৭ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ১৫ই সফর, ১৪৪৩ হিজরি



ডিজিটাল মুদ্রা ব্যবস্থা ও সাধারণের ভাবনা

রিপোটারের নাম
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ২০ মার্চ, ২০২১

কিছুদিন আগে ইন্টারন্যাশনাল মানি ফান্ড ( আইএমএফ) কর্তৃক প্রকাশিত ডিজিটাল মুদ্রা ব্যবস্থার বিষয়টি খুব প্রচার করা হয়। যা এমএফএস বা মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের অ্যাপ দিয়ে এখন নিমেষেই অনেক পেমেন্ট করা যাচ্ছে। ফোন রিচার্জ করা থেকে শুরু করে বিদ্যুৎ, গ্যাস বিল পরিশোধ, কেনাকাটার বিল পরিশোধ—সবই করা যাচ্ছে। কিউআর কোডের মাধ্যমে প্রকৃত অর্থেই এটি সহজ হয়েছে। আর এই যে ডিজিটাল পদ্ধতিতে লেনদেন হচ্ছে, সেটা সম্ভব হয়েছে ডিজিটাল মুদ্রার কল্যাণে। গ্রাহকের হিসাবে জমাকৃত ডিজিটাল মুদ্রার বিনিময়ে এই কেনাবেচা সম্ভব হচ্ছে।

                           লেখক

কিন্তু এই সহজ কতদিন ঠিকে থাকবে তা ভাববার বিষয় ! একসময় বিনিময় প্রথা হিসেবে ছিল স্বর্ণ মুদ্রা, রোপ্য এবং বিভিন্ন অপচনশীল দ্রব্য। যেমন- খেজুর ইত্যাদি। সময়ের বিবর্তনে মানুষ বিনিময় প্রথা পরিবর্তন করেছে নিজেদের প্রয়োজনে। আর এ নিজেদের প্রয়োজন গোটা কয়েক লোকের হাতে ঘটেছে। এইতো ষোড়শ শতকের প্রথমার্ধেও বিনিময় প্রথা স্বর্ণ ও রোপ্য মুদ্রা দিয়ে হত। কিন্তু ধর্মীয় কোন্দল আর রাজনৈতিক নিপীড়নের জের ধরে ১৭৮৯ সালে ফরাসি বিপ্লব সংঘটিত হয়। তখন থেকেই মূলত একটি গোষ্ঠী বিনিময় প্রথা বা লেনদেন নিজেদের করায়ত্বে আনার চেষ্টায় ছিল। পরে তারা কাগজের মুদ্রার প্রচলন শুরু করে যা কিনা দুনিয়ার এক অংশে বেশি মূল্যবান আবার আরেক অংশে কম।

গত কিছুদিন আগে যখন তামার কয়েন উঠিয়ে নেওয়া হচ্ছিল তখনও এর পিছনে বড় অর্থনৈতিক গোষ্ঠীর স্বার্থ কাজ করেছিল। যার ফল আজকের ‘ডিজিটাল মুদ্রা’ ব্যবস্থা। ডিজিটাল মুদ্রা ব্যবস্থার সুবিধা অসুবিধা অনেকেই আলোচনা করেছেন। কিন্তু এর ফলে বিশ্বকে যে অর্থনৈতিক দাস করার পায়তারা করছে একটি গোষ্ঠী তাতে কারো কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই গোটা কয়েক সচেতন জ্ঞানী লোক ছাড়া। অনলাইন বা ডিজিটাল মুদ্রা ব্যবস্থার যে নীতি নির্ধারক বা কর্তৃপক্ষ তারা যেভাবে টাকার বিনিময়ে স্বর্ণ, রোপ্য এবং বিভিন্ন খনিজ হাতিয়ে নিয়েছে তা কারো অজানা নয়। এমনকি বিভিন্ন জায়গা থেকে খনিজ সম্পদ উত্তোলনে একটি দেশ বা সম্প্রদায়কে দাস বানিয়ে রাখার নজিরও আছে।

বিভিন্ন দ্রব্যের বিনিময় প্রথা থেকে, স্বর্ণ মুদ্রা, রোপ্য মুদ্রা এরপর কাগজের মুদ্রার প্রচলন ব্যবস্থা সবকিছুই একটি কলকাঠি থেকেই আসছে। এই অনলাইন বা ডিজিটাল মুদ্রা ব্যবস্থা কতটুকু নিরাপদ তা বিবেচ্য বিষয়। আর এসব কিছু একটিমাত্র কর্তৃপক্ষের হাতে সৃষ্টি যারা কিনা এখন সব মূল্যবান পদার্থের মালিক। এই ডিজিটাল মুদ্রা ব্যবস্থার ও যে পতন ঘটবে তা আন্দাজ করা যায় অতীতের ঘটনাবলীর দ্বারা।

যদি তাই ঘটে এই পরিস্থিতিতে আমাদের করনীয় কী? একটাই পথ খোলা আছে তা হলো কৃষি ভিত্তিক অর্থনীতিতে ফিরে যাওয়া তা ছাড়া উপায় নাই। কারন কলকাঠি কিন্তু একটি গোষ্ঠী বা সম্প্রদায়ের হাতে। যারা সারা দুনিয়াকে কলোনিতে রুপান্তর করে নিজেদের শাসন কায়েম করতে চায়। তাই জ্ঞানী লোকদের কাজ হবে কৃষি ভিত্তিক অর্থনীতিতে ফিরে আসা। যেমন – গবাদি পশু পালন করা, স্বর্ণ, রোপ্য কিনে রাখা, আবাদি জমি কিনে রাখা ও চাষ করা এবং ব্যবসায় বিনিয়োগ করা। তাহলে অদূর ভবিষ্যতে নিজেদের অর্থনৈতিক দাস হতে রক্ষা করা যাবে।

লেখক: মো. আরমান হুসাইন

পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগ

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট।

 






এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ





















© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD
themesbazar_brekingnews1*5k