১০ই মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ ২৪শে জানুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ ২১শে জমাদিউস সানি, ১৪৪৩ হিজরি



পাকিস্তানে প্রথম ট্রান্সজেন্ডার মাদ্রাসা চালু

কুশিয়ারা ভিউ ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ২২ মার্চ, ২০২১

পাকিস্তানে এমন একটি মাদ্রাসা চালু হয়েছে, যে মাদ্রাসা স্থাপন করেছেন রানী খান নামের তৃতীয় লিঙ্গের একজন। যেখানে দেশটির  ট্রান্সজেন্ডার বা তৃতীয় লিঙ্গের নাগরিকদের ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে।

মাথায় সাদা রঙের একটা শাল বেঁধে রানী খান প্রতিদিন ট্রান্সজেন্ডারদের কোরআন পড়তে শেখান তিনি। নিজের জীবনে সব সঞ্চয় ব্যবহার করে তিনি এই মাদ্রাসা চালু করেছেন। মাদ্রাসায় ছাত্র শিক্ষক সবাই এলজিবিটিকিউ-এর লোক। খবর এনডিটিভির।

গোঁড়া মুসলমানের দেশ পাকিস্তান। যেখানে সাধারণ মানুষ পর্যন্ত মোল্লাদের দৌরাত্ম্যে অতিষ্ঠ থাকেন, সেখানে ট্রান্সচজেন্ডারদের অবস্থা সহজেই অনুমান করা যায়। অফিসিয়ালি তাদের  জন্যে ধর্মীয় শিক্ষালয়ে কিংবা প্রার্থনার জন্য মসজিদে যাওয়া নিষিদ্ধ না হলেও প্রতিটি পদে তাদের সাধারণ মানুষের ঘৃণা ও বিদ্রুপের শিকার হতে হয়।
৩৪ বছর বয়সী রানী খান বলেন, বেশির ভাগ পরিবারই ট্রান্সজেন্ডারের ঘর থেকে বের করে দেয়। তাদের ওপর অত্যাচার করা হয়। একসময় আমি নিজেও তাদের মতো কষ্টভোগ করেছি।

এক পর্যায়ে চোখের পানি মুছে রানী বলেন, আমার পরিবার আমাকে ১৩ বছর বয়সে ঘর থেকে তাড়িয়ে দেয়। আমাকে বেঁচে থাকার জন্য ভিক্ষে করতে হয়।

১৭ বছর বয়সে রানী একটি ট্রান্সজেন্ডার গ্রুপের সঙ্গে ভিড়ে যান। গ্রুপটি বিয়ের উৎসবসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নাচ গান করে টাকা সংগ্রহ করত। কিন্তু তার মনে সব সময় একটা স্বপ্ন ছিল ট্রান্সজেন্ডার গোষ্ঠীর জন্য কিছু একটা করবেন।
যখন পরিবারের সঙ্গে ছিলেন তখন রানী কোরআন পড়তে শিখেছিলেন।গত বছরের অক্টোবরে নিজে ট্রান্সজেন্ডারদের জন্য মাদ্রাসা খোলার আগে ধর্মীয মাদ্রাসাগুলোতেও যাতায়াত করেন তিনি।

রানী বলেন, আমি আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার জন্য ধর্মীয় স্কুল খুলেছি। এখানে আমার শ্রেণির মানুষের জন্য কোরআন শিক্ষার ব্যবস্থা করেছি। তারা এখানে নামাজ পড়তে পারবে এবং বিগত জীবনের ভুল বা পাপের জন্য আল্লাহর কাছে অনুশোচনা করতে পারবে।
রানীর মাদ্রাসাটি সরকারের কাছ থেকে কোনো অনুদান পায়নি। অবশ্য কিছু কিছু কর্মকর্তা এখানকার ছাত্রদের সহযোগিতা করবেন এবং তাদের চাকরি পাওয়ার ব্যাপারে সাহায্য করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

শুধু কোরআন শিক্ষা দিয়েই দায়িত্ব শেষ করছেন না খান। তিনি তার ছাত্রদের এম্ব্রয়ডারি, সেলাইসহ নানা হাতের কাজে দক্ষ করে তোলার উদ্যোগ নিয়েছেন, যাতে ছাত্ররা মাদ্রাসা ছাড়ার পর নিজেদের পায়ে দাঁড়ানোর চেষ্টা করতে পারেন। কাপড়চোপড় বিক্রি করে তিনি স্কুলের জন্য তহবিলও গড়ে তুলতে চান বলে জানিয়েছেন।

পাকিস্তানে তৃতীয় লিঙ্গকে ২০১৮ সালে সরকারিভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। এতে তাদের ভোটাধিকার এবং আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেরে জেন্ডার বেছে নেওয়ার সুযোগও দেওয়া হয়েছে।

পাকিস্তানে ২০১৭ সালের আদমশুসমারি অনুযায়ী, ট্রান্সজেন্ডারের সংখ্যা এক লাখ। তবে একজন সরকারি কর্মকর্তা বলেছেন, বর্তমানে এ সংখ্যা ৩ লাখ ছাড়িয়ে যেতে পারে।

সূত্র: সমকাল






এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ





















© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD
themesbazar_brekingnews1*5k