১২ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ ২৭শে নভেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ ৩রা জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৪ হিজরি



করতোয়ায় নৌকাডুবি : মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬৪

কুশিয়ারা ভিউ ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২২

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার করতোয়া নদীতে নৌকাডুবির ঘটনায় তৃতীয় দিনে আরও ১৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে দিনাজপুর ও পঞ্চগড়ের বিভিন্ন নদী থেকে এসব মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৪ জনে।

জেলা প্রশাসনের জরুরি তথ্য কেন্দ্রের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ৬১ জনের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ডুবে যাওয়া নৌকাটিতে কতজন যাত্রী ছিল, তার সঠিক তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ১০ জন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক দীপঙ্কর রায় বলেন, এখন পর্যন্ত ৬১ জনের মরদেহ উদ্ধার করে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আজ (মঙ্গলবার) সকাল থেকে ১৩ জনের লাশ পাওয়া গেছে। উদ্ধার করা তিন লাশের নাম-পরিচয় পাওয়া যায়নি। শনাক্তের কাজ চলছে। নিখোঁজ বাকিদের উদ্ধারে কাজ চলছে।

এর আগে গত রোববার (২৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলার মাড়েয়া বামনহাট ইউনিয়নের আউলিয়া ঘাট এলাকায় নৌকাডুবির ঘটনা ঘটে। ওই দিন ২৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে সোমবার ভোর থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত ২৫টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল, এর মধ্যে পার্শ্ববর্তী জেলা দিনাজপুরের দুই উপজেলা থেকে উদ্ধার হয় ৮ জনের মরদেহ।

নৌকাডুবির ঘটনায় নিখোঁজ স্বজনদের খোঁজে নিকটাত্মীয়দের আহাজারি থামছে না। দুর্ঘটনার পর থেকেই নদী তীরে অবস্থান করছেন অনেকে। ভোর থেকে অনেকে এসে জড়ো হচ্ছেন নদীর ঘাটে। অপেক্ষার প্রহর গুনছেন মৃত স্বজনের মরদেহ বুঝে পেতে। কেউবা আশায় বুক বেঁধে আছেন- জীবিতই ফিরে পাবেন প্রিয় মানুষটিকে। কোনো মরদেহ উদ্ধারের খবর জানতে পারলেই নদীর পাড় থেকে স্বজনরা ছুটে যাচ্ছেন স্থানীয় মাড়েয়া বামনহাট ইউনিয়ন পরিষদে। সেখানেই রাখা হচ্ছে উদ্ধারকৃত মরদেহ।

সকাল থেকে আউলিয়া ঘাট এলাকায় অবস্থান করে দেখা যায়, স্থানীয় লোকজন এবং ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলের তিনটি ইউনিট উদ্ধার কার্যক্রম চালাচ্ছে। সেখানে ভিড় করেছেন নিখোঁজদের স্বজনরা। কেউ কেউ নৌকা নিয়ে নদীতে খুঁজে বেড়াচ্ছেন প্রিয়জনকে। কারও হাতে নিখোঁজ স্বজনের ছবি, তা নিয়ে নদী তীরের বাসিন্দাদের দেখাচ্ছেন আর বিলাপ করছেন। এছাড়া হাজার হাজার উৎসুক মানুষের ঢল নেমেছে নদীর পাড়ে।

ষাটোর্ধ্ব কৃষ্ণ চন্দ্র রায় ভাই ও ভাতিজার খোঁজে এসেছেন আউলিয়া ঘাটে। তিনি বলেন, নদীর অন্য পাড়ে বদেশ্বরী মন্দিরে মহালয়া পূজায় যোগ দিতে তার ভাই নরেশ ও ভাতিজা সিন্টু বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফেরেনি। নৌকাডুবির পর থেকেই এখানে আছি।

নাতির খোঁজে উপজেলার পাঁচপীর এলাকা থেকে এসেছেন বৃদ্ধ সুমল চন্দ্র। তিনি বলেন, নাতির মরদেহটা পেলে অন্তত নিজেরা সৎকারের কাজটা করতে পারতাম।

