১১ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ১৯শে সফর, ১৪৪৩ হিজরি



ধান্দাবাজদের বিদায় করতে হবে

সম্পাদকীয়
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ২৮ জুলাই, ২০২১

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া সংগঠন আওয়ামী লীগ আজ বঙ্গবন্ধুকন্যার নেতৃত্বে একযুগ ধরে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আর এদিকে দলের লীগ শব্দটি ব্যবহার করে নানা নামসর্বস্ব সংগঠন গড়ে নানা ধান্দাবাজিতে লিপ্ত। সংগঠনের নামের আগে ‘লীগ’ ও বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্য কিংবা মুক্তিযোদ্ধার নাম ব্যবহার করে আট শতাধিক সংগঠন গড়ে উঠেছে বলে গণমাধ্যমে প্রকাশ।

অনুমোদনহীন এসব রাজনৈতিক দোকান গড়ে তোলার মূল উদ্দেশ্য চাদাবাজি-টেন্ডারবাজি, তদবির ও কমিটি বাণিজ্য। এসব সংগঠনের নেতারা নানা সময়ে বিতচিত কর্মকাণ্ডে আলোচনায় এলেও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।

ধান্দাবাজির এসব দোকানের নেতাদের
কর্মকাণ্ডে এখন বিব্রত আওয়ামী লীগ হাইকমান্ড। খোদ দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এসব রাজনৈতিক দোকান নামে অভিহিত করেছেন। আর এ কথা তো সত্য, যেকোনো দলের নামের শেষে লীগ যোগ করলেই কি আওয়ামী লীগের সহযোগী বা অঙ্গ সংগঠন হয়ে যাবে তা তো নয়। সমর্থক বা ভাতৃপ্রতিম সংগঠন হতে হলে তো মূল দলের অনুমোদন থাকা লাগবে।

‘বাংলাদেশ চাকরিজীবী লীগ’ নামে একটি ধান্দাবাজির সংগঠন . খুলে আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক উপ-কমিটির থেকে বহিষ্কার হয়েছেন গত ২৪ জুলাই ব্যবসায়ী হেলেনা জাহাঙ্গীর। একই সাথে তাকে কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

এ থেকে বোঝা যাচ্ছে অবশেষে আওয়ামী লীগ নেতাদের ঘুম ভাঙছে। নামের আগের লীগ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অথবা বঙ্গবন্ধুর পরিবারের সদস্যদের নাম আর ব্যবহার করা যাবে না বলে নির্দেশনা জারি করা এখন সময়ের দাবি।

 


প্রথম আলো পত্রিকার  সূত্র অনুযায়ী:

আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সূত্র বলছে, সাম্প্রতিক সময়ে গজিয়ে ওঠা, বিশেষ করে আওয়ামী লীগ টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর আরও বেশ কিছু সংগঠন হয়েছে। গত প্রায় এক যুগে গড়ে ওঠা এমন ৭৩টি সংগঠনের নাম পেয়েছে দলটি।

আওয়ামী লীগই বলছে, এর বাইরে আরও অনেক সংগঠন আছে, যেগুলোর কথা তাদের জানা নেই। সুযোগসন্ধানী এসব সংগঠনের সঙ্গে আওয়ামী লীগের কোনো সম্পর্ক নেই।

এমন সংগঠনগুলো হলো—

১.জননেত্রী শেখ হাসিনা কেন্দ্রীয় লীগ, ২. জননেত্রী শেখ হাসিনা কেন্দ্রীয় সংসদ, ৩. আওয়ামী প্রচার লীগ, ৪. আওয়ামী সমবায় লীগ, ৫. আওয়ামী তৃণমূল লীগ, ৬. আওয়ামী ছিন্নমূল হকার্স লীগ, ৭. আওয়ামী মোটরচালক লীগ, ৮. আওয়ামী তরুণ লীগ, ৯. আওয়ামী রিকশা মালিক-শ্রমিক ঐক্য লীগ, ১০. আওয়ামী যুব হকার্স লীগ, ১১. আওয়ামী মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগ, ১২. আওয়ামী পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধা লীগ, ১৩. আওয়ামী পরিবহন শ্রমিক লীগ, ১৪. আওয়ামী নৌকার মাঝি শ্রমিক লীগ, ১৫. আওয়ামী ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী লীগ, ১৬. আওয়ামী যুব সাংস্কৃতিক জোট, ১৭. বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও চেতনা গবেষণা পরিষদ, ১৮. বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগ, ১৯. বঙ্গবন্ধু একাডেমি, ২০. বঙ্গবন্ধু নাগরিক সংহতি পরিষদ, ২১ ওলামা লীগ, ২২. বঙ্গবন্ধু লেখক লীগ, ২৩. বঙ্গবন্ধু প্রজন্ম লীগ, ২৪. বঙ্গবন্ধু যুব পরিষদ, ২৫. বঙ্গবন্ধু ছাত্র পরিষদ, ২৬. বঙ্গবন্ধু স্মৃতি সংরক্ষণ পরিষদ, ২৭. বঙ্গবন্ধু বাস্তুহারা লীগ, ২৮. বঙ্গবন্ধু আওয়ামী হকার্স ফেডারেশন, ২৯. বঙ্গবন্ধুর চিন্তাধারা বাস্তবায়ন পরিষদ, ৩০. বঙ্গবন্ধু ডিপ্লোমা প্রকৌশলী পরিষদ, ৩১. বঙ্গবন্ধু গ্রাম ডাক্তার পরিষদ, ৩২. বঙ্গবন্ধু নাগরিক সংহতি পরিষদ, ৩৩. বঙ্গবন্ধু লেখক লীগ, ৩৪. বঙ্গবন্ধু গবেষণা পরিষদ, ৩৫. বঙ্গবন্ধু আদর্শ পরিষদ, ৩৬. আমরা মুজিব সেনা, ৩৭. আমরা মুজিব হব, ৩৮. চেতনায় মুজিব, ৩৯. বঙ্গবন্ধুর সৈনিক লীগ, ৪০. মুক্তিযোদ্ধা তরুণ লীগ,

