২রা ভাদ্র, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ ১৭ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ ১৯শে মহর্‌রম, ১৪৪৪ হিজরি



ঘরে ঘরে আনন্দের বন্যা

কুশিয়ারা ভিউ ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০২১

দেশে মহামারি করোনা নিয়ন্ত্রণে এলেও নতুন করে সংক্রমণের শঙ্কা জাগিয়েছে ওমিক্রন। এই শঙ্কার মাঝে স্বস্তির পরশ বুলিয়ে দিয়েছে মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীরা। আনন্দের বন্যা বইছে শিক্ষার্থীদের ঘরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতেও ফিরেছে প্রাণ। ঘরে।

মহামারি করোনার কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় এ বছর নয় মাস পিছিয়ে গত ১৪ নভেম্বর শুরু হয় এসএসসি পরীক্ষা। এবারের এসএসসি পরীক্ষা হয়েছে শুধু নৈর্বচনিক বিষয়ে। অন্যান্য আবশ্যিক বিষয়ে আগের পাবলিক পরীক্ষার সাবজেক্ট ম্যাপিং করে মূল্যায়নের মাধ্যমে নম্বর দেওয়া হয়।

গতকাল বৃহস্পতিবার চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয়েছে। ফল প্রকাশ উপলক্ষে এদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো পরিণত হয় শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মিলনমেলায়। দেড় বছর পর প্রথম কোনো পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল পেয়ে উচ্ছ্বসিত শিক্ষার্থীরা। ফল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই উচ্ছ্বাস, আনন্দ আর হইহুল্লোড়ে ভেসে যায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ। ছেলে-মেয়েদের ফলাফলে খুশি পরিবারের সদস্যরাও।

বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ এবং শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে বই বিতরণ উদ্বোধন অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সকাল পৌনে ১১টায় প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে নয়টি সাধারণ শিক্ষাবোর্ড এবং কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের প্রধানের কাছ থেকে গ্রহণ করেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি। পরে প্রধানমন্ত্রী ফলাফল ঘোষণা করেন। এর মাধ্যমে দেড় বছর পর প্রথম কোনো পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা করা হলো।

আমাদের পরীক্ষার্থীরা গিয়েছে, পারিবারিক থেকে শুরু করে নানান ধরনের সমস্যা ছিল। কোভিডের কারণে বাড়তি অনেক চাপ ছিল, অনেক টুমার মধ্য দিয়েও গিয়েছে, ঘনিষ্ঠ আত্মীয়জন বা পরিবারের কাউকে হারিয়েছে তারা। এই রকম অনেক অবস্থা ছিল, সেগুলোকেও আমাদের বিবেচনায় নেওয়ার প্রয়োজন আছে। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, অনেকের অনেক ধরনের প্রতিবন্ধকতা থাকে, অনেকের প্রতিবন্ধিতা থাকে, অনেকের অনেক সমস্যা থাকে। কেউ পরীক্ষার সময় অসুস্থ হয়ে যায়, কেউ পরীক্ষার সময় হঠাৎ করে ভয় পেয়ে যায়, অনেক রকম কারণে হতে পারে। আমরাও আমাদের জীবনে অনেক দূর পার করে এসেছি, আমাদের জীবনেও সব সময় এক রকম হয় না। এমনকি ভালো পড়াশোনা করেছে, প্রস্তুতি ছিল, তারপরেও অনেক সময় পরীক্ষা ভালো হয় না। এটি ঘটে।

