১৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ ৩০শে নভেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ২৫শে রবিউস সানি, ১৪৪৩ হিজরি



ঝুঁকিপূর্ণ ব্যাংক ঋণ

কুশিয়ারা ভিউ ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ২৩ আগস্ট, ২০২১

ব্যাংক খাতে বিপুল অঙ্কের ঝুঁকিপূর্ণ ঋণ নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

উল্লেখ্য, ব্যাংক খাতের নিয়মানুযায়ী কোনো ঋণের আটটি কিস্তি অনাদায়ী থাকলে সেই ঋণকে স্পেশাল মেনশন অ্যাকাউন্ট (এসএমএ) হিসেবে গণ্য করা হয়। আর যে ঋণের কিস্তি নির্ধারিত তারিখে পরিশোধ করা হয় না, সেই ঋণকে মেয়াদোত্তীর্ণ ঋণ বলা হয়। অবশ্য মেয়াদি ঋণের ক্ষেত্রে এ ধরনের ঋণ ৯ মাস থাকার সুযোগ রয়েছে। তবে এ সময়সীমা অতিক্রম করলেই তা খেলাপি হবে।

আশঙ্কার বিষয় হলো- বর্তমানে এমন ঋণের পরিমাণ অন্তত দেড় লাখ কোটি টাকা। বলার অপেক্ষা রাখে না, বকেয়া পড়ে যাওয়া এ দেড় লাখ কোটি টাকা ব্যাংক কর্তৃক প্রদেয় ঋণখেলাপি হওয়ার আগের ধাপ। খেলাপি হওয়ার আগের ধাপে থাকা এসব ঋণের কিস্তি যদি পরিশোধ না করা হয়, তাহলে তা খেলাপি ঋণের হিসাবে যুক্ত হয়ে যাবে। এমনটি হলে তা ব্যাংক খাতসহ পুরো অর্থনীতির জন্য একটি বড় দুঃসংবাদ বয়ে আনবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ রিপোর্টে বলা হয়েছে, ব্যাংক খাতে মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে এসএমএ ঋণের অঙ্ক বেড়েছে আড়াই হাজার কোটি টাকারও বেশি। সাধারণত খেলাপি হওয়ার আগের ধাপের ঋণগুলোর পরিণতি দুই ধরনের হয়ে থাকে, যার মধ্যে বড় একটি অংশের খেলাপি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ পরিপ্রেক্ষিতে সাম্প্রতিককালের পরিসংখ্যান যে ইঙ্গিত বহন করছে, তাতে এ ব্যাপারে এখনই বিশেষ সাবধানতা অবলম্বন, বিশেষ করে ঋণ তদারকির বিষয়টি কার্যকরভাবে নিশ্চিত করা উচিত। তা না হলে বিপর্যয় থেকে রক্ষা পাওয়া কঠিন হবে। চলতি বছরের মার্চ শেষে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় দেশে খেলাপি বেড়েছে দুই হাজার ৫৭৪ কোটি টাকা । দুশ্চিন্তার বিষয় হলো— বিপুল এ খেলাপি ঋণ আদায়ের সম্ভাবনা খুবই কম।

কারণ, বিশেষজ্ঞদের ধারণা, খেলাপির বেশির ভাগ টাকাই ইতোমধ্যে বিদেশে
পাচার হয়ে গেছে। এর সঙ্গে যুক্ত নাটের গুরুদের আইনের আওতায় আনতে চাইলেই তারা বিদেশে পালিয়ে যান। ফলে এটা পরিষ্কার যে, এসব প্রভাবশালী ঋণখেলাপির কাছ থেকে প্রচলিত আইনে টাকা আদায় করা সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে আলাদা ট্রাইব্যুনাল গঠনের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যমতে, গত ১০ বছরে খেলাপি ঋণ বেড়েছে সাড়ে ৪ গুণ। সরকার অবশ্য মুজিববর্ষ সামনে রেখে খেলাপি ঋণমুক্ত দেশ গড়ার লক্ষ্যে “বাংলাদেশ অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কর্পোরেশন আইন-২০২০’-এর খসড়া প্রায় চূড়ান্ত করেছে।

যেখানে বলা হয়েছে- খেলাপি প্রতিষ্ঠানকে অন্য কারও কাছে লিজ দিয়ে টাকা আদায়ের চেষ্টা ব্যর্থ হলে ঋণখেলাপির পুরো সম্পত্তি বিক্রির ক্ষমতা পাবে অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কর্পোরেশন। খেলাপি ঋণ না কমে বরং দিন দিন বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হলো- ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে
কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না নেয়া। ব্যাংক খাতে সুশাসন ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি বিপুল অঙ্কের ঝুঁকিপূর্ণ ঋণ যাতে খেলাপি ঋণে পরিণত না হয়, এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকার সময়োপযোগী পদক্ষেপ নেবে, এটাই প্রত্যাশা।

 






এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ





















© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD
themesbazar_brekingnews1*5k