২৫শে শ্রাবণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ ৯ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ ১১ই মহর্‌রম, ১৪৪৪ হিজরি



নতুন বইয়ের গন্ধে উচ্ছ্বসিত খুদে শিক্ষার্থীরা

কুশিয়ারা ভিউ ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ২ জানুয়ারি, ২০২২

প্রতি বছর ১ জানুয়ারি দেশের প্রায় সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বই উৎসবের আয়োজন করা হতো। এই উৎসবের মধ্যদিয়ে বই তুলে দেওয়া হতো শিক্ষার্থীদের হাতে। কিন্তু করোনাভাইরাস বদলে দিয়েছে প্রায় এক দশক ধরে চলে আসা এই নিয়ম। ফলে গত বছরের মতো এবারো হচ্ছে না বই উৎসব। তবে নতুন বছরের প্রথম দিন নতুন বই পেয়েছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা।

গতকাল শনিবার স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষার্থীদের মাঝে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ শুরু হয়েছে। নতুন বইয়ের গন্ধে উচ্ছ্বসিত শিক্ষার্থীরা। বই হাতে নিয়ে নতুন উদ্যমে পড়াশোনায় মনযোগী হতে চায় তারা। সবার চোখে-মুখে লক্ষ্য পূরণে এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন। বই হাতে পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে দেখা গেছে রাজধানীর বিভিন্ন স্কুলের খুদে শিক্ষার্থীদের। তাদের কলকাকলিতে হেসে উঠেছিল বিদ্যালয়ের আঙিনাগুলো। বই হাতে পেয়ে অজানা কবিতা, গল্প আর জ্ঞান-বিজ্ঞানে নিজেদের শানিত করার অদম্য ইচ্ছায় উচ্ছ্বাসিত হয়ে উঠে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। হাসি-আনন্দে একাকার হয়ে বুকের সঙ্গে দুই হাত দিয়ে মায়ার বাঁধনে বইগুলো জড়িয়ে রাখে শিক্ষার্থীরা।

রাজধানীর কিশলয় বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ মো. রহমত উল্লাহ্ বলেন, অষ্টম শ্রেণির বই ছাড়া সব বই পেয়েছি। বইয়ের ছাপা বাঁধাই বেশ সুন্দর। আজ (গতকাল) প্রথম দিন ষষ্ঠ শ্রেণির বই দেওয়া হলো।

বই পাওয়া যষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল ফেরদৌসী তার প্রতিক্রিয়ায় জানায়, সব বই পেয়েছি। করোনার কারণে একসঙ্গে সবাইকে দেওয়া হয়নি। তবে বই পেয়ে আমরা খুশি।

মোহাম্মদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক খায়রুন নাহার লিপি বলেন, আমরা সব বই পেয়েছি। আজ বই বিতরণ শুরু হয়েছে। শিক্ষার্থীদের পর্যায়ক্রমে ক্লাসে বই দেওয়া হবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে। বই কেমন হয়েছে জানতে চাইলে খায়রুন নাহার লিপি বলেন, সুন্দর হয়েছে। শিক্ষার্থীরা বেশ আনন্দ পেয়েছে। নতুন বই বিতরণের কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। এ বছর সারা দেশে ৪ কোটি ১৭ লাখ ২৬ হাজার আট শ’ ৫৬ জন শিক্ষার্থীর মাঝে ৩৪ কোটি ৭০ লাখ ২২ হাজার ১৩০ কপি বই বিনা মূল্যে বিতরণ করা হচ্ছে। এর মধ্যে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য ব্রেইল ও পাঁচটি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের মাতৃভাষায় লেখা পাঠ্যবই রয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে বই বিতরণের এই কর্মকাণ্ড ১২ দিনের মধ্যে শেষ করতে বলা হয়েছে।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) নির্দেশনা অনুযায়ী, ষষ্ঠ শ্রেণিতে ১ থেকে ৩ জানুয়ারি, সপ্তম শ্রেণিতে ৪ থেকে ৬ জানুয়ারি, অষ্টম শ্রেণিতে ৮ থেকে ১০ জানুয়ারি এবং নবম শ্রেণিতে ১১ থেকে ১৩ জানুয়ারি শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দেওয়া হবে। ইতোমধ্যে ১৭ কোটির বেশি বই পৌঁছে গেছে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। অবশিষ্ট বইও শিগগিরই পৌঁছে যাবে। ১৩ দিনব্যাপী দেশজুড়ে ৪ কোটি ১৭ লাখ ২৬ হাজার ৮৫৬ জন শিক্ষার্থীকে নতুন বই দেওয়া হবে বলে জানায় মাউশি।

