্প্রসারণ ও ড্রেন নির্মাণের নামে সহস্রাধিক গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। এদের বেশির ভাগই অপ্রয়োজনে কাটা হয়েছে বলে অভিযোগ তাদের। এটিকে প্রাণবিধ্বংসী উন্নয়ন বলে আখ্যায়িত করছেন তারা।

সিটি করপোরেশনের প্রকৌশল বিভাগ বলছে, এই সময়ে জরুরি প্রয়োজনে পাঁচ শর মতো গাছ কাটা হয়েছে।

সিটি করপোরেশনের এমন কর্মকাণ্ডে ক্ষোভ প্রকাশ করে সিলেট লিডিং ইউনিভার্সিটির স্থাপত্য বিভাগের প্রধান স্থপতি রাজন দাশ বলেন, ‘কেবল সড়ক আর ফুটপাত করলেই উন্নয়ন হয় না। এই নগরে প্রতিদিন কী পরিমাণ কার্বন নিঃসরণ হচ্ছে, তার মাত্রা কীভাবে কমিয়ে আনা যায়, সেদিকেও লক্ষ রাখতে হবে। কারণ আগামীতে টাকা থাকলেই বেঁচে থাকা যাবে না। যত বেশি সবুজ থাকবে, তত বেঁচে থাকার সম্ভাবনা বাড়বে। জন্য নগরের গাছগুলো রক্ষা করতে হবে। আরও বৃক্ষ রোপণ করতে হবে।

সাম্প্রতিক সময়ে সিলেট নগরে ব্যাপক উন্নয়ন কাজ হচ্ছে। ২৪৬ কোটি টাকা ব্যয়ে সম্প্রসারণ করা হচ্ছে নগরের প্রায় প্রতিটি সড়ক, নতুন করে নির্মাণ করা হচ্ছে ড্রেন। গত অর্থবছরেই সিলেটের উন্নয়নে ১২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয় সরকার। এ ছাড়া বিশ্বব্যাংকসহ বিভিন্ন দাতাগোষ্ঠীর অর্থায়নেও চলছে বড় কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ। তবে এসব উন্নয়ন কর্মকারে বলি হচ্ছে গাছ। উপশহরের আগে নগরের শাহী ঈদগাহ, চৌহাট্টা কাজী জালাল উদ্দিনসহ বিভিন্ন এলাকার সড়ক সম্প্রসারণে নির্বিচারে বৃক্ষ নিধন করা হয়।

পরিবেশবাদী সংগঠন ভূমিসন্তান বাংলাদেশের সদস্য দোহা চৌধুরী বলেন, ‘আমরা জরিপ করে দেখেছি, ২০১৬ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত নগরে হাজারের বেশি গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। উন্নয়নের কথা বলে এসব গাছ কাটা হলেও এর অনেকগুলোই কাটা হয়েছে অপ্রয়োজনে। বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে।”

নগরের গাছ কাটার ক্ষেত্রে কারো কোনো মতামত নেওয়া হয় না বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন, সিলেটের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল করিম কীম।

তিনি বলেন, ‘নগরের পরিবেশ রক্ষায় সিটি করপোরেশনের একটি কমিটি আছে। আমিও সেই কমিটির সদস্য। তবে গাছ কাটার ক্ষেত্রে আমাদের কোনো মতামতই নেওয়া হয় না, বরং আমাদের আপত্তি উপেক্ষা করেই গাছ কেটে ফেলা হয়।





এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ









All Bangla Newspapers






















© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত২০২২ কপিরাইট © কুশিয়ারা ভিউ টোয়েন্টিফোর ডটকম
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD
themesbazar_brekingnews1*5k