৩রা জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ ১৭ই মে, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ ১৬ই শাওয়াল, ১৪৪৩ হিজরি



কৃত্রিম সংকট করেছে ব্যবসায়ীরা

কুশিয়ারা ভিউ ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ১০ মে, ২০২২
ফাইল ছবি

ঈদের আগে হঠাৎ বাজার থেকে ভোজ্যতেল সয়াবিন ‘উধাও’। এখনো কাটেনি সয়াবিনের জন্য হাহাকার। বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে গত বৃহস্পতিবার বাড়ানো হলো দাম। তারপরও নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দাম দিয়েও তেল পাচ্ছেন না ভোক্তারা। এই সংকটের জন্য বরাবরের মতো একে অন্যকে দুষছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

এদিকে খোদ বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি অভিযোগ করে বলেছেন, ডিলার ও খুচরা ব্যবসায়ীদের কারচুপির কারণে বাজারে ভোজ্যতেলের সংকট তৈরি হয়েছে। দামও বেড়েছে।

গতকাল সোমবার সচিবালয়ে ব্যবসায়ী, মিলারসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের সঙ্গে বৈঠকে বসে তিনি এসব কথা বলেন।
বাজারে সয়াবিন তেলের সংকট কেন তৈরি হলো, তেলের দাম কেন বাড়ল, তা জানাতে বৈঠক ও সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ব্যবসায়ী-মিলারসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা। এ ছাড়া বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সিটি গ্রুপের চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান, এস আলম গ্রুপের জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক সালাউদ্দিন আহমেদ, টিকে গ্রুপের পরিচালক শফিকুল আথহার তাসলিম, বাণিজ্যসচিব তপন কান্তি ঘোষসহ অন্যরা।

বৈঠক শেষে টিপু মুনশি সাংবাদিকদের বলেন, বাজারে সয়াবিন তেলের দাম স্থিতিশীল রাখতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাজারে সয়াবিন তেলের সংকট কেন তৈরি হলো, আমরা তা খুঁজে পেয়েছি। এই কারচুপি করেছে ডিলার ও খুচরা ব্যবসায়ীরা। যারা কারসাজি করেছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি। ডিলারশিপ বাতিল করতে মালিকদের বলেছি। জেলা উপজেলা পর্যায়ে অভিযান চলবে। প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতা নেওয়া হবে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ভোজ্যতেলের দাম না বাড়ানো এবং সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে অনুরোধের পরও ব্যবসায়ীরা কথা রাখেননি। আমরা ব্যবসায়ীদের বিশ্বাস করেছিলাম। এটাই আমাদের ব্যর্থতা। বিশ্বাস করা ভুল হয়েছে।

গত মার্চে তেলের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব সরকার ফিরিয়ে দেওয়ার পর বাজারে সয়াবিনের সরবরাহ কমে গিয়েছিল অনেকটা। পরিস্থিতির আরো অবনতি হয় ঈদের আগে আগে। এবার তেল একেবারে উধাও হয়ে যায়। ঈদের ছুটি শেষে প্রথম কর্মদিবসে ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে বোতলজাত তেল লিটারে ৩৮ টাকা আর খোলা তেল ৪৪ টাকা বাড়ানোর ঘোষণা আসে। এর পরেও সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি।

বিভিন্ন জেলায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযানে গুদাম থেকে এমনকি বাসা থেকে মজুত করা বিপুল পরিমাণ তেল উদ্ধার করা হয়েছে। ঈদের আগে না ছাড়লেও দাম বাড়ানোর ঘোষণা আসার পর বাড়তি দামে তেল ছাড়া হয়। সেই বোতলের গায়ের দাম লিটারে ১৬০ টাকাই লেখা। তবে দোকানভেদে ২২০ টাকাও বিক্রি হতে দেখা গেছে।

গত ফেব্রুয়ারি মাসে তেলের মূল্য নির্ধারণের পর আন্তর্জাতিক বাজারের মূল্য বৃদ্ধির ফলে রোজার মধ্যেই আরেকবার দাম পরিবর্তন করার প্রয়োজন হয়েছিল বলে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী। রোজায় যাতে মানুষের কষ্ট না হয় সে জন্য তিনি মিল মালিকদের অনুরোধ করে দাম বৃদ্ধি কিছুটা বিলম্বিত করেছিলেন। এখন তো দেখছি রোজার ভেতর একবার দাম বৃদ্ধি করাই ভালো ছিল। মিল মালিকরা মেনে নিলেও খুচরা ও পাইকারি বিক্রেতারা ঠিকই দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে টিপু মুনশি বলেন, আগামী জুন মাস থেকে এক কোটি পরিবারকে সুলভমূল্যে তেল দেওয়া হবে টিসিবির মাধ্যমে। আপাতত টিসিবির তেলের দাম বাড়ানোর পরিকল্পনা নেই। প্রতি লিটার তেল ১১০ টাকা করেই বিক্রি হবে। তেল নিয়ে সিন্ডিকেট হয়নি। তবে খুচরা ব্যবসায়ীরা সুযোগ নিয়েছেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী আরো বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেড়েছে, তাই আমাদের দেশেও বাড়বে, এটা অঙ্ক। এই দাম বাড়ার কথা ছিল রোজার আগেই। কিন্তু সরকার চায়নি রোজায় তেলের দাম বাড়ুক। সেই সময়ে কিছু অসাধু ডিলার ও খুচরা ব্যবসায়ী তেল মজুত করে রেখেছিল। সে জন্য বাজারে তেলের সংকট তৈরি হলো। বাজারে গেলে তেলের সঙ্গে অন্য পণ্য কিনতে হবে, এমনটা যারা বলছেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।