এনসিটিবির বিতরণ নিয়ন্ত্রক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) সাইদুর রহমান বলেন, জানুয়ারিতে বিদ্যালয় খোলা থাকবে। পাঠদান শুরু হবে ১ ফেব্রুয়ারি থেকে। এর ২০ দিন আগেই মাধ্যমিকের সব বই পৌঁছে যাবে।

বই বিতরণ প্রসঙ্গে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আলমগীর মুহম্মদ মনসুরুল আলম বলেন, পর্যায়ক্রমে যেদিন যে শ্রেণির পাঠদান রয়েছে সেই শ্রেণির শিক্ষার্থীরা বই পাবে। আজ বছরের প্রথম দিন সুষ্ঠুভাবে বই বিতরণ করা হয়েছে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সবার হাতে বই তুলে দেওয়া হবে।

বইয়ের মান সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, করোনা সংকটের মধ্যে ভালো বই দিতে পেরেছি। বিগত সময়ের চেয়ে অপেক্ষাকৃত বই ভালো বলা পাতে পারে। আর বই ভালো হওয়ার কারণ আমি নিজে দফায় দফায় পরিদর্শন করেছি। ঢাকার উপ-পরিচালক পরিদর্শন করেছেন। বই ছাপার সময় পরিদর্শন অব্যাহত ছিল। সে কারণে বইয়ের মান ভালো হয়েছে। শিক্ষকরা বলছেন, বইয়ের কনটেন্ট না পড়ে বলা যাবে না ভুলত্রুটি রয়েছে কিনা? তবে বই দেখে ছাপার মান, বাঁধাই করা এবং কাগজের মান ভালো বলে মনে হচ্ছে।

গত বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চুয়ালি পাঠ্যবই বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন। বই বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধনের পর দুই মন্ত্রণালয়ই দাবি করেছে, গত দুই বছরের চেয়ে এবার অপেক্ষাকৃত ভালো বই দেওয়া হচ্ছে।

এনসিটিবি বই বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধনের দিন জানিয়েছিল প্রাথমিকের শতভাগ এবং মাধ্যমিকের ৯৫ শতাংশের বেশি বই পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। রি-টেন্ডার হওয়ার কারণে মাধ্যমিকের বই ছাপতে এবার দেরি হয়। সিন্ডিকেট ভাঙতে রি-টেন্ডারের কারণে বই ছাপার কাজে দেরি হওয়ায় সঠিক সময়ে বই পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও সমস্যা সমাধান করা সম্ভব হয়েছে। দেশে করোনাভাইরাসের প্রকোপ বাড়তে থাকায় ২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়। দেড় বছর চলতি বছরের সেপ্টম্বরে শ্রেণিকক্ষে ফেরার সুযোগ পায় শিক্ষার্থীরা। শর্ত দিয়ে ১২ সেপ্টম্বর থেকে সব স্কুল কলেজ খুলে দেওয়া হয়। শর্তগুলো ঠিকমতো পালিত হচ্ছে কি না বা স্কুল খোলার পর করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতি কেমন হয় তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে কর্তৃপক্ষ।

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ











All Bangla Newspapers



অনলাইনে বাংলাদেশের সকল পত্রিকা পড়ুন…
















© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত  ২০২২ কপিরাইট © কুশিয়ারা ভিউ টোয়েন্টিফোর ডটকম
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD
themesbazar_brekingnews1*5k