৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ ১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ১২ই সফর, ১৪৪৩ হিজরি



কমছে সংক্রমণের হার: টিকার সঙ্গে সচেতনতাও জরুরি

সম্পাদকীয়
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২১

গত কয়েকদিনে করোনা সংক্রমণের হার ১০-এর ঘরে। মহামারির প্রকোপ কিছুটা কমছে মনে হলেও এখনো তা স্বস্তিদায়ক নয়। গত শুক্রবারও দেশে করোনা শনাক্তের হার ১০ শতাংশে। প্রায় তিন মাস পর এই শনাক্তের হার ১০ শতাংশের ঘরে নেমেছে।

আক্রান্তের হার কিছুটা কমে আসার জন্য বিশেষজ্ঞরা মূলত কৃতিত্ব দিচ্ছেন ব্যাপক হারে টিকা প্রদানকে। মাঝখানে টিকার কিছুটা সংকট তৈরি হলেও এখন তা কেটে গেছে।

সম্প্রতি সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানিয়েছেন, সরকার ৩০ আগস্ট পর্যন্ত মোট ২৪ কোটি ৫৪ লাখ ৫২ হাজার ৭০০ ডোজ টিকা সংগ্রহের ব্যবস্থা করেছে।

তিনি জানান, আগামী মাস থেকে প্রতি মাসে দুই কোটি ডোজ করে সিনোফার্মের টিকা আসবে।

বর্তমানে সারা বিশ্বে টিকার যে সংকট চলছে, তাতে এই পরিমাণ টিকা সংগ্রহ করতে পারা অবশ্যই একটি বড় সাফল্য। দেশে ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে মোট জনসংখ্যা রয়েছে ১১ কোটি ৭৮ লাখ। এ জন্য প্রয়োজন হবে জনপ্রতি দুই ডোজ হিসেবে প্রায় ২৪ কোটি ডোজ টিকা। এই পরিকল্পনায় ৬ শতাংশ মানুষকে দুই ডোজ এবং ১৫ শতাংশ মানুষকে এক ডোজ টিকা দেয়া হয়েছে। নিবন্ধন করা আছে প্রায় ৩২ শতাংশ মানুষের। এ পর্যন্ত দেশে টিকা এসেছে প্রায় চার কোটি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে আরও ১৬ থেকে ১৭ কোটি ডোজ টিকা দেশে আসতে পারে। তার ভিত্তিতে প্রতি মাসে দুই কোটি মানুষকে টিকা দেয়ার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে বলেও তিনি জানান।

খুব কম দেশই টিকা প্রদানের ক্ষেত্রে এমন সাফল্য দেখাতে পেরেছে। টিকা প্রদানের এই গতি অব্যাহত রাখতে হবে এবং উত্তরোত্তর আরও বাড়াতে হবে। প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষও যেন সহজেই টিকা নিতে পারে তার ব্যবস্থা করতে হবে। যত দ্রুত সব মানুষকে টিকার আওতায় আনা যাবে, ততই মঙ্গল।

দেশে টিকা উৎপাদনের বিষয়টিও দ্রুততর করা প্রয়োজন। আমাদের মনে রাখতে হবে, করোনা মোকাবিলায় টিকাই সম্পূর্ণ সমাধান নয়। প্রতিনিয়ত করোনার মিউটেশন হচ্ছে। নতুন নতুন ভেরিয়েন্ট আসছে। সব ভেরিয়েন্টের বিরুদ্ধে সব টিকা সমানভাবে কার্যকর নাও হতে পারে।

অন্যদিকে ইউরোপ-আমেরিকার বেশির ভাগ দেশে অধিকসংখ্যক মানুষকে টিকা দেয়া হলেও সেসব দেশে আবারো সংক্রমণ দ্রুততর হতে শুরু করেছে। অর্থাৎ টিকা দেয়ার পরও মানুষ করোনা আক্রান্ত হতে পারে এবং হচ্ছে। তাই টিকা দেয়ার পরও যথাযথভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা জরুরি। সর্বত্র স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়টি নজরদারিতে রাখতে হবে।

নো মাস্ক নো সার্ভিসের মতো বিধি-নিষেধ সঠিকভাবে মেনে চলতে হবে। এই পর্যায়ে ব্যক্তিগত সচেতনতা খুবই জরুরি। সবাইকে নিজের উদ্যোগে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। সম্মিলিতভাবে করোনার নতুন ঢেউ রুখতে হবে।






এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ





















© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD
themesbazar_brekingnews1*5k