১১ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ ২৭শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ২১শে রবিউল আউয়াল, ১৪৪৩ হিজরি



চুলে খুশকির কারণ ও প্রতিকার

কুশিয়ারা ভিউ ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ৩১ আগস্ট, ২০২১

খুশকির সমস্যায় ভোগেন না এমন মানুষ পাওয়া দুষ্কর। নারী- -পুরুষ নির্বিশেষে খুশকি সমস্যার মুখোমুখি সবাই।

বায়ুদূষণ, অস্বাস্থ্যকর জীবন যাপনসহ নানান কারণে খুশকির সমস্যা দেখা দেয়। খুশকি ত্বকের বিশেষ একটি অবস্থাকে বুঝায়, যা মূলত মাথার খুলিতে বেশি দেখা যায়। এতে চর্মরেণু মাথার ত্বক থেকে আঁশের মতো উঠে উঠে আসে এবং ঝরে পড়ে। খুশকি আত্মসম্মানের এমনকি সামাজিক সমস্যাও তৈরি করতে পারে। এ অবস্থার আরও ভয়াবহ রূপ হলো সেবোরেইক ডারমাটাইটিস বা ত্বকের তৈলাক্ত ও চুলকানিপ্রবণ অবস্থা খুশকির স্পষ্ট কোনো কারণ জানা না গেলেও, ধারণা করা হয়— জিনগত ও পরিবেশগত কারণে খুশকি হতে পারে। শীতকালে যেটা আরও বাড়ার সম্ভাবনা থাকে।

খুশকির পেছনে কারণ হিসেবে অপরিচ্ছন্নতাকে দায়ী করা হলেও মূলত তার সাথে এর সম্পর্ক নেই। ত্বকের কোষের মাত্রাতিরিক্ত বৃদ্ধির কারণে খুশকি হয়ে থাকে। লক্ষণের উপর ভিত্তি করে খুশকির রোগনির্ণয় ও চিকিৎসা করা হয়। খুশকির কোনো সাধারণ প্রতিকার নেই। অ্যান্টিফাংগাল ক্রিম বা স্যালিসিলিক অ্যাসিড ব্যবহার করে অবস্থার কিছুটা উন্নতি হতে পারে। প্রাপ্তবয়স্কদের অর্ধেকই এ অবস্থার শিকার, যেখানে মহিলাদের চেয়ে পুরুষদের মধ্যে আক্রান্তর হার বেশি।

পৃথিবীর প্রায় সব জায়গার লোকই খুশকিতে আক্রান্ত হয়। স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট বোল্ডস্কাইয়ের এক প্রতিবেদনে খুশকি হওয়ার বিভিন্ন কারণ সম্পর্কে জানানো হয়েছে।

আজ আমরা জেনে নেবো পাঁচ কারণ।

চলুন, চোখ বুলিয়ে নিই…..

ছত্রাকের সংক্রমণ : ছত্রাকের সংক্রমণের মাধ্যমে খুশকি হতে পারে। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। আর এ থেকে রক্ষা পেতে আপনি নিজের চিরুনি শুধু নিজে ব্যবহার করুন। অন্যকে ব্যবহার করতে দেবেন না। তা ছাড়া ঠিকঠাক চুল না ধুলেও ছত্রাকের সংক্রমণ হয়। মাথার ত্বকে ঘাম জমে সংক্রমণ হয়। তাই ভালোভাবে চুল ধোয়া জরুরি।

খাদ্যাভ্যাস : চুলের যত্নে খাদ্যতালিকায় পুষ্টিকর খাবার রাখা জরুরি। এটি শুধু চুল নয়, ত্বকের ওপর প্রভাব ফেলে। তাই পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করুন। পর্যাপ্ত পানি খান। দেখবেন খুশকির সমস্যা দূর হয়ে যাবে।

চুলে যেনো ময়লা না জমে : আপনাকে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে, চুলে যেনো ময়লা না জমে। এতে মাথার ত্বকে সংক্রমণ হতে পারে, দেখা দিতে পারে খুশকি।
তাই ভালো করে চুল ধুয়ে নিন।

মানসিক চাপ : স্ট্রেস বা মানসিক চাপও মাথার ত্বকের ওপর প্রভাব ফেলে। এতে খুশকির সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই মানসিক চাপমুক্ত থাকুন। দুশ্চিন্তা করবেন না। আর অবশ্যই নিয়মিত চুল ধোবেন এবং যাতে ঠিকমতো মাথার ত্বকসহ চুল পরিষ্কার হয়, সে দিকে খেয়াল রাখবেন। দেখবেন, খুশকির সমস্যা আর থাকবে না।

সমাধান : খুশকির সমাধান পাওয়া যাবে ঘরোয়া উপায়ে। কোনো রাসায়নিক নয়; প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করেই পেতে পারেন এর সমাধান।

যা যা লাগবে

নিমপাতা, মেথির গুঁড়া, রিঠার গুঁড়া, আমলার গুঁড়া ও পানি।

দ্রবণটি যেভাবে তৈরি করবেন : উপাদানগুলো একসঙ্গে মিশিয়ে পরিমাণমতো পানি দিয়ে ১০ মিনিট সিদ্ধ করতে হবে। তারপর ঠাণ্ডা হয়ে গেলে মাথায় ব্যবহার করুন।

যেভাবে ব্যবহার করবেন :

দ্রবণটি ঠাণ্ডা হয়ে গেলে মাথার ত্বকে দিয়ে ভালোভাবে মেসেজ করুন। ৩০ মিনিট পর কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

মনে রাখবেন : সুফল পেতে দ্রবণটি সপ্তাহে দু-তিনবার ব্যবহার করতে হবে। দ্রবণটি দিয়ে বেশিক্ষণ রেখে দেওয়া যাবে না। খুশকি দূর হয়ে গেলেও কিছু পরিমাণ যদি অবশিষ্ট থাকে, পুরো মাথায় আবার ছড়িয়ে পড়বে। তাই নিয়মিত চুল ধুয়ে রাখুন। অন্তত সপ্তাহে তিনবার। খুশকি দূর করতে অ্যান্টি-ড্যানড্রাফ বা খুশকি রোধক শ্যাম্পু দিয়ে সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার মাথার ত্বক পরিষ্কার করতে হবে। এতে ছত্রাকরোধী উপাদান মেশানো থাকে। মাথার ত্বকে ভালো করে ঘষে পাঁচ থেকে ১০ মিনিট রেখে দিয়ে পরে ধুয়ে ফেলতে হবে। এই শ্যাম্পু চুল ও মাথার ত্বককে শুষ্ক ও খসখসে করে ফেলতে পারে। আধুনিক কিছু শ্যাম্পুতে তাই হেয়ার সফটেনার মেশানো থাকে। কখনো শুধু শ্যাম্পুতে কাজ না হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে বিশেষ লোশন বা মুখে খাওয়ার ওষুধ গ্রহণ করতে হতে পারে। চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে বা ভালোভাবে জেনে কোনো পণ্য ব্যবহার করুন। কেনার পরেও যদি বুঝতে পারেন পণ্যটি মানাচ্ছে না, তবে বাদ দিন। চুলের পরিচর্যা একদিন করে তারপর ফেলে রাখলে হবে না। পরিচর্যা করতে হবে নিয়মিত।






এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ





















© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD
themesbazar_brekingnews1*5k