৩রা জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ ১৭ই মে, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ ১৬ই শাওয়াল, ১৪৪৩ হিজরি



দ্বিগুণেরও বেশি গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব: অগ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্ত বন্ধ করুন

সম্পাদকীয়
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২২
ফাইল ছবি

জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির প্রভাব বাজারদর থেকে পরিবহন সর্বত্র হওয়ায় সাধারণ মানুষের জীবন ও জীবিকা আজ কঠিন হয়ে পড়েছে। এরই মধ্যে আবারও গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি যেন এসব ভুক্তভোগী মানুষের জীবনে ‘মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা’। বিভিন্ন যুক্তিতে গত ৬ বছরে গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে তিনবার। গড়ে প্রতি দুই বছরে একবার করে দাম বাড়ানো হয়েছে। প্রতি বছর ২৫ থেকে ৩৫ শতাংশ মূল্য বৃদ্ধি করা হলেও এবার দ্বিগুণ মূল্য বৃদ্ধির প্রস্তাবে চরম ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা। পাশাপাশি রাজধানীর অনেক এলাকায় গ্যাস সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন না হওয়ায় মূল্য বৃদ্ধি প্রস্তাবে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা।

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) সূত্রে জানা যায়, এর মধ্যেই বিতরণ সংস্থা বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড প্রস্তাব জমা দিয়েছে। কোম্পানিটি নোয়াখালী, কুমিল্লা এবং চাঁদপুর জেলায় গ্যাস বিতরণ করে। বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড তাদের প্রস্তাবে এক চুলা ৯২৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ হাজার টাকা এবং দুই চুলা ৯৭৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২১০০ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছে। এছাড়া আবাসিক পর্যায়ে প্রিপেইড মিটার ব্যবহারকারী গ্রাহকদের প্রতি ঘনমিটারের বর্তমান মূল্য ১২.৬০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৭.৩৭ টাকা নির্ধারণ করার প্রস্তাব করেছে। সিএনজি প্রতি ঘনমিটার ৩৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭৬.০৪ টাকা, হোটেল রেস্টুরেন্টে ২৩ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪৯.৯৭ টাকা, ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্পে ১৭.০৪ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩৭.২ টাকা, ক্যাপটিভ পাওয়ারে ১৩.৮৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০.০৯ টাকা এবং চা শিল্পে ১০.৭০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৩.২৪ টাকা করার প্রস্তাব করেছে। আরো প্রস্তাব করা হয়েছে বিদ্যুৎ ও সার কারখানায় থাকা বর্তমানে ৪.৪৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৯.৬৬ টাকা।

বিইআরসি সূত্রে জানা যায়, প্রতি ঘনমিটার তরলিকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি খরচ ৩৬ দশমিক ৬৯ টাকা। কিন্তু মুসক, অগ্রিম আয়কর, ফিন্যান্সিং চার্জ, ব্যাংক চার্জ, কমিশন, রি গ্যাসফিকেশন চার্জ, ভোক্তা পর্যায়ে উৎসে কর সব মিলিয়ে মোট খরচ ৫০.৩৮ টাকা। এই বাড়তি মূল্য বিতরণ কোম্পানির ওপরে বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। যে কারণে ভোক্তা পর্যায়ে দাম না বাড়িয়ে বিকল্প উপায় দেখছে না কর্তৃপক্ষ। কিন্তু কথা হচ্ছে, প্রতিবারই নিরীহ জনগণের ওপর কেন এই খড়গ! সরকারের কোনো একটি খাত সফলতার মুখ দেখতে পায় না। সিস্টেম লস সর্বত্র। এর হেতুটা কোথায়? সেসব না খুঁজেই সাধারণ মানুষের ওপর বোঝা চাপিয়ে কর্তৃপক্ষ নিশ্চিন্তে থাকতে চান যেন! গ্যাস ও বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটার কোন ইশারায় দেওয়া বন্ধ হয়েছে তা জনগণ জানতে চায়। বরং এটিই ছিল সাধারণ মানুষের জন্য সাশ্রয়ী। তারপরও দুর্নীতির এই দেশে সেখানেও মাঝে মাঝে ভূতুড়ে কারসাজির দেখা মেলে। কিন্তু তা এখনো সহনীয় মাত্রায় রয়েছে।

বর্তমানে দ্বিগুণের বেশি দাম বাড়ানোর ক্ষেত্রে যুক্তি হিসেবে বলা হচ্ছে, জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক মূল্য অনেক বেড়েছে। পাশাপাশি জ্বালানি খাতে সরকারের দেওয়া ভর্তুকির পরিমাণ কমেছে। তবে এ যুক্তি নাকচ করে দিয়ে জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গ্যাস খাতের দুর্নীতি রোধ, মীমাংসিত সামুদ্রিক ব্লক ও স্থলভাগে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান ও উত্তোলন চুক্তিতে ব্যর্থতার কারণেই গ্যাস খাতে ভর্তুকি টানতে হচ্ছে। এসব বন্ধ না করে গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি করাটা অগ্রহণযোগ্য।

বিশেষজ্ঞ অভিমতের সঙ্গে এ খতাও প্রযোজ্য যে, রাজধানীর টিকাটুলি, গোলাপবাগ, মোহাম্মদপুর, মিরপুর, পল্লবী, খিলগাঁও, যাত্রাবাড়ীসহ অনেক এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে গ্যাস সংকটে ভুগছেন ওইসব এলাকার বাসিন্দারা। এর ওপর গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি আমাদেরকে হতাশ করেছে। সরকারের উচিত জনগণের স্বার্থ সবার আগে দেখা। কিন্তু তা না করে জনগণের স্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে, যা সরকারের অন্যান্য সাফল্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে। সুতরাং গ্যাসের দাম বৃদ্ধির বিষয়টি পুনরায় বিবেচনার অনুরোধ জানাচ্ছি।






এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ











All Bangla Newspapers



অনলাইনে বাংলাদেশের সকল পত্রিকা পড়ুন…













© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD
themesbazar_brekingnews1*5k