২২শে আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ ৭ই অক্টোবর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ ১১ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৪ হিজরি



জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি :জনজীবনে স্বস্তি টিকিয়ে রাখুন

  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ১১ আগস্ট, ২০২২
সংগৃহীত ছবি

জ্বালানির দাম বাড়লে প্রায় প্রতিটি পণ্যেরই দাম বাড়ে; সঙ্গে বাড়ে জীবনযাত্রার ব্যয়। এমনিতেই দুর্বিষহ জীবনযাপন করছিল সাধারণ মানুষ। করোনার অভিঘাত কাটেনি, এখনো বন্ধ হয়নি করোনাভাইরাসের চোখ রাঙানি। এমন প্রতিকূল পরিস্থিতিতে দাম বাড়ানো হলো জ্বালানি তেলের।

এর আগে জ্বালানি ও ভোজ্যতেলের দাম বৃদ্ধি নিয়ে যে তুঘলকি কাণ্ড ঘটানো হলো- সেটার রেশ কাটেনি এখনো। এর মধ্যেই আরেক দফায় তেলের দাম বৃদ্ধিতে ক্ষুব্ধ হয়েছে দেশের মানুষ। কপালে বলিরেখার ভাঁজ আরও গভীর হয়েছে। নিম্নবিত্ত-মধ্যবিত্তের সংসার কী চলছিল। আদতে; উনুনে ঠিকমতো হাঁড়ি চড়ে! বেকায়দাজনক অবস্থান আরও প্রকট হলো।

মধ্যবিত্ত শ্রেণি বরাবরই মুখচোরা, স্বনির্মিত মূল্যবোধ ও সম্ভ্রম টিকিয়ে রাখতে মরিয়া। স্বল্প আয়ের মধ্যবিত্ত শ্রেণি আরও আগেই নীরবে নিম্নমধ্যবিত্ত শ্রেণিতে পরিণত হয়েছিল; নতুন করে মূল্যবৃদ্ধি এই শ্রেণিসহ প্রায় সব মানুষকে বাড়তি ঝামেলায় ফেলবে বলার অপেক্ষা রাখে না। গত ৫ আগস্ট থেকে বাড়ানো হলো সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম। প্রতি লিটার ডিজেল ৮০ টাকা থেকে ৩৪ টাকা বেড়ে হয়েছে ১১৪ টাকা। ডিজেলের উচ্চ মূল্যের প্রভাব পড়েছে পরিবহন খাতেও। ইতোমধ্যে বাড়ানো হয়েছে সব ধরনের পরিবহন ভাড়া। পরিবহন সংশ্লিষ্টরা ভাড়া বাড়িয়েছে তুলনামূলক বেশি। বরাবরই যে কোনো মূল্যবৃদ্ধির সুযোগ নেয় পরিবহন ব্যবসায়ীরা। বর্তমানে পরিবহন খাতে সৃষ্টি হয়েছে আরও নৈরাজ্য। যাত্রীরা নানামুখী হয়রানির শিকার হচ্ছেন।

এ বিষয়ে সরকারি প্রজ্ঞাপন দেওয়া হলেও মূল্যবৃদ্ধি বাস্তবতার নিরিখে কতটা যুক্তিযুক্ত— এমন প্রশ্নও তুলছেন সংশ্লিষ্টরা। গত শুক্রবার রাতে সরকারি প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বৈশ্বিক বর্তমান প্রেক্ষাপটে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য বাংলাদেশের তুলনায় অনেক বেশি। এ কারণে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি), ইন্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইজারাল)-এ পরিশোধিত এবং আমদানি/ক্রয়কৃত ডিজেল, কেরোসিন, অকটেন ও পেট্রোলের মূল্য সমন্বয় করে ভোতা পর্যায়ে পুনর্নির্ধারণ করা হলো।

শুক্রবার রাত ১২টার পর থেকে ডিপোর ৪০ কিলোমিটারের মধ্যে ভোক্তা পর্যায়ে খুচরা মূল্য প্রতি লিটার ডিজেল ১১৪ টাকা, কেরোসিন ১১৪ টাকা, অকটেন ১৩৫ টাকা ও পেট্রোল ১৩০ টাকা হয়। এর আগে ২০২১ সালের ৪ নভেম্বরে ডিজেল ও কেরোসিনের দাম বাড়ানো হয়েছিল। সে সময় এই দুই জ্বালানির দাম লিটারপ্রতি ৬৫ টাকা থেকে ১৫ টাকা বাড়িয়ে ৮০ টাকা করা হয়। ৮ মাসের ব্যবধানে আবার বাড়ানো হলো।

এ বিষয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, যতদিন সম্ভব ছিল ততদিন সরকার জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির চিন্তা করেনি। অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে অনেকটা নিরুপায় হয়েই কিছুটা অ্যাডজাস্টমেন্টে যেতে হচ্ছে। ২০১৬ সালের এপ্রিল মাসে সরকার জ্বালানি তেলের দাম কমিয়ে দিয়েছিল। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সে অনুযায়ী জ্বালানি তেলের দাম পুনর্বিবেচনা করা হবে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন বিগত ছয় মাসে জ্বালানি তেল বিক্রিতে লোকসান দিয়েছে।

বর্তমানে আন্তর্জাতিক তেলের বাজার পরিস্থিতির কারণে বিপিসির আমদানি কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে যৌক্তিক মূল্য সমন্বয় অপরিহার্য হয়ে পড়েছে বলে জানানো হয়। আগে থেকেই তরিতরকারি, চাল-ডাল থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রায় সব শ্রেণির দ্রব্যের বাজারমূল্য ছিল চড়া। সেই মূল্যের আগুনের তেজ বেড়েছে আরও। সাধারণের টিকে থাকা আরও কঠিন হয়ে দাঁড়াচ্ছে। তাহলে কোথায় স্বস্তি পাবে আম-মানুষ! একদিকে আয় কমেছে, অন্যদিকে বেড়েই চলেছে জীবনধারণের ব্যয়। বিপরীতে অনেক ধরনের কারসাজির সঙ্গে যারা জড়িত, সেই মুনাফালোভীরা ঠিকই ধারাবাহিক খেল দেখিয়ে যাচ্ছে। বরাবরই তারা থেকে যায় আড়ালে। বলির পাঁঠা হয় সাধারণ মানুষ। জনজীবনে শান্তি-স্বস্তি ফিরিয়ে দেওয়া জরুরি। এজন্য সিন্ডিকেটসহ সব ধরনের নৈরাজ্য বন্ধ করতে হবে। বিশ্ব বাস্তবতার সঙ্গে বাংলাদেশের অনেক বিষয়কেই মেলানো যাবে না। এখানে বরাবরই নিম্নআয়ের মানুষ নানামুখী বঞ্চনার শিকার হয়ে আছে। এই বঞ্চনা-লাঞ্ছনার পরিমাণ কমিয়ে আনতে সরকার উদ্যোগী হবে বলেই আমাদের প্রত্যাশা।





এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ









All Bangla Newspapers






















© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত২০২২ কপিরাইট © কুশিয়ারা ভিউ টোয়েন্টিফোর ডটকম
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD
themesbazar_brekingnews1*5k