নয়টি সাধারণ শিক্ষাবোর্ড, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাবোর্ড নিয়ে এবার পাসের হার ৯৩.৫৮। গত বছর থেকে এবার সার্বিক পাসের হার বেড়েছে ১০.৭১ শতাংশ। বেড়েছে জিপিএ-৫ এর সংখ্যাও। এবার মোট ১ লাখ ৮৩ হাজার ৩৪০ জন পরীক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। যা গতবারের তুলনায় সাড়ে ৪৭ হাজার বেশি। পরীক্ষায় ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের পরীক্ষার্থীরা পাসের হারে অন্যান্য বিভাগের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে। এই বিভাগের পরীক্ষার্থীদের পাসের হার ৯৩ দশমিক ৫১। তবে জিপিএ-৫ বেশি পেয়েছে বিজ্ঞান বিভাগের পরীক্ষার্থীরা। ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট পরীক্ষার্থী ১৭ লাখ ৯২ হাজার ৩১২ জন। পাশ করেছে ১৬ লাখ ৮৬ হাজার ২১১ জন। পাশের হার ৯৪ দশমিক ০৮। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের ২ লাখ ৯২ হাজার ৫৬৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাশ করেছে ২ লাখ ৭২ হাজার ৭২২ জন। পাশের হার ৯৩ দশমিক ২২ শতাংশ। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ১ লাখ ৫৫ হাজার ৫১৪ জন পরীক্ষা দিয়েছে। এর মধ্যে পাশ করেছে ১ লাখ ৩৭ হাজার ৬১৩ জন। পাশের হার ৮৮ দশমিক ৪৯। তাছাড়া, বিদেশের ৯টি কেন্দ্রে ৪১৬ জন অংশ নেয়। এর মধ্যে পাশ করেছে ৩৯৮ জন। পাশের হার ৯৫ দশমিক ৬৭ শতাংশ।

এবারের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় চমক দেখিয়েছে ময়মনসিংহ শিক্ষাবোর্ড। পাসের হারে সবার ওপরে রয়েছে তারা। তবে জিপিএ ফাইভে শীর্ষে অবস্থান করছে ঢাকা শিক্ষাবোর্ড। এবার পাসের হারে শীর্ষে আছে ময়মনসিংহ। বোর্ডে অংশ নেওয়া ৩০ হাজার ৮৬৩ পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাসের হার ৯৭.৫২ শতাংশ। জিপিএ ফাইভ পেয়েছে ১০ হাজার ৯২ জন শিক্ষার্থী। পাসের হারে নয়ননসিংহের ঠিক পরেই সিলেট। এই শিক্ষাবোডে অংশ নেওয়া ১ লাখ ১৯ হাজার ৫৫৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাসের হার ৯৬.৭৮ শতাংশ। সিলেটে জিপিএ ফাইভ পাওয়া শিক্ষার্থী ৪ হাজার ৮৩৪ জন।

পাসের হারে তৃতীয় কুমিল্লা বোর্ড। অংশ নেওয়া ২ লাখ ১৯ হাজার ৭০৪ জন পরীক্ষার মধ্যে পাসের হার ৯৬.২৭ শতাংশ। এই বোর্ডে জিপিএ ফাইভ পাওয়া শিক্ষার্থী ১৪ হাজার ৬২৬ জন। দিনাজপুরে পরীক্ষায় অংশ নেয় ১ লাখ ৯৩ হাজার ৪১২ জন। ৯৪.৮০ শতাংশ পাস দিয়ে চতুর্থ স্থানে আছে তারা। জিপিএ ফাইভ পেয়েছে ১৭ হাজার ৫৭৮ জন। এই তালিকায় পঞ্চমস্থানে আছে রাজশাহী। ২ লাখ ৬ হাজার ৩১৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাসের হার ৯৪.৭১ শতাংশ। এই বোর্ডে জিপিএ ফাইভ পাওয়া শিক্ষার্থী ২৭ হাজার ৭০৯ জন। এরপর রয়েছে ঢাকা বোর্ড। ৪ লাখ ৭২ হাজার ২৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাসের হার ৯৩.১৫ শতাংশ। তবে জিপিএ ফাইভ পাওয়ার তালিকায় সবার ওপরে রয়েছে এই শিক্ষাবোর্ড, ৪৯ হাজার ৫০০ জন। পাসের হারে যশোরের অবস্থান সপ্তম। ১ লাখ ৭৮ হাজার ৭৯৫ ডজন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাসের হার ৯৩.০৯ শতাংশ। এই শিক্ষাবোর্ডে জিপিএ ফাইভ পেয়েছেন ১৬ হাজার ৪৬১ জন।

