১০ই মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ ২৪শে জানুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ ২১শে জমাদিউস সানি, ১৪৪৩ হিজরি



দুই দফা ভূমিকম্প: দেশ রক্ষায় দ্রুত ব্যবস্থা নিন

সম্পাদকীয়
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ২ ডিসেম্বর, ২০২১

বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনজনিত পরিবেশে ‘ভূমিকম্প ঝুঁকিতে ঢাকা’ এ খবর নতুন নয়। কিন্তু তা থেকে উত্তরণে আমাদের করণীয় সম্পর্কে ব্যবস্থা গ্রহণ এখনি নিতে হবে।

সাম্প্রতিক সময়ে উপর্যুপরি দুই দফা ভূমিকম্প সংঘটিত হলো, যা জনমনে এক অজানা আতঙ্কের জন্ম দিয়েছে। গত ২৬ নভেম্বর ভোর ৫টা ৪৫ মিনিটে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে রিখটার স্কেলে ৫ দশমিক ৮ মাত্রায় ভূমিকম্প অনুভূত হয়।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের সূত্রমতে, এই ভূ-কম্পন ছিল বাংলাদেশের পূর্ভ ও দক্ষিণ-পূর্ব ভারত ওময়িানমার সীমান্তে।

যুক্তরাষ্ট্রের পর্যবেক্ষক সংস্থা ইউএসজিএস-এর ওয়েবসাইট থেকে জানা যায়, মূলত এর উৎপত্তিস্থল ছিল মিয়ানমারে, রিখটার স্কেলে যার মাত্রা ছিল ৬.১। কিন্তু এর রেশ কাটতে না কাটতেই গত শনিবার বিকাল ৩টা ৪৭ মিনিট ১৬ সেকেন্ডে শুধু চট্টগ্রামে মৃদু ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ৪ দশমিক ২ বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর।

তাদের তথ্যমতে, এই ভূমিকম্পটিরও উৎপত্তিস্থল ছিল মিয়ানমার-ভারত সীমান্তে। সুতরাং বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত প্রাকৃতিক দুর্যোগ ভূমিকম্পকে আমাদের গুরুত্ব সহকারে বিবেচনার সময় এসেছে।

বলা হচ্ছে, বড় ধরনের ভূমিকম্প হলে মানচিত্র থেকে ঢাকা চিরতরে মুছে যাওয়ার আশঙ্কাও করা হচ্ছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ শীর্ষ ১০ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৫ নম্বরে। গবেষকরদের মতে, এই ঝুঁকির কারণ ভূ-অভ্যন্তরে তিনটি গতিশীল প্লেটের সংযোগস্থলে বাংলাদেশের অবস্থান। এই তিনটি গতিশীল আর এগুলোর মধ্যে সিলেট ও পার্বত্য চট্টগ্রাম সীমান্তের ভূ-অভ্যন্তরে যে শক্তি সঞ্চিত হয়েছে তা বড় মাত্রার ভূমিকম্পের কারণ হতে পারে। ফলে রাজধানীতে আঘাত হানতে পারে সাড়ে ৭ থেকে ৮ রিখটার স্কেলের ভূমিকম্প। এতে চোখের পলকে ধসে যাবে রাজধানীর ৮৮ শতাংশ ভবন, আর ৩৫ শতাংশ ভবন হবে ব্যবহারের অনুপযোগী।

এ ধরনের ভূমিকম্পে রাজধানী ঢাকা ছাড়াও চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহসহ দেশের অন্যান্য জেলাও ধ্বংসস্তূপে পরিণত হতে পারে। সুতরাং আমরা বলতেই পারি- শুধু ঢাকা নয়, এহেন পরিস্থিতিতে ভূমিকম্প ঝুঁকিতে রয়েছে গোটা বাংলাদেশ।

অধিক জনসংখ্যা, অপরিকল্পিত আর ঝুঁকিপূর্ণ আবাসন নিয়ে ভূমিকম্প মোকাবিলায় আমরা কতটা প্রস্তুত রয়েছি। এই ভাবনা তাড়িত করছে দেশের সচেতন মানুষকে। গত ৮০-৮১ বছরে কোনো বড় ভূমিকম্প হয়নি। তাই যে কোনো সময় এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ আমাদের ওপর আঘাত হানতে পারে।

এখন আমাদের প্রয়োজন আগাম প্রস্তুতি নেওয়া। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ভূমিকম্প রোধ করা সম্ভব নয়, তবে আমরা প্রকৃতির ওপর অবিচার করে নিজেরাই যেন ভূমিকম্প ডেকে না আনি, সে বিষয়েও সতর্ক থাকার কোনো বিকল্প নেই।

বিল্ডিং কোড মেনে না চলা, বন উজাড়ু, পাহাড় কেটে ধ্বংস করাসহ নানা উপায়ে আমরা যেন ভূমিকম্প নামক মহা বিপদকে ডেকে আনছি। একই সঙ্গে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে ভূমিকম্পের কারণে সৃষ্ট ভূকম্পনেও বাংলাদেশের ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে বলেও বিশ্লেষকরা বলছেন।

এক্ষেত্রে নতুন ভবন নির্মাণে সরকারি তদারকি আরো বাড়ানো প্রয়োজন। বার বার ভূমিকম্প এ কথাই যেন স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে যে, দুর্যোগ মোকাবিলায় আমরা আসলে কতোটা প্রস্তুত। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় বলা হয়েছে সাড়ে ৭ মাত্রার ভূমিকম্পে বাংলাদেশে প্রায় ২ থেকে ৩ লাখ মানুষের প্রাণহানি ঘটবে।

সুতরাং বিল্ডিং কোড না মানার পাশাপাশি ওয়াসা তার সরবরাহকৃত পানির পুরোটাই তুলছে ভূগর্ভ থেকে। এতে ভূগর্ভস্থ মাটি, পলির প্রকৃতিতেও বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। ফলে ঢাকা বিশ্বের অন্যান্য মেগাসিটির তুলনায় বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। উপরন্তু অপরিকল্পিত ভবন নির্মাণের ফলে হঠাৎ ভূমিকম্পের কারণে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা সম্ভব হবে না বিধায় গ্যাস লাইনে ফাটল ও শর্টসার্কিটের মতো ঘটনাও ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে ভূমিধসের পাশাপাশি অগ্নিকাণ্ডও ভূমিকম্পের মাত্রাকে বাড়িয়ে তুলবে।

এমতাবস্থায় ভূমিকম্প-পরবর্তী দুর্যোগ মোকাবিলায়ও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি এখনই নিতে হবে। আশা করি, এই ভয়ংকর দুর্যোগ থেকে দেশবাসীকে রক্ষায় সরকার দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।






এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ





















© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD
themesbazar_brekingnews1*5k