১২ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ ২৭শে নভেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ ৩রা জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৪ হিজরি



তবে কি ভালোবাসা জিতে গেলো

এস.এম.রাহমান জিকু
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ২৪ নভেম্বর, ২০২২


ঐন্দ্রিলা-সব্যসাচী জুটি ইতিহাসে এক যুগান্তকারী অধ্যায় রচনার মধ্যে দিয়ে জীবনের ইতি টানে। যেখানে পৃথিবীর প্রতিটি প্রাণের কোটরে তাঁদের ভালোবাসার রেশ মেখেছে।

সাম্প্রতিক বিশ্বে ভালোবাসা রচনায় পুঁজিবাদী সম্পর্কের রোষানলের ঊর্ধ্বে গিয়ে ঐন্দ্রিলা শর্মা এবং সব্যসাচী চৌধুরীর এমন ভালোবাসার উপাখ্যান ইতিহাসে নজিরবিহীন। বর্তমানে মানুষের মুখে মুখে তাঁদের অপ্রতিরোধ্য ভালোবাসার জয়জয়কার।

২০১৭ সালে ‘ঝুমুর’ ধারাবাহিকের হাত ধরে ঐন্দ্রিলা শর্মার প্রথম অভিনয় জগতে অভিষেক ঘটে। এই সিরিয়ালেই তাঁর বিপরীতে দেখা গিয়েছিলো সব্যসাচী চৌধুরীকে। ঝুমুর সিরিয়ালের বাইরেও ঐন্দ্রিলা শর্মা আরও একাধিক সিরিয়ালে অভিনয় করেন। তার মধ্যে অনন্য হচ্ছে জীবন জ্যোতি, জিয়ন কাঠি ইত্যাদি। অন্যদিকে তিনি ওটিটি প্ল্যাটফর্মেও অভিনয় করেছেন, যেখানে অন্যতম হচ্ছে ভাগাড়, পাঁচফোড়ন ২ ইত্যাদি।

টলিউডে অভিষেকের পূর্বেই ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছিলেন ঐন্দ্রিলা শর্মা। ১৮ তম জন্মদিনে ২০১৫ সালের  ৫ ফেব্রুয়ারি বোনম্যারো ক্যান্সার ধরা পড়ে ঐন্দ্রিলার। এরপর ২০১৬ সালে টানা দেড় বছর ক্যান্সার যুদ্ধে জয়ী হয়ে ঘরে ফিরে ঐন্দ্রিলা। প্রকৃতির ঘূর্ণাবর্তে ২০২১ সালে ফের ফুসফুস ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে পড়ে এই টলিউড অভিনেত্রী। অপারেশন, কেমোর পর তিনি ফের সুস্থ হয়ে উঠেন।

নিয়তির পরিক্রমায় ২০২২ সালের ১ নভেম্বর আচমকা ব্রেন স্ট্রোক করে কোমায় চলে যান ঐন্দ্রিলা। হাসপাতালের বেডে থেকে কিছুটা শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছিল তাঁর। নিয়তির বেড়াজালে ১৬ নভেম্বর পরপর দুবার কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের কবলে পড়েন এই অভিনেত্রী। ভাগ্যের নির্মমতায় ১৯ নভেম্বর ফের ১০ বার কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয় ঐন্দ্রিলার। এভাবেই ২০ নভেম্বর দুপুর ১২ টা ৫৯ মিনিট নাগাদ প্রিয় মানুষ সব্যসাচীর হাত ছেড়ে দেহ থেকে আত্মার বিচ্ছেদ ঘটে ঐন্দ্রিলার। দু’বার ক্যান্সারকে হারিয়েও এবার আর হাসপাতালের বেড থেকে সুস্থ হয়ে ফেরা হলো না ঘরে, মাত্র ২৪ বছর বয়সেই জীবনের চূড়ান্ত অধ্যায়ের টেনে চির ঘুমের দেশে পাড়ি জমালেন টলি অভিনেত্রী ঐন্দ্রিলা শর্মা।

ভালোবাসার নতুন সংজ্ঞা রচনায় অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন এই জীবন্ত কিংবদন্তি ঐন্দ্রিলা-সব্যসাচী জুটি। কেউবা ভালোবাসা পেয়েও মূল্য দিতে ব্যর্থ হয়, আবার কেউবা হাজার চেষ্টা করেও ধরে রাখতে পারে না। ঐন্দ্রিলা শর্মা নিঃসন্দেহে ভাগ্যবতীদের একজন বটে, জীবনের শেষ নিঃশ্বাসের ইতিতেও সব্যসাচীর মতো মানুষের অমর ভালোবাসা পেয়েছিলেন।

