১০ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ ২৬শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ২০শে রবিউল আউয়াল, ১৪৪৩ হিজরি



দ্রুত প্রকল্পের কাজ শেষ করতে হবে

সম্পাদকীয়
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ৩১ আগস্ট, ২০২১

রাজধানীর যানজট নিরসনে জরুরি প্রকল্প হিসেবে মেট্রোরেল ও ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে বা উড়াল সড়ক প্রকল্প নেয়া হয়। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে এ দুটি প্রকল্পের নির্মাণকাজের কারণে সড়কে এমন যানজট ও ধূলিময় অবস্থা হয়েছে যে, সুস্থ মানুষের পক্ষে এখন পথচলা দায় হয়ে গেছে। ধুলার কারণে মানুষের শ্বাসকষ্ট বাড়ছে, যানজটের কারণে নষ্ট হচ্ছে কর্মঘণ্টা। এতকিছুর পর যদি প্রকল্পগুলো দ্রুততম সময়ের মধ্যে শেষ হতো, তবুও কিছুটা স্বস্তি পাওয়া যেত।

বিমানবন্দর থেকে মিরপুর, পল্লবী হয়ে মতিঝিল পর্যন্ত মেট্রোরেলের কাজ অনেকটা এগিয়ে গেছে। পরীক্ষামূলক ট্রেন চলাচলও করছে পল্লবী থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত। আশা করা যাচ্ছে আগামী বছরের জুন নাগাদ বিমানবন্দর থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত মেট্রোরেল যাত্রী নিয়ে চলাচল করবে।
কিন্তু উড়াল সেতু নির্মাণের কাজ সাড়ে তিন বছরে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও গত ১০ বছরের বেশি সময় পার হয়ে গেছে। কাজের সার্বিক অগ্রগতি মাত্র ২৮ শতাংশ। পুরো কাজ কবে শেষ হবে- তা নিয়েও বাড়ছে সংশয়।

সরকারি হিসাব বলছে, উড়াল সড়কটি চালু হলে যানবাহন ৮০ কিঃমিঃ গতিতে চলতে পারবে। এ হিসেবে বিমানবন্দর এলাকা থেকে। কুতুবখালী যেতে মোটামুটি ২০ মিনিট সময় লাগবে। পুরো পথে মোট ১৫টি ওঠার ও ১৬টি নামার জায়গা থাকবে। এর পাশাপাশি ফার্মগেট হয়ে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ এবং কাঁটাবন হয়ে পলাশী মোড় পর্যন্ত উড়ালপথে দুটি সংযোগ সড়কও থাকবে। ফলে সুফল পাবেন ওই এলাকাবাসীরা।

২০১১ সালের ৩০ এপ্রিল এ প্রকল্পের নির্মাণকাজ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর আরও দুবার নির্মাণকাজ উদ্বোধন করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

শুরুতে এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছিল ১১ হাজার ৯২০ কোটি টাকা, যা বর্তমানে আরও এক হাজার ৯৩৮ কোটি টাকা বেড়েছে।

উড়াল সেতুর কাজ হচ্ছে তিন ভাগে। প্রথম ভাগ বিমানবন্দর থেকে বনানী পর্যন্ত সাড়ে ৭ কিঃমিঃ । দ্বিতীয় ভাগ বনানী থেকে মগবাজার রেলক্রসিং পর্যন্ত ৬ কিঃমিঃ এর কিছু কম। তৃতীয় ভাগ মগবাজার থেকে কুতুবখালী পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৬ কিঃমিঃ। সেতু বিভাগের দরপত্র অনুযায়ী ১০ বছরে সার্বিক কাজ মাত্র ২৫ শতাংশ হলেও বিমানবন্দর থেকে বনানী পর্যন্ত অগ্রগতি ৬৫ শতাংশের মতো। বনানী থেকে মগবাজার পর্যন্ত কাজ চলছে। বাকি অংশের কাজ শুরু হয়নি।

থাইল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ইতালিয়ান থাই ডেভেলপমেন্ট কোম্পানিকে (যা ইতাল থাই নামে পরিচিত) ২০১১ সালের জানুয়ারিতে প্রজেক্টটির দায়িত্ব দেয় সরকার। কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিলো ২০১৪ সালে। কিন্তু এ সময়ের মধ্যে কাজ শুরুই হয়নি।

ইতাল থাইকে কাজ দেয়া হয়েছিল নিজের টাকা বিনিয়োগ করার শর্তে। কিন্তু তারা প্রয়োজনীয় টাকা জোগাড় করতেই সময় লাগিয়েছে ৯ বছর। এজন্য প্রকল্প ব্যয় বেড়ে গেছে। সেতু তৈরির পর যান চলাচল শুরু হলে তারা টোল তুলে তাদের বিনিয়োগের টাকা তুলে নেবে। সময় পেছানোর কারণে উড়াল সেতু নির্মাণের আসল উদ্দেশ্য সফল হয়নি। বরং ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সরকারের বাড়তি টাকা দিতে হবে। দ্রুত কাজ শেষ করার সব ধরনের সুযোগ থাকার পরও তা টাকার জন্য করা সম্ভব হয়নি। তাই এখন আর সময়ক্ষেপণ নয়, যত দ্রুত সম্ভব প্রকল্পের কাজ করতে হবে। এজন্য সরকারকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।






এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ





















© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD
themesbazar_brekingnews1*5k