২১শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ ৬ই ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ২রা জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৩ হিজরি



দ্বিগুণ দামে ফের নিলামে বিক্রি হলো ফেঞ্চুগঞ্জ সারকারখানা

ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ১৩ আগস্ট, ২০২১

দ্বিগুণ দামে ফের নিলামে বিক্রি হলো এশিয়ার প্রথম সার কারখানা ‘ন্যাচারাল গ্যাস ফার্টিলাইজার ফ্যাক্টরি লিমিটেড’ (এনজিএফএফ)। ফেঞ্চুগঞ্জ সার কারখানা নামেই এটি বেশি পরিচিত।

গত বুধবার (১১ আগস্ট) সর্বোচ্চ দরদাতা প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিলামে মেসার্স সাইদুর রহমান ২১১ কোটি ৪০ লাখ ২৫ হাজার টাকা দিয়ে পুরাতন সার কারখানাটি স্ক্র্যাপ হিসাবে কিনে নেন।

এদিন দুপুরে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পক্ষে মহাব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) সেরনিয়াবাত রেজাউল বারী সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির নাম ঘোষণা করেন।

দরপত্রে অংশগ্রহণকারীদের সামনে বাছাইয়ের সময় উপস্থিত ছিলেন এনজিএফএফ-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওমর ফারুক ও দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির চেয়ারম্যান এনজিএফএফ-এর জিএম (প্রশাসন) এ টি এম বাকী।

এর আগে গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর এনজিএফএফ বিক্রির জন্য দরপত্র আহ্বান করে কর্তৃপক্ষ। ওই সময় মেসার্স আতাউল্লাহ গ্রুপ সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে ১০৩ কোটি ৭৫ হাজার টাকা দিয়ে কারখানাটি স্ক্র্যাপ হিসাবে কিনে নেন। কিন্তু নিয়মমাফিক টাকা জমা না দেওয়ায় এটি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। আদালতের বেঁধে দেওয়া সময়েও টাকা জমা দিতে না পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। অবশেষে পুনরায় নিলামের সিদ্ধান্ত নেয় শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ বিসিআইসি।

ফেঞ্চুগঞ্জ সার কারখানার মহাব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) সেরনিয়াবাত রেজাউল বারী ২৫ মে ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওমর ফারুক-এর পক্ষে দরপত্র আহ্বান করেন। পরদিন ২৬ মে দরপত্র আহ্বান করে বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি প্রচার করা হয়। কিন্তু করোনা’র কারণে পূর্ব নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী ৪ জুলাইয়ের পরিবর্তে ১৫ জুলাই অফিস চলাকালীন পর্যন্ত দরপত্র বিক্রি এবং জমাদান ৫ জুলাইয়ের পরিবর্তে ১৮ জুলাই সকাল সাড়ে ১১টায় নির্ধারণ হয়। এছাড়া দরপত্র খোলা ৫ জুলাইয়ের পরিবর্তে ১৮ জুলাই দুপুর ২টায় নির্ধারণ করা হয়।

করোনাভাইরাসের প্রকোপের কারণে আরেক দফা পিছিয়ে দরপত্র বিক্রয় ১৫ জুলাইয়ের পরিবর্তে ১০ আগস্ট অফিস চলাকালে এবং দরপত্র গ্রহণ/জমাদান ১৮ জুলাইয়ের পরিবর্তে ১১ আগস্ট নির্ধারণ হয়। এদিন দুপুরে টেন্ডার খোলা হয়।

জানা যায়, ১৯৬১ সালে সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার মাইজগাঁও ইউনিয়নে স্থাপন করা হয় ‘ন্যাচারাল গ্যাস ফার্টিলাইজার ফ্যাক্টরি লিমিটেড’। জাপানের কোবে স্টিল কোম্পানি এটিকে জাপানি প্রযুক্তি দ্বারা নির্মাণ করে। শুরুতে এই কারখানা থেকে প্রতিদিন গড়ে ৩০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার উৎপাদন হতো।

১৯৬৯ সালে কারখানাটিতে এমনিয়াম সালফেট প্ল্যান্ট স্থাপন করা হয়। দেশের সারের চাহিদা পূরণে  একসময় এই কারখানাটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও দিন দিন যন্ত্রপাতি পুরনো হয়ে যাওয়ায় ও প্রযুক্তির দিক দিয়ে পিছিয়ে পড়ায় কমতে থাকে উৎপাদন। এদিকে দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা সারকারখানাটি সংস্কার করে পুনরায় চালু না করে বিক্রির সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।

 






এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ





















© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD
themesbazar_brekingnews1*5k