ঐন্দ্রিলা-সব্যসাচী জুটির অন্যতম আরেকটি চরিত্র হলেন সব্যসাচী চৌধুরী। ২০১৭ সালে ‘ঝুমুর’ ধারাবাহিকের হাত ধরে এই দুই অভিনেতার দেখা হয়। ঝুমুর ধারাবাহিকে তাঁরা পরস্পর বিপরীতে অভিনয় করেন। তাঁদের অনস্ক্রিন কেমিস্ট্রি মুগ্ধতা ছড়িয়েছিলো ভক্তদের মনে। অফস্ক্রিনেও তাঁদের গাঢ় বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছিলো। ক্যান্সারের দ্বিতীয় স্ট্যাপে ঐন্দ্রিলার হাত শক্ত করে ধরে রেখেছিলেন সব্যসাচী। গোটা লড়াইয়ে ঐন্দ্রিলার সহযোদ্ধা হয়ে পাশে ছিলেন এই সব্যসাচী। বন্ধুকে খাইয়ে দিয়েছিলেন, গল্প পড়ে শুনিয়েছেন, ছোট ছোট ইচ্ছে গুলো পূরণ করেছেন কঠিন মুহূর্ত গুলোতেও ঐন্দ্রিলার অবলম্বন হয়ে উঠেছেন এই সব্যসাচী। এভাবেই মৃত্যু এবং ঐন্দ্রিলার মাঝে দেওয়াল হয়ে দাড়িয়েছিলেন সব্যসাচী। যাতে মুগ্ধ হয়ে অনেকেই প্রশ্ন করেছেন, “এভাবেও ভালোবাসা যায়?”

সব্যসাচী চৌধুরী প্রসঙ্গে দিদি নম্বর ওয়ানের মঞ্চে দাঁড়িয়ে ঐন্দ্রিলা শর্মা বলেন, “চোখ খুলে ওর মুখটা দেখে শান্তি পেয়েছিলাম।” সঞ্চালক রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এক সাক্ষাৎকারে তাঁর জীবনের বিশেষ মানুষ সম্পর্কে প্রশ্ন করতেই ঐন্দ্রিলা শর্মার মুখ উজ্জ্বল হয়ে উঠেছিলো।

ঐন্দ্রিলা শর্মার যতো কথা প্রিয় মানুষ সব্যসাচী চৌধুরী প্রসঙ্গে: “ওর নাম সব্যসাচী চৌধুরী। দিল্লিতে তখন আমার কেমো চলছে। একদিন হাসপাতালের বেডে শুয়েছিলাম, আচমকা চোখ খুলে দেখি ও সামনে দাঁড়িয়ে আছে। কেয়ার করার মানুষকে নিয়ে  আমি অত ভাবতাম না আগে। কিন্তু চোখ খুলে ও-কে দেখার পর একটা শান্তি অনুভব করেছিলাম। কী ফিল করেছিলাম বলে বোঝাতে পারবো না।”

কান্না জড়ানো কন্ঠে ঐন্দ্রিলা শর্মা আরও বলেছিলেন, “আমি শারীরিক কষ্ট অনেক পেয়েছি। কিন্তু মানসিক কষ্ট এক ফোঁটাও ছিলো না।”

ঐন্দ্রিলা শর্মার এই কালজয়ী জীবনের গল্প সারাজীবন আমাদের স্বত্ত্বা জুড়ে বেঁচে থাকুক। ঐন্দ্রিলার হার না মানার এই প্রবণতাকে স্যালুট জানিয়ে আমাদের জীবনের গল্প সাজানো উচিত। কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে সুস্থ হয়ে জিতে ফেরার শক্তি হিসেবে অনুপ্রেরণায় ভেসে উঠুক ঐন্দ্রিলা শর্মার কালজয়ী জীবনের অধ্যায়।


লেখক: এস.এম.রাহমান জিকু

শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম কলেজ।






এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ









All Bangla Newspapers






















© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত২০২২ কপিরাইট © কুশিয়ারা ভিউ টোয়েন্টিফোর ডটকম
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD
themesbazar_brekingnews1*5k