এরপর রয়েছে চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ড। ১ লাখ ৫৮ হাজার ৬৩৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাসের হার ৯১.১২ শতাংশ। জিপিএ ফাইভ পেয়েছে ( হাজার ৭৯১ জন। সাধারণ শিক্ষাবোর্ডগুলোর মধ্যে পাসের হারে একেবারে তলানিতে আছে বরিশাল বোর্ড। ১ লাখ ১৩ হাজার ৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাসের হার ৯০.১৯ শতাংশ। এই বোর্ডে জিপিএ ফাইভ পেয়েছে ১০ হাজার ২১৯ জন।

মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ডে এবার পাসের হার ৯৩.২২ শতাংশ। মোট পরীক্ষার্থী ছিল ২ লাখ ৯২ হাজার ৫৬৯ জন। জিপিএ ফাইভ পাওয়া শিক্ষার্থী ১৪ হাজার ৩১৩ জন। আর কারিগরি শিক্ষাবোর্ডে ১ লাখ ৫৫ হাজার ৫১৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাসের হার ৮৮.৪৯ শতাংশ। জিপিএ ফাইভ পাওয়া শিক্ষার্থী ৫ হাজার ১৮৭ জন। আগের বারের মতো এবারও শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রেখেছে মেয়েরা। এবার মোট ছেলে পরীক্ষার্থী ছিল ১১ লাখ ৪২ হাজার ৯৪ জন। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১০ লাখ ৫৮ হাজার ৬২৮ জন। আর মেয়ে পরীক্ষার্থী ছিল ১ লাখ ৯৮ হাজার ৩০১ জন। উত্তীর্ণ হয়েছে ১০ লাখ ৩৭ হাজার ৯১৮ জন। গত বছর ছাত্রদের পাসের হার ৮১.১৩ শতাংশ, আর ছাত্রীদের পাসের হার ছিল ৮৩.২৮ শতাংশ।

জিপিএ ফাইভ পাওয়াদের মধ্যেও এগিয়ে মেয়েরা। জিপিএ ফাইভ পেয়েছে মোট ১ লাখ ৮৩ হাজার ৩৪০ জন। এর মধ্যে ছাত্রী ১ লাখ ৩ হাজার ৫৭৮ জন ছাত্র ৭৯ হাজার ৭৬২ জন। জিপিএ ফাইভ পাওয়ায় মেয়েদের হার ৯.৪৩ শতাংশ, ছেলেদের হার ৬.৯৮ শতাংশ। গত বছর পাঁচে পাঁচ পাওয়া লাখ ৩৫ হাজার ৮৯৮ শিক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্রী ছিল ৭০ হাজার ১৪৪ জন। আর ছাত্র ৬৫ হাজার ৭৫৪ এবার মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২ লাখ ১২ হাজার ৫৬৯ জন শিক্ষার্থী দাখিল পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। এর মধ্যে পাস করেছেন ২ লাখ ৭২ হাজার ৭২২ জন। তার মধ্যে ১ লাখ ৪৪ হাজার ৪৮৭ জন ছাত্রের মধ্যে পাস করেছে ১ লাখ ৩৩ হাজার ০৮ জন। আর ১ লাখ ৪৮ হাজার ৮২ জন ছাত্রীর মধ্যে পাস করেছে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৮১৪ জন। মাদ্রাসায় এবার জিপিএ ৫ পেয়েছে ১৪ হাজার ৩১৩ জন। গত বছর এই সংখ্যা ছিল ৭ হাজার ৫৬১ জন। এবার জিপিএ ৫ পাওয়াদের মধ্যে ছাত্রী বেশি, ৮ হাজার ২০৬ জন। পাঁচে পাঁচ পাওয়া ছাত্র ৬ হাজার ১০৭ জন।