মাড়েয়া বটতলি এলাকার ধীরেন বাবুর দুই প্রতিবেশীসহ সাতজন নিকটাত্মীয় এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। গতকাল থেকে তিনি নদীর পাড়ে অপেক্ষা করছেন।

ধীরেন বাবু বলেন, বদেশ্বরী মন্দিরে মহালয়া পূজায় যোগ দিতে ভাতিজা, ভাতিজার বউ, ভাতিজার শ্বশুর, শ্যালিকা এবং আমার ভাতিজি নৌকায় ওঠে দুর্ঘটনার কবলে পড়েন। এখন পর্যন্ত কারো খোঁজ পাইনি। এখন তাদের লাশের জন্য অপেক্ষা করছি।

এর আগে নিহত ৫০ জনের একটি নামের তালিকা দেয়া হয় সাংবাদিকদের। সেই তালিকা অনুযায়ী নিহতরা হলেন- হাশেম আলী (৭০) শ্যামলী রানী (১৪), লক্ষ্মী রানী (২৫), অমল চন্দ্র (৩৫) শোভা রানী (২৭), দিপঙ্কর (৩) পিয়ন্ত (২.৫) রুপালি ওরফে খুকি রানী (৩৫), প্রমিলা রানি (৫৫) ধনবালা (৬০) সুনিতা রানী (৬০), ফাল্গুনী (৪৫), প্রমিলা দেবী, জ্যোতিশ চন্দ্র (৫৫), তারা রানী (২৫), সানেকা রানী (৬০), সফলতা রানী (৪০) বিলাশ চন্দ্র (৪৫), শ্যামলী রানী ওরফে শিমুলি (৩৫), উশোশি (৮), তনুশ্রী (৫), শ্রেয়সী, প্রিয়ন্তী (৮), সনেকা রানী (৬০), ব্রজেন্দ্র নাথ (৫৫), ঝর্ণা রানী (৪৫), দীপ বাবু (১০), সূচিত্রা (২২), কবিতা রানী (৫০), বেজ্যে বালা (৫০), দিপশিখা রানী (১০), সুব্রত (২), জগদীশ (৩৫), যতি মিম্রয় (১৫), গেন্দা রানী, কনিকা রানী, সুমিত্রা রানী, আদুরী (৫০), পুষ্পা রানী, প্রতিমা রানী (৫০), সূর্যনাথ বর্মন (১২), হরিকেশর বর্মন (৪৫), নিখিল চন্দ্র (৬০), সুশীল চন্দ্র (৬৫), যুথি রানী (০১), রাজমোহন অধিকারী (৬৫), রূপালী রানী (৩৮), প্রদীপ রায় (৩০), পারুল রানী (৩২) ও প্রতীমা রানী (৩৯)। এদের মধ্যে ২৯ জন বোদা উপজেলার, ১৮ জন দেবীগঞ্জের এবং বাকি ৩ জন আটোয়ারী, পঞ্চগড় সদর ও ঠাকুরগাঁও সদরের বাসিন্দা।

প্রসঙ্গত, মহালয়া উপলক্ষে গত রবিবার জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা সনাতন ধর্মাবলম্বীরা নৌকায় করে বোদা উপজেলার বরদেশ্বরী মন্দিরে যাচ্ছিলেন উৎসবে যোগ দিতে। দুপুরের দিকে মাড়েয়া বামনহাট ইউনিয়নের আউলিয়া ঘাট এলাকায় একটি নৌকা উল্টে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, ৩০-৪০ জন ধারণ ক্ষমতার নৌকাটিতে দেড় শতাধিক যাত্রী ছিল। কিছু মানুষ সাঁতরে নদীর তীরে ফিরতে পারলেও অনেকে নিখোঁজ থাকেন। নৌকাডুবির পরপরই স্থানীয়রা নৌকা নিয়ে উদ্ধার কাজ শুরু করেন। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা নামেন তল্লাশিতে। এ ঘটনায় রাতে পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট দ্বীপংকর রায়কে প্রধান করে একটি ৫ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করে জেলা প্রশাসন।

সৌজন্য: ভোরের কাগজ





এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ









All Bangla Newspapers






















© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত২০২২ কপিরাইট © কুশিয়ারা ভিউ টোয়েন্টিফোর ডটকম
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD
themesbazar_brekingnews1*5k