১৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ ৩০শে নভেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ২৫শে রবিউস সানি, ১৪৪৩ হিজরি



এক পরিবারে পাঁচ প্রতিবন্ধী

কুশিয়ারা ভিউ ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ২৩ আগস্ট, ২০২১

কুড়িগ্রামের রাজারহাটে এক পরিবারে পাঁচ সদস্যই মানসিক প্রতিবন্ধী। স্বামী ও চার মানসিক প্রতিবন্ধী সন্তান নিয়ে সংসার সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন মা দোলেনা বেগম।

দোলেনা বেগম উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউপির গাবুর হেলান গ্রামের জন্মসূত্রে মানসিক প্রতিবন্ধী ভূমিহীন রঞ্জনের (৬২) স্ত্রী। বিয়ের পর রঞ্জন ও দোলেনার কোলজুড়ে আসে দুই মেয়ে রনজিনা (২৫), অফিজা (১৫) এবং দুই ছেলে দেলোয়ার (২০) ও দানিয়েল (১৩)। তারা চারজনই জন্মসূত্রে মানসিক ভারসাম্যহীন প্রতিবন্ধী।

জানা গেছে, মানসিক ভারসাম্যহীন রঞ্জন মিয়া একজন ভূমিহীন। নিজেদের জায়গা-জমি না থাকায় অন্যের জমিতে বসবাস করেন তারা। পরিবারের কেউ কাজকর্ম করতে পারেন না। তাই দোলেনা বেগম অন্যের বাড়িতে ঝি-এর কাজ করে কষ্টে খেয়ে না খেয়ে সংসার চালান।

এ ছাড়া ভূমিহীন এ পরিবারটির কোনো আয়ের উৎস্য নেই। বছরে চারবার প্রতিবন্ধী হিসেবে সরকারি ভাতা বাবদ যে টাকা পান তা দিয়েই কোনোরকমভাবে চলছে তার সংসার । খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা ও শিক্ষা পাঁচ মৌলিক অধিকারের কোনোটিই ঠিকমতো পাচ্ছেন না তারা।

দোলেনা বেগম বলেন, আমি ভীষণ বিপদে আছি। আমার বাবা-মা গরিব। অভাবের কারণে বাবা আমাকে পাগল লোকটার সাথে বিয়ে দিয়েছে। তিনি কোনো কাজকর্ম করতে পারেন না। একদিন ভিক্ষে করলে সাতদিন বাড়িতে বসে থাকে। স্বামী ও চার মানসিক প্রতিবন্ধী ছেলেমেয়ে নিয়ে অনেক কষ্টে দিন যাপন করছি। প্রতিবন্ধীর ভাতা দিয়ে যে টাকা পাই, তাতে সংসার চলে না।

স্থানীয় বাসিন্দা আকলিমা বেগম, রহিমা বেগম ও নুর মোহাম্মদসহ অনেকে জানান, প্রতিবন্ধী এই পরিবারটি খুবেই অসহায়। তারা পরিবারটিকে সরকারিভাবে বিশেষ অনুদান দেয়ার দাবি জানান।

বিদ্যানন্দ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান তাইজুল ইসলাম বলেন, আমি মানসিক প্রতিবন্ধী পরিবারটির চার সদস্যকে ভাতার ব্যবস্থা করে দিয়েছি। তাদের অন্য সাহায্য সহযোগিতাও করা হয়।

ডাংরারহাট বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও অটিস্টক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাশেদুল ইসলাম মুকুল বলেন, ২০১৬ সালের জানুয়ারি মাসে দেলোয়ার প্রাক-প্রাথমিকে, দানিয়েল শিশু শ্রেণিতে এবং অজিফা দ্বিতীয় শ্রেণিতে। ভর্তির পর কিছুদিন বিদ্যালয়ে যাতায়াত করেছিল। পরে আর আসেনি।

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মশিউর রহমান বলেন, রাজারহাট উপজেলায় একই পরিবারে পাঁচজন মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তি থাকার বিষয়টি আমার জানা ছিল না। আমি খোজখবর নিয়ে ওই পরিবারের কেউ বাকি থাকলে তাদেরও সরকারি ভাতার ব্যবস্থা করে দেবো।






এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ





















© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD
themesbazar_brekingnews1*5k