৪১. নৌকার সমর্থক গোষ্ঠী, ৪২. দেশীয় চিকিৎসক লীগ, ৪৩. ছিন্নমূল মৎস্যজীবী লীগ, ৪৪. ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী লীগ, ৪৫. নৌকার নতুন প্রজন্ম, ৪৬. ডিজিটাল ছাত্রলীগ, ৪৭. ডিজিটাল আওয়ামী প্রজন্ম লীগ, ৪৮. ডিজিটাল আওয়ামী ওলামা লীগ, ৪৯. বাংলাদেশ আওয়ামী পর্যটন লীগ, ৫০. ঠিকানা বাংলাদেশ, ৫১. জনতার প্রত্যাশা, ৫২. রাসেল মেমোরিয়াল একাডেমি, ৫৩. জননেত্রী পরিষদ, ৫৪. দেশরত্ন পরিষদ, ৫৫. বঙ্গমাতা পরিষদ, ৫৬. বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব পরিষদ, ৫৭. আমরা নৌকার প্রজন্ম, ৫৮. আওয়ামী শিশু যুবক সাংস্কৃতিক জোট, ৫৯. তৃণমূল লীগ, ৬০. একুশে আগস্ট ঘাতক নির্মূল কমিটি, ৬১. আওয়ামী প্রচার লীগ, ৬২. সজীব ওয়াজেদ জয় লীগ, ৬৩. বাংলাদেশ তথ্যপ্রযুক্তি লীগ, ৬৪. আওয়ামী শিশু লীগ, ৬৫. আওয়ামী তৃণমূল লীগ, ৬৬. আওয়ামী তরুণ প্রজন্ম লীগ, ৬৭. আওয়ামী চাকরিজীবী লীগ, ৬৮. বাংলাদেশ জনসেবা লীগ, ৬৯. আওয়ামী শিশু-কিশোর লীগ, ৭০ অভিভাবক লীগ, ৭১ উদ্যোক্তা লীগ, ৭২. আওয়ামী অনলাইন লীগ এবং ৭৩. বিশ্ব আওয়ামী অনলাইন লীগ।


 

আওয়ামী লীগ সূত্র মতে, দলীয় সহযোগী সংগঠন হচ্ছে যুবলীগ, মহিলা লীগ, কৃষক লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, যুব মহিলা লীগ, তাঁতী লীগ, আওয়ামী লীগ আইনজীবী পরিষদ ও মৎস্যজীবী লীগ।

এ ছাড়াও ভাতৃপ্রতিম সংগঠন হচ্ছে জাতীয় শ্রমিক লীগ ও ছাত্রলীগ। মহিলা শ্রমিক লীগ ও স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ আওয়ামী লীগের নীতিগত অনুমোদিত সংগঠন।

এর বাইরে আওয়ামী লীগের সহযোগী বা ভাতৃপ্রমিক কোনো সংগঠন নেই। তবে দল ক্ষমতায় দীর্ঘদিন থাকায় নামসর্বস্ব অনেক সংগঠন গড়ে উঠেছে লীগ শব্দজুড়ে অথবা বঙ্গবন্ধু-বঙ্গমাতা শেখ রাসেল ও বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যদের নাম জুড়ে দিয়ে। এমনকি মুক্তিযোদ্ধাদের নাম যুক্ত করে অনেক সংগঠন গড়ে উঠছে। এমন কোনো পেশা নেই যার নামে শীগ জুড়ে তারা সংগঠন গড়ে নিজেদের আখের গোচ্ছাচ্ছেন। আন্দোলন-সংগ্রামে আর মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী সংগঠন আওয়ামী লীগ যখন বিরোধী দলে ছিলো তখন তাদের পক্ষে কথা বলার জন্য হাতেগোনা কয়েকটি সংগঠন ছিলো। এখন ক্ষমতার নরম হালুয়া আর গরম রুটির ভাগ নিতে ধান্দাবাজদের সমাবেশ ঘটছে।

ধান্দাবাজদের আইনের আওতায় এনে দলীয় সংবিধান অনুসারে গঠিত অঙ্গ সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলোর নেতৃত্ব কাউন্সিলের মাধ্যমে নির্বাচিত করে ধান্দাবাজদের ঝেটিয়ে বিদায় করতে হবে।






এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ





















© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD
themesbazar_brekingnews1*5k