২১শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ ৬ই ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ২রা জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৩ হিজরি



টাকা ছাড়া মেলে না ভাতার কার্ড

কুশিয়ারা ভিউ ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ২২ আগস্ট, ২০২১

মানিকগঞ্জে শিবালয় উপজেলার আরুয়া ইউনিয়নের ১,২ ও ৩ নং ওয়ার্ডে সংরক্ষিত মহিলা মেম্বার ফেরদৌসীর বিরুদ্ধে ভাতার কার্ড প্রদানে অবৈধভাবে টাকা গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে। তিনি ইউপি সদস্য নির্বাচিত হয়েই হতদরিদ্রদের বিধবা, বয়স্ক, মাতৃত্বকালীন ভাতার কার্ড দিয়ে দুই হাজার টাকা থেকে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করেছেন।

ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের বয়স্ক ভাতাভোগী ফুলজানের ছেলে লাভলু বলেন, মেম্বারের কাছে যেকোনো বিষয়ে গেলে টাকা ছাড়া কোনো কাজ হয় না। আমার মায়ের বয়স্ক ভাতার জন্য গেলে তিনি আমার কাছে ৩ হাজার টাকা দাবি করে বলেন টাকা দিলেই কার্ড পাওয়া যাবে। তখন আমি বাধ্য হয়ে মায়ের কার্ডে জন্য তাকে দুই হাজার টাকা দিয়েছি। পরে তিনি আমার মাকে কার্ড দিয়েছেন। আমার মা ২ কিস্তিতে ৬ হাজার টাকা উত্তোলনের পর মা মারা যায়। পরে শুনেছি টাকা ছাড়াই এ কার্ড দেয়া হয়। কিন্তু মেম্বার টাকা নিয়েছেন।
আমরা এই ঘুষখোর মেম্বারের বিচার চাই।

ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের বয়স্ক ভাতাভোগী এনাত আলী বলেন, আমি মেম্বারের কাছে বয়স্ক ভাতা চাইলে তিনি আমাকে বলেন আপনি কি টাকা দিতে পারবেন? কোনো উপায় না পেয়ে জীবন বাঁচানোর কথা ভেবে ধার কর্জ করে আমি তাকে ৫ হাজার টাকা দেই। তিনি টাকা নেয়ার ৩ মাস পর আমাকে কার্ড দেয়। আমি কার্ডের ১ম কিস্তি পাওয়ার সময় সে আমার কাছে আবার ৫০০ টাকা চায়। আমি টাকা দিতে না চাইলে সে আমার ভাতার কার্ড বাতিল করে দিবে বলে হুমকি দেয়। পরে আমি বাধ্য হয়ে টাকা দিয়ে দেই।

মাতৃত্বকালীন ভাতাভোগী হামিদুর রহমানের স্ত্রীর পক্ষে তার স্বামী জানান, আমার স্ত্রী যখন গর্ভবর্তী তখন তার মাতৃত্বকালীন ভাতার জন্য মেম্বারের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন কার্ড করতে ৫ হাজার টাকা লাগবে। তিনি কার্ড করে দেয়ার কথা বলে আমার কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা নেয়। আমার সন্তানের বয়স ১ বছর পার হওয়ার পর আমার স্ত্রীকে এ পর্যন্ত কার্ড দেয় নাই। এখন টাকা ফেরত চাইতে গেলে নানা রকম তালবাহানা করে এবং হুমকি দেয়।

অভিযুক্ত সংরক্ষিত মহিলা মেম্বার ফেরদৌসী বলেন, তিনি বিধবা, বয়স্ক, মাতৃত্বকালীন ভাতার কার্ড দিয়ে টাকা নেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, সামনে নির্বাচন তাই প্রতিপক্ষ আমাকে হেয়প্রতিপন্ন করতেই আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করেছে।

আরুয়া ইউপি চেয়ারম্যান মো. আক্তারুজ্জামান খান মাসুম বলেন, এ বিষয়টি আমার জানা নাই। যদি তার বিরুদ্ধে কেউ অভিযোগ করে আমি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবো।

শিবালয় উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা পলাশ হুসাইন বলেন, কার্ড দিয়ে টাকা নেয়ার কোনো বিধান নেই। এ বিষয়ে আমাদের কাছে কেউ অভিযোগ করলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সৌজন্য: আমার সংবাদ






এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ





















© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD
themesbazar_brekingnews1*5k