৭ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ১৫ই সফর, ১৪৪৩ হিজরি



করোনায় দরিদ্র হচ্ছে মানুষ, চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে

সম্পাদকীয়
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ৩১ জুলাই, ২০২১

করোনার প্রভাবে টানা লকডাউন চলায় মানুষ আর্থিকভাবে নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্তদের অবস্থা খুবই করুণ। তাদের পক্ষে জীবিকা নির্বাহ করা খুবই কঠিন হয়ে যাচ্ছে। সংসারের বাজেট কাটছাট করেও দিন পাড়ি দেয়া কঠিন হয়ে উঠেছে। আর যদি কারো পরিবারে অসুস্থ রোগী থাকেন তবে তো তার চিকিৎসা চালানো সম্ভব হচ্ছে না। সরকারি হাসপাতালগুলো এখন করোনা রোগীতে ঠাসা। অন্য রোগীদের স্থান সেখানে নেই।

বেসরকারি হাসপাতালগুলোর উচ্চমূল্যে চিকিৎসাসেবা কেনা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। নিম্নবিত্তদের আগে সামর্থবানরা খাওয়া নিয়ে সাহায্য করলেও ইদানীং এ উদ্যোগ খুব একটা দেখা যাচ্ছে না।

প্রতিদিনের খাওয়া দাওয়ার খরচ নির্বাহ করে ঘর ভাড়া দেয়া মড়ার ওপর খাড়ার ঘা হয়ে উঠেছে। এ জন্য অনেকেই তাদের কর্মস্থল ত্যাগ করে গ্রামের বাড়িতে পাড়ি জমাচ্ছেন বলে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হয়েছে।

সরকারিভাবে কাউকে চাকরিচ্যুতি করা নিষিদ্ধ হলেও দেদার মানুষ তার কাজ হারাচ্ছে। আর অপ্রতিষ্ঠানিক কাজে নিয়োজিত মানুষের অবস্থা তো আরও করুণ। লকডাউনের কারণে ঘর থেকে বেরুলেই আইন প্রয়োগকারী সংস্থার লোকজনের হাতে হেনস্থাসহ কোনো কাজ না পাওয়ায় পরিবার পরিজন নিয়ে তারা অর্ধাহারে অনাহারে আছেন।

এদিকে খোদ সরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান বিআইডিএস বলছে, করোনার আঘাতে অন্তত এক কোটি ৬০ লাখ মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে যাচ্ছে। আর বেসরকারি গবেষণা সংস্থা ব্র্যাক ও পিপিআরসি বলছে, আগে দেশের ২০ শতাংশ মানুষ দরিদ্র ছিলো। এখন সেটা আরও ৫ শতাংশ বেড়ে ২৫ শতাংশ হয়েছে। সামনের দিনে এ সংখ্যা আরও বাড়বে বলে মনে করে সংস্থা দুটি। ফলে করোনা পরবর্তী সময়ে কাজের সুযোগ বাড়াতে হবে।

বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষকে কাজ দিতে না পারলে দারিদ্র্যসীমার ভয়াবহতার দিকে এগিয়ে যাবে দেশ। এতে আমাদের চলমান সব উন্নয়ন কর্মকাণ্ডসহ সব ধরনের উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত হবে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) সর্বশেষ থানা জরিপ অনুযায়ী করোনার আগে বাংলাদেশের মোট জনগোষ্ঠীর ২০ দশমিক ৫ ভাগ দারিদ্র্যসীমার নিচে ছিল। চরম দারিদ্র্য ছিল ১০ ভাগ মানুষ। করোনা মহামারির কারণে সেটা দ্বিগুণ হয়ে গেছে বলে বেসরকারি কয়েকটি গবেষণা সংস্থা তথ্য প্রকাশ করেছে।

এদিকে বিআইডিএসের সাম্প্রতিক জরিপে বলা হয়েছে, করোনায় ১ কোটি ৬৪ লাখ মানুষ নতুন করে গরিব হয়েছে। অর্থাৎ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছে। তাই এখন দেশে গরিব মানুষের সংখ্যা ৫ কোটির বেশি। ফলে কারো বুঝতে অসুবিধা হবার কথা নয় যে দেশের একটা বিশাল অংকের মানুষ দারিদ্র্যতার সাথে যুদ্ধ করে বেঁচে আছে।

ঈদুল আজহা উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে দরিদ্র মানুষের জন্য ত্রাণ সহায়তা দেয়া হয়েছিল। কিন্তু সে সহায়তা দরিদ্র মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে পারেনি। করোনা সংক্রমণের ক্রমবর্ধমান সংক্রমণে আগামী দিনে তাদের জীবন জীবিকার জন্য আরও কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। তাই সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে হতদরিদ্রদের পাশে দাঁড়াতে হবে। দিতে হবে তাদের খেয়ে পরে বেঁচে থাকার নিশ্চয়তা।

 






এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ





















© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD
themesbazar_brekingnews1*5k