সভায় সিটি গ্রুপের চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান বলেন, তেলের দাম বাড়ছে এবং বাজারে তেল নেই, এটার জন্য মিলমালিক দায়ী নন। তেল বাজারে আছে, তেল বাজার থেকে শেষ হয়ে যায়নি। হঠাৎ করে ৫ তারিখ তেলের দাম বাড়ার সিদ্ধান্তে বাজারের খুচরা বিক্রেতারা সংকট সৃষ্টি করেছেন। ফজলুর রহমান আরো বলেন, পর্যাপ্ত তেলের মজুত আছে। তেলের সংকট তৈরি করেছেন খুচরা ব্যবসায়ীরা। দু-এক দিনের মধ্যে বাজারে তেলের সরবরাহ আরো সহজ হবে।

রমজান মাস জুড়ে দেশে ব্যবসায়ীরা যে দরে ভোজ্যতেল আমদানি করেছিলেন, তার গড় মূল্য সরকার ধরেছিল ১ হাজার ৪৬০ ডলার। এতে প্রতি লিটারে বাজারজাতকারীদের লোকসান হচ্ছিল ৪০ থেকে ৪৫ টাকা। এ লোকসান কমাতে ঈদের পর ৫ মে সেই তেলের গড় আমদানি মূল্য বাড়িয়ে পুনর্নির্ধারণ করা হয় ১ হাজার ৬০৫ ডলার। প্রতিটনে ১৪৫ ডলার দাম বেশি ধরা হয়। এতে ভোজ্যতেলের আমদানিকারক, পরিশোধন ও বাজারজাতকারী কোম্পানিগুলোর লোকসান কমে মুনাফায় ফিরেছে।

সরকার খুচরা বাজারে তেলের বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ করে দেয়। এ কারণে দাম হিসাব করার জন্য সরকার আন্তর্জাতিক বাজার থেকে ব্যবসায়ীদের ভোজ্যতেল কেনার বিভিন্ন দরের একটি গড় নির্ধারণ করে সেটাকে আমদানি মূল্য ধরে নিয়ে ভোক্তা পর্যায়ে বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ করে।

বিশ্ববাজারে এখন প্রতি টন অপরিশোধিত ভোজ্যতেলের দাম দুই হাজার ডলারের বেশি হলেও সরকার সবশেষ গড় আমদানিমূল্য ১ হাজার ৬০৫ ডলার ধরে নিয়েই হিসাব কষেছে। পূর্বাভাস রয়েছে, জুনে বিশ্ববাজারে ভোজ্যতেলের দাম কমে আসতে পারে।

এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে দর কমার পূর্বাভাস এবং দেশে দাম বাড়িয়ে সমন্বয়ের কারণে তেলের মজুত ধরে রাখার সুযোগও কমে আসছে। আবার ঈদের ছুটিতে কোম্পানিগুলোর বন্ধ কারখানাও শনিবার থেকে খোলা হয়েছে। রোববার থেকে শুরু হয়েছে নতুন বাড়তি দামে সরবরাহের কাজও। এ অবস্থায় বর্তমানে বাজারে ভোজ্যতেলের ঘাটতি দ্রুতই মিটে যাবে। বাড়তি দামে বিক্রির সুযোগ নিতে আমদানিকারক, পরিশোধন কোম্পানি ছাড়াও বিভিন্ন পকেটে থাকা মজুত তেল আবারো সবখানে আগের মতোই দেখা যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সরকার বৃহস্পতিবার থেকে তেলের নতুন দাম নির্ধারণ করেছে প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন ১৯৮ টাকা, খোলা সয়াবিন ১৮০ টাকা এবং পাম সুপার ১৭২ টাকা। ঘাটতির কারণে বাজারে এর চেয়ে বেশি দামে ভোজ্যতেল বিক্রি হচ্ছিল। এদিকে লোকসান কমাতে ঈদের দিন পনের আগে থেকেই মিল পর্যায়ে ভোজ্যতেলের সরবরাহে টান পড়ে। এরপর যত দিন গড়ায়, সংকটও তত প্রবল হয়ে ওঠে।

সৌজন্য: বাংলাদেশের খবর

 






এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ











All Bangla Newspapers



অনলাইনে বাংলাদেশের সকল পত্রিকা পড়ুন…













© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD
themesbazar_brekingnews1*5k