২রা কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ ১৮ই অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ১২ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৩ হিজরি



নকল ওষুধে বাড়ে মৃত্যুঝুঁকি

সম্পাদকীয়
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ২৫ আগস্ট, ২০২১

অসুস্থতা থেকে রক্ষা পেতে বা যে কোনো রোগ সারাতে ওষুধের বিকল্প নেই। কিন্তু জীবন রক্ষাকারী ওষুধে ভেজাল বা মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ সেবনে সুস্থতা তো আসবেই না, বরং মৃত্যুঝুঁকি বাড়ে। এ কথা সবাই জানার পরও কেউ কেউ অধিক মুনাফার লোভে ভেজাল ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধের ব্যবসা চালিয়ে আসছে।

মাঝেমধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে নকল ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রির দায়ে জরিমানা করলেও এ থেকে সংশ্লিষ্টদের ফিরিয়ে আনা সম্ভব হচ্ছে না।

মিটফোর্ড হাসপাতালকে কেন্দ্র করে দেড়শ বছর আগে এখানে ওষুধ ব্যবসাকেন্দ্র গড়ে ওঠে। এখান থেকেই এক সময় সারা দেশে পাইকারি ওষুধ সরবরাহ করা হতো। কিন্তু ওষুধ কোম্পানিগুলো তাদের প্রতিনিধিদের মাধ্যমে সরাসরি সারা দেশে ওষুধ সরবরাহ করা শুরু করলে এ মার্কেট অনেকটা জৌলুস হারিয়ে ফেলে। কিন্তু বিদেশি ও নামিদামি ব্র্যান্ডের ওষুধের জন্য এ মার্কেটই এখনো নির্ভরযোগ্য মনে করেন অনেকে।

আর এ সুযোগে অসাধু একটি চক্র নকল ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রির সাথে যুক্ত হয়ে আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়ে উঠেছে। মিটফোর্ড এলাকার বিল্লাল শাহ মার্কেটের পাইকারি ওষুধ ব্যবসায়ী মো. রবিন তেমন একজন। অর্ধশতাব্দী ধরে ওষুধ ব্যবসা করে মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির নেতা হতে না পারলেও মো. রবিন মাত্র পাঁচ বছর ব্যবসা করে ফুলে-ফেঁপে উঠেছেন এবং ব্যবসায়ীদের মধ্যে প্রভাবশালী ব্যক্তি হয়ে উঠেছেন। এখন তিনি মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক। তার উত্থান নিয়ে মার্কেটে নানা কানাঘুষা থাকলেও তার বিরুদ্ধে কেউ টু শব্দ করার সাহস রাখেন না।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) গত ১২ জুলাই তাকেসহ এ চক্রের ৮ জনকে গ্রেফতার করেছে।

তদন্ত করে ডিবি বলছে, রবিন দেশের জেলা ও উপজেলায় জীবনরক্ষাকারী ওষুধের নামে বিভিন্ন ভেজাল ওষুধ ছড়িয়ে দিচ্ছে। সাভার, পিরোজপুর ও নীলফামারীতে চারটি কারখানায় এসব ভেজাল ওষুধ তৈরি করা হয়। এগুলোর মধ্যে সাভার ও পিরোজপুরের দুটি কারখানায় অভিযান চালানো হয়েছে।

নীলফামারীর সৈয়দপুরে অবস্থিত ভেজাল ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানটিতে অভিযান চালানো না হলেও তদন্ত সংশ্লিষ্টরা খোঁজ-খবর নিয়ে নিশ্চিত হয়েছেন, আতিয়ার নামের এক কেমিস্ট ওই কারখানার মালিক এবং তার ফর্মুলাতেই দেশের সব স্থানে ভেজাল ওষুধ প্রস্তুত করা হয়।

অন্যদিকে প্রস্তুতকৃত ভেজাল ওষুধের মোড়ক এতো নিখুঁতভাবে তৈরি করা হয় যে, দেখে সহজে কারো পক্ষে সন্দেহ করা সম্ভব নয়। চলমান সময়ে জীবনযুদ্ধে টিকে থাকা খুব কঠিন হলেও শারীরিক অসুস্থতার জন্য চিকিৎসাসেবা নিতে হয়। বিপুল অঙ্কের অর্থ খরচ করে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর নকল ওষুধ সেবন করে জীবনকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়া কতটা অমানবিক- তা কেউ ভাবছে না। জীবনের চেয়ে কি অর্থের মূল্য বেশি? নকল, ভেজাল ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ তৈরি এবং বিপণনের সাথে জড়িতরা গণহত্যার মতো অপরাধ করছে। আর যারা এসব তদারকির জন্য রয়েছেন, তারা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করছেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকির এসব অপতত্পরতা বন্ধ করা জরুরি।

আমরা চাই, এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্টরা নজর দেবেন এবং যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও চিকিৎসা ব্যবস্থা নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকার হলেও জনগণকে নিজের গাটের পয়সা খরচ করে চিকিৎসা নিতে হয়। সরকার এখনো নাগরিকদের পুরো চিকিৎসার দায়িত্ব নিতে পারেনি। দেশে বিলাসবহুল বেসরকারি বহু হাসপাতাল গড়ে উঠেছে। সরকারের উচিত, চিকিৎসায় যাতে নির্ভেজাল ওষুধ নাগরিকরা পেতে পারে, তার সুব্যবস্থা করা। স্বাস্থ্যক্ষেত্রে জড়িত সরকারি নানা সংস্থা যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করে জনগণের জীবনে সুরক্ষা দিতে পারে।






এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ





















© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD
themesbazar_brekingnews1*5k