২রা আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ১০ই সফর, ১৪৪৩ হিজরি



দাম নিয়ন্ত্রণে রাখুন

সম্পাদকীয়
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ১৪ আগস্ট, ২০২১

দীর্ঘদিন ধরে চলা করোনা মহামারির সঙ্গে এখন যুক্ত হয়েছে ডেঙ্গুর প্রকোপ।এ ছাড়া অন্য রোগ তো আছেই। দেশের হাসপাতালগুলো রোগীতে পূর্ণ।

স্বভাবতই বেড়েছে ওষুধের চাহিদা। এর সুযোগ নিচ্ছেন অনেক ওষুধ বিক্রেতা। প্রয়োজনীয় অনেক ওষুধের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন তারা।

ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর বলছে, দেড় বছরে কোনো ওষুধের দাম বাড়ানো হয়নি।

ওষুধ কোম্পানিগুলোও বলছে একই কথা। তাহলে বিক্রেতারা কেন ওষুধের দাম বাড়িয়ে সাধারণ মানুষকে বিপাকে ফেলছেন? এটা ঠিক, অর্থনীতির সাধারণ নিয়ম হলো, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকলে পণ্যের দাম বেড়ে যায়। তবে মনে রাখতে হবে, ওষুধ কোনো বিলাসী ভোগ্যপণ্য নয়। এর ওপর মানুষের জীবন-মরণ নির্ভর করে থাকে। এ ক্ষেত্রে ক্রেতার স্বার্থ রক্ষা করা অনেক বেশি জরুরি। করোনার গুরুত্বপূর্ণ কিছু ওষুধের দাম সরকার নির্ধারণ করে দিয়েছে।এরপরও সেসব ওষুধ অনেক বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে।

শুধু দেশে উৎপাদিত ওষুধ নয়, অভিযোগ আছে বিদেশ থেকে আমদানিকৃত করোনার অতি জরুরি ওষুধ বিক্রি করা হচ্ছে কয়েকগুণ দামে।

এটি অত্যন্ত দুঃখজনক যে, মানুষের জীবন যখন বিপন্ন, তখনো ওষুধ নিয়ে কিছু লোকের বাণিজ্যিক মনোবৃত্তি বন্ধ হয়নি। তারা হিসাব করছে লাভের অঙ্ক! এ শুধু অনৈতিকই নয়, অমানবিকও। করোনায় সাধারণ মানুষ খুব কষ্টে আছেন। তাদের অনেকেরই জীবন-জীবিকা বিপন্নপ্রায়। যারা করোনা বা ডেঙ্গুজ্বর অথবা অন্য জটিল রোগে আক্রান্ত হয়েছেন, তাদের অবস্থা আরও সঙ্গিন। এ অবস্থায় সমাজের সবারই দায়িত্ব রয়েছে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো। অন্তত পরিস্থিতির সুযোগ নেয়া কারও উচিত নয়। এ ব্যাপারে সরকারেরও দায়িত্ব রয়েছে। ওষুধের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধির কারণে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর চিকিৎসা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। উপায়ান্তর না দেখে অনেকে ঝুঁকবে ঝাড়ফুঁক আর টোটকা চিকিৎসার দিকে। এতে দেশের স্বাস্থ্যসেবা মুখ থুবড়ে পড়তে
বাধ্য।

চিকিৎসা মানুষের অন্যতম মৌলিক অধিকার। সরকারের দায়িত্ব জনগণের চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা। এ ক্ষেত্রে যাবতীয় প্রতিবন্ধকতা নিরসনে উদ্যোগী হওয়া। ওষুধ কোম্পানিগুলোর অতিমুনাফা প্রবণতার কথা আমরা জানি। তারা দফায় দফায় ওষুধের দাম বাড়াতে
অভ্যস্ত। করোনাকালে ওষুধের দাম না বাড়ানোর জন্য তাদের সাধুবাদ জানাতে হয়। আমরা আশা করব, তাদের এ সিদ্ধান্ত অপরিবর্তিত থাকবে। পাশাপাশি এ সময় যেসব ওষুধের চাহিদা বেশি, সেগুলোর উৎপাদন ও সরবরাহ বাড়িয়ে দিয়ে বাজারে ওষুধের সংকট নিরসনে ভূমিকা রাখবে তারা।

দেশে ওষুধ শিল্প একটি সম্ভাবনাময় খাত হিসাবে বিবেচিত হয়ে আসছে। চাহিদার বেশির ভাগ মিটিয়ে বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে দেশে উৎপাদিত ওষুধ। এ খাতের প্রসার ঘটলে সার্বিকভাবে লাভবান হবে দেশের অর্থনীতি। সেজন্য ওষুধ শিল্পের বিকাশে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা দেয়া হবে, এটাই আমরা চাই। তবে ওষুধের মান ও অভ্যন্তরীণ বাজার নিয়ন্ত্রণের যথাযথ ব্যবস্থা রেখেই যা কিছু করার তা করতে হবে। এ লক্ষ্যে ওষুধের
বাজার নিয়মিত মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা নেয়া জরুরি।

 






এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ





















© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD
themesbazar_brekingnews1*5k