বেড়েছে শতভাগ পাস করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও। একই সঙ্গে কোনো পরীক্ষার্থী পাস করতে পারেনি এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কমেছে। এবার এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় শতভাগ পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা পাঁচ হাজার ৪৯৪টি। গতবর এর সংখ্যা ছিল তিন হাজার ২৩টি। অর্থাৎ শতভাগ পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা দুই হাজার ৪৭২টি বেড়েছে। অন্যদিকে ১৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কেউ পাস করতে পারেনি, গতবার এই সংখ্যা ছিল ১০৪টি। সেই হিসাবে এবার কোনো পরীক্ষার্থী পাস করতে পারেনি এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কমেছে ৮৬টি। তবে শতভাগ ফেল করা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে কোনো স্কুল নেই। ২টি মাদরাসা ও ১৬ টি কারিগরি প্রতিষ্ঠানের কেউ পাস করেনি।

ফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বিজ্ঞান বিভাগের পরীক্ষায় মোট অংশ নিয়েছে ৫ লাখ ৫ হাজার ২৮৮ জন। বিজ্ঞান বিভাগে মোট পাস করেছে ৪ লাখ ৮৫ হাজার ১৭৬ জন। পাসের হার ৯৬ দশমিক শূন্য ৩। এছাড়া জিপিএ-৫ পেয়েছে মোট ১ ল 84 হাজার ৬৯৭ জন। মানবিকে মোট পরীক্ষার্থী ছিল ৯ লাখ ২১ হাজার ১২২ জন। এর মধ্যে পাস করেছে ৮ লাখ ৫৮ হাজার ৮৫৪ জন। পাসের হার ৯৩ দশমিক ২৪। জিপিএ-৫ পেয়েছে মোট ৬ হাজার ৬১৪ জন। ব্যবসায় শিক্ষায় পরীক্ষার্থী ছিল মোট ৩ লাখ ৬৫ হাজার ৯৪৬ জন। এর মধ্যে পাস করেছে ৩ লাখ ৪২ হাজার ১৮১ জন। পাসের হার ৯৩ দশমিক ৫১। এছাড়া জিপিএ-৫ পেয়েছে ৮ হাজার ৩১৪ জন।

ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এবারে জিপিএ-৫ পাওয়া সাদিয়া আফরিন বলেন, আমাদের বড় আপুদের পরীক্ষা ছাড়াই ফলাফল দিয়েছে। আমরা ভাবিও নাই যে আমাদের পরীক্ষা হবে। অটোপাস না হয়ে পরীক্ষা হয়ে পাস করায় আমাদের ভালো লাগছে। তিন বিষয়ে পরীক্ষা দিয়েছি কয়েক বছর
পর এটা কেউ মনেও রাখবে না। ফলাফল পেয়ে অনেক ভালো লাগছে।

চাইলে রাহেলা নাবিদা তোরা বলেন, আমাদের নিষেধ করা হয়েছিল কারোনার কারণে স্কুলে তেমন আনন্দ উৎসব না করতে। কিন্তু সেটা পুরোপুরি মানা যায়নি। সবাই উচ্ছ্বসিত।

অপর এক শিক্ষার্থী আসফিয়া রেজা নির্থী বলেন, আলহামদুলিল্লাহ, জিপিএ ৫ পেয়েছি। আমার অনেক বন্ধুরাও পেয়েছে। প্রথম পরীক্ষাটা দিতে একটু সমস্যা হয়েছিল। তারপরও ফলাফল ভালে এসেছে। ভালো ফলাফল পেয়ে উচ্ছ্বসিত অভিভাবকরাও। ভিকারুননিসা নান স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে অংশ নিয়ে জিপিএ ৫ পেয়েছে অনিন্দিতা সান্যাল।

মেয়ের এমন ফলাফল পেয়ে তার মা কাবেরী ভট্টাচার্য বলেন, নাই মামার চেয়ে কানা নানা ভালো। সবগুলো বিষয়ে পরীক্ষা হলে আরও ভালো লাগতো। করোনার মধ্যে পরীক্ষা হয়ে কলাফল দিয়েছে। মেয়েও ভালো রেজাল্ট করায় খুশি আনি।

