৭ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ১৫ই সফর, ১৪৪৩ হিজরি



নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজন সচেতনতা

সম্পাদকীয়
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ৬ আগস্ট, ২০২১

করোনা সংক্রমণের মধ্যে মরার ওপর খাঁড়ার ঘা ডেঙ্গু সংক্রমণ বাড়ছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছেছে অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন।

চলতি বছর ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ার খবরের মধ্যে এতদিন পর্যন্ত একদিনে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা দুইশর নিচে ছিলো, গত ১ এপ্রিল তা বেড়ে ২৩৭ জনে উন্নীত হয়েছে, যা একদিনে হাসপাতালে ভর্তির সর্বোচ্চ সংখ্যা বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

অধিদপ্তর বলছে গত ১ এপ্রিল পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ২৩৭ জন ডেঙ্গু রোগী। এর মধ্যে ৪১টি সরকারি এবং বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২১৮ জন এবং ঢাকার বাইরে বিভিন্ন হাসপাতালে আরো ১৯ জন।

বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ডেঙ্গু রোগী ৮৬২ জন। এর মধ্যে ঢাকাতেই ভর্তি হয়েছেন ৮২৮ জন বাকি ৩৪ জন ঢাকার বাইরে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।

এ ছাড়া ১ জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত দেশে মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন দুই হাজার ৮৯৫ জন। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন দুই হাজার ২০ জন।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী তাজুল ইসলাম জানিয়েছেন রাজধানীর ডেঙ্গু রোগীর ৬৯ শতাংশই ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের বিপরীতে উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ৩১ শতাংশ।

আমরা জানি ডেঙ্গু সংক্রমণের কারণ এডিস মশা। তাই এডিস মশার প্রজনন ক্ষেত্র ধ্বংস করতে পারলে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা শূন্যে নামিয়ে আনা সম্ভব। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে দুই সিটি কর্পোরেশন এ মশা মারতে কামান লাগালেও মশা নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি। তবে উত্তর সিটির মেয়র।

আতিকুল ইসলাম নিজে উদ্যোগী হয়ে এলাকার প্রতিটি বাড়িতে পরিত্যক্ত ডাবের খোসা ও হাই কমোড, এসির জমে থাকা পানি সরাতে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করেছেন। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে নিজের বাড়ি নিজে পরিষ্কার করি শিরোনামে এ অভিযানের কথা অনেকেই জানেন না। প্রয়োজনীয় প্রচারণার অভাবে উদ্যোগটি ভেস্তে যেতে বসেছে।

অন্যদিকে দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন মেয়র ফজলে নূর তাপস ডেঙ্গু সংক্রান্ত জনসচেতনতায় সেমিনার করে বলেছেন, আগামী দু’সপ্তাহের মধ্যে ওয়ার্ড পর্যায়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার মাধ্যমে ডেঙ্গুকে শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা হবে। আমরা প্রতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্তের সময় এডিস মশা ধ্বংসের নানান কথা বলে থাকি কিন্তু জনগণকে ডেঙ্গু আক্রান্ত থেকে রক্ষা করতে পারিনি।

মহামারি করোনা যেমন বয়স্কদের প্রতি বেশি সংক্রমণশীল তেমনি ডেঙ্গু শিশুদের আক্রান্ত করে জীবন-মরণ সমস্যা সৃষ্টি করে। কাজেই ডেঙ্গু প্রতিরোধে দুই সিটি কর্পোরেশনের শুধু কথায় নয় কাজে প্রমাণ করতে হবে তারা ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে আন্তরিক। আর জনগণের উচিত নিজ নিজ বাড়িতে বা পাড়ার যেসব স্থানে এডিস মশার প্রজনন ক্ষেত্র রয়েছে সেগুলোও ধ্বংস করে ফেলে নিজের সুরক্ষা নিজেদের তৈরি করতে হবে।

অবশ্য উত্তর সিটি কর্পোরেশন বাড়ি বা নির্মাণাধীন বাড়িতে অপরিচ্ছন্ন কিছু পেলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা আদায় শুরু করেছে। আর কেউ তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করলে তাকে পুরস্কার দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। কাজেই আসুন আমরা নিজেরাই সচেতন হই নিজেদের সুরক্ষিত করি। মশার উৎস ধ্বংস করি, ডেঙ্গুমুক্ত দেশ গড়ি।






এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ





















© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD
themesbazar_brekingnews1*5k