২রা আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ১০ই সফর, ১৪৪৩ হিজরি



একই তেলে বারবার রান্না করা খাবার কতটা ক্ষতিকর

কুশিয়ারা ভিউ ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২১

তেল এমন কোনো বস্তু যা সাধারণ তাপমাত্রায় তরল অবস্থায় থাকে। এটি পানির সাথে মেশে না; অথচ জৈব দ্রাবকের সাথে মিশে যায়। তেলে উচ্চমাত্রার কার্বন এবং হাইড্রোজেন রয়েছে। রান্নার জন্য তেল অপরিহার্য। যেকোনো কিছু ভাজা থেকে শুরু করে রান্নার সব পর্যায়ে তেলের প্রয়োজন হয়। অনেকে ভাজাভাজির পর একই তেল দিয়ে আবারো রান্না করেন অপচয় থেকে বাঁচতে। এতেতেলের স্বাস্থ্যগুণ নষ্ট হয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্যবহারকৃত তেল আবারো ব্যবহার করলে স্বাস্থ্যের জন্য তা ক্ষতিকর হতে পারে।

পুরি-সিঙ্গারা ভাজার পর থেকে যাওয়া তেলে আবার তরকারি রান্না বা অন্য কিছু ভাজা হয়। সেখান থেকেও তেল থেকে গেলে তা আবারো ব্যবহার করা হয়। আধুনিক এই সময়ে অধিকাংশ বাসা-বাড়িই এমনটা করা হয়। বাইরের বেশ কিছু দোকানেও এভাবেই তৈরি করা হয় মুখরোচক খাবার। একই তেলে বারবার খাবার রান্না করে খেলে তা শরীরের জন্য ভালো নয়। এবার তাহলে একই তেলে বারবার রান্নার বিষয়ে জেনে নেয়া যাক—

গবেষণায় দেখা গেছে, ভাজার তেল দিয়ে আবারো রান্না করলে এটা থেকে ফ্রি রেডিকেল তৈরি হয় যা রোগ ছড়ায়। ফ্রি রেডিকেলগুলো সুস্থ সেলগুলোর সঙ্গে মিশে
শরীরে নানাবিধ রোগ তৈরি করে। ফ্রি রেডিকেল কখনো কখনো এতটাই বিপজ্জনক হয়ে ওঠে যে, এটা থেকে ক্যান্সার পর্যন্ত হতে পারে। ব্যবহারকৃত তেল আবারো ব্যবহার করলে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রাও বেড়ে যেতে পারে । এমনকি ধমনীতে রক্ত চলাচলও বাধাগ্রস্ত হতে পারে। রান্নায় একই তেল বারবার ব্যবহার করলে অ্যাসিডিটি, হৃদরোগ, আলঝাইমার পারকিনসন এবং গলার নানা ধরনের সমস্যা তৈরি করে।

সাধারণত ডুবো তেলে ভাজার জন্য ব্যবহৃত তেল দ্বিতীয়বার ব্যবহার করা ঠিক নয়। তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে তেলটা আবার ব্যবহার করা যায় কয়েকটা বিষয়ের উপর বিবেচনা করে।

যেমন- কতক্ষণ এটা জ্বালানো হয়েছে, শুধু ভাজার জন্য ব্যবহার হয়েছে কি-না এবং কোন ধরনের খাবার রান্না হয়েছে তার উপর ভিত্তি করে। যদি তেলটা উন্নত ধরনের হয় তাহলে ভাজার শেষে সেটা প্রথমে ঠাণ্ডা করুন। তারপর সেটা ছেঁকে একটা এয়ারটাইট কন্টেইনারে আটকে রাখুন পরে ব্যবহারের জন্য। তাহলে তেলের মধ্যে থাকা খাবারের কণাগুলো তেলটা খুব তাড়াতাড়ি নষ্ট করতে পারবে না। যদি আবার ব্যবহারের সময় তেলের রঙটা কালচে বা খুব গাঢ় দেখায় তাহলে তা ব্যবহার না করাই ভালো।

পুনর্ব্যবহারের কিছু উপায়ও নিয়েই আজকের টিপস— প্রথমে এই তেল একদম ঠাণ্ডা করে নিন। ঠাণ্ডা তেল ভালো করে ছেঁকে নিন যেনো কোনো ভাজার অংশ রয়ে না যায়। এবার তা কোনো পরিষ্কার, শুকনো কন্টেইনারে ঢেলে ঠাণ্ডা জায়গায় রেখে দিন। দিন তিনেকের মধ্যেই এই তেল ব্যবহার করে ফেলার চেষ্টা করুন। এর বেশি জমিয়ে রাখবেন না।

একবার ভাজা তেল দ্বিতীয়বার ব্যবহার করতে হলে, তা কখনোই পুনরায় স্মোকিং টেম্পারেচারে গরম করবেন না। এই তেল ফোঁড়ন দেয়া বা সতে করার কাজে ব্যবহার করতে পারেন। মাছ-মাংস ম্যারিনেট করতে হলেও ভালো তেলের সঙ্গে মিশিয়ে এই তেল কাজে লাগান। তেলে আগে কী ভেজেছেন, তার উপর নির্ভর করে তা পরবর্তী সময়ে অন্য রেসিপিতে ব্যবহার করুন।

অর্থাৎ প্রথমে যদি তেলে মিষ্টি কোনো জিনিস বানিয়ে থাকেন, তাহলে পরেরবার নোনতা বানানোর কাজে ব্যবহার করবেন না। কারণ যতই ছেঁকে স্টোর করুন, তেলে আগের রান্নার কিছু গন্ধ থেকেই যায়। তেল ব্যবহার করার আগে দেখে নিন তা থেকে কোনো বাজে গন্ধ আসছে কি-না, বা রঙ কালচে হয়ে গেছে কি-না। হলে ব্যবহার করবেন না কোনোভাবেই। সব তেলই আলাদা। কোনো কোনো তেল অনেক তাপমাত্রাতেও নষ্ট হয় না।

যেমন— সূর্যমুখী, সয়াবিন, রাইস ব্রান্ড, সরিষার তেল এবং ক্যানোলা তেল। অলিভ অয়েলের মতো তেল ফ্রাই করা বা উচ্চমাত্রার রান্নার জন্য ব্যবহার না করাই ভালো।






এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ





















© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD
themesbazar_brekingnews1*5k