নোভিয়া তাসনিম নামের আরেক শিক্ষার্থীর বাবা রাশেদ শাহরিয়ার পলাশ বলেন, ফলাফল পেয়ে ভালো লাগছে। আমরা সন্দিহান ছিলাম কিভাবে ফলাফল দেবে। তারপরও পরীক্ষা হয়েছে। সবগুলো পরীক্ষা হলে আরো ভালো লাগতো।

প্রকাশিত ফল নিয়ে আপত্তি থাকলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থী বরাবরের মতোই এবারো পুনর্নিরীক্ষার আবেদন করার সুযোগ পাবে। পরীক্ষার ফল পুনর্নিরীক্ষার আবেদন শুরু হবে আজ শুক্রবার। ৬ জানুয়ারি পর্যন্ত এসএমএসের মাধ্যমে পুনর্নিরীক্ষার আবেদন করা যাবে।

গতকাল বিকেলে এ বিষয়ে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এস এম আমিরুল ইসলামের সই করা অফিস আদেশ জারি করা হয়েছে। শুধু টেলিটক প্রি-পেইড মোবাইল ফোন থেকে পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করা যাবে। আবেদন করতে মোবাইলের Message অপশনে গিয়ে RSC<Space> বোর্ডের নামের প্রথম তিন অক্ষর <Space> রোল নম্বর <Space> বিষয় কোড লিখে ঝবহক করতে হবে ১৬২২২ নম্বরে।

উদাহরণ : ঢাকা বোর্ডের কোনো পরীক্ষার্থীর রোল নম্বর ১২৩৪৫৬ হলে এবং পরীক্ষার্থী আবেদন করতে চাইলে সবংংধার অপশনে জবঈ উষধ ১২৩৪৫৬ ১৩৬ ঝবহত করতে হবে ১৬২২২ নম্বরে। ফিরতি এসএমএসে আবেদন বাবদ কত টাকা কেটে নেওয়া হবে তা জানিয়ে একটি চওঘ নম্বর দেয়া হবে। এতে সম্মত থাকলে ম্যাসেজ অপশনে গিয়ে RSC<Space> Yes Space> PIN Space> Contact Number ( যে কোন মোবাইল অপারেটর) লিখে ঝবহক করতে হবে ১৬২২২ নম্বরে উল্লেখ্য, পুননিরীক্ষণের ক্ষেত্রে একই এসএমএসের মাধ্যমে একাধিক বিষয়ের (যেসব বিষয়ের পরীক্ষা হয়েছে। জন্য আবেদন করা যাবে। সেক্ষেত্রে কমা দিয়ে বিষয় কোডগুলো আলাদা করে লিখতে হবে। যেমন পদার্থ ও রসায়ন দুটি বিষয়ের জন্য টেলিটক প্রি-পেইড মোবাইলের ম্যাসেজ অপশনে গিয়ে RSC Space Dha Space Roll Number Space> ১৩৬ ১৩৭ লিখতে হবে। প্রতিটি বিষয় ও প্রতি পত্রের জন্য ১২৫ টাকা হারে চার্জ কাটা হবে। যেসব বিষয়ের দুটি পত্র (প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র) রয়েছে, সেসব বিষয়ের ফল পুনর্নিরীক্ষার আবেদন করলে মোট ২৫০ টাকা ফি কাটা হবে।

প্রসঙ্গত, ২০২১ সালের এসএসসি, দাখিল ও এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থী ছিল ২২ লাখ ৭৮ হাজার ১৯৮ জন। তিন হাজার ৬৮৫টি কেন্দ্রে ২৯ হাজার ৬০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মোট ২২ লাখ ৪০ হাজার ৩৯৫ অংশ নেয়। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ২০ লাখ ৯৬ হাজার ৫৪৬ জন। পাসের হার ৯৩ দশমিক ৫৮ শতাংশ। পরীক্ষায় অংশ নেয়নি ৩৭ হাজার ৭০৩ জন।

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ











All Bangla Newspapers



অনলাইনে বাংলাদেশের সকল পত্রিকা পড়ুন…
















© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত২০২২ কপিরাইট © কুশিয়ারা ভিউ টোয়েন্টিফোর ডটকম
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD
themesbazar_brekingnews1*5k