২১শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ ৬ই ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ২রা জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৩ হিজরি



পানিবন্দি দেড় শতাধিক গ্রাম, সুপেয় পানি ও গবাদি পশুর খাদ্য সংকট

কুশিয়ারা ভিউ ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ২৫ আগস্ট, ২০২১

ফরিদপুরে এক সপ্তাহ ধরে পদ্মার পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। সেই সঙ্গে দেখা দিয়েছে তীব্র ভাঙন। জেলা সদর, চরভদ্রাসন, সদরপুর ও ভাঙ্গা উপজেলার ফসলি ক্ষেত, রাস্তা ও নিচু এলাকার বসতবাড়ি তলিয়ে গেছে।

পানিবন্দি হয়ে পড়েছে দেড় শতাধিক গ্রামের মানুষ। সেই সঙ্গে সুপেয় পানি ও গবাদিপশুর খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে।

ফরিদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুলতান মাহমুদ জানান, পদ্মায় গোয়ালন্দ পয়েন্টে গত ২৪ ঘণ্টায় দুই সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়ে এখন বিপদসীমার ৫৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

সদর উপজেলার নর্থ চ্যানেল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তাকুজ্জামান জানান, এই ইউনিয়নের ২০টি গ্রামের দুই হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। শহরে যাওয়ার তিনটি রাস্তা তলিয়ে গেছে। কয়েক হাজার একর আউশ ধানক্ষেত পানিতে নিমজ্জিত।

তিনি আরও জানান, পদ্মা নদীর পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন জায়গায় ভাঙন শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে ইউনিয়নের শুকুর আলী মৃধার ডাঙ্গী গ্রামের ১৬ একর ও আলিমুদ্দিন মাতুব্বরের ডাঙ্গী গ্রামের তিন একর ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। আলিমুদ্দিন মাতুব্বরের ডাঙ্গী গ্রামে ভাঙনের কবলে পড়ে অন্তত দেড় হাজার কলা গাছ ভেসে গেছে।

নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নের ১৩টি গ্রামের মধ্যে এক হাজার ১৫০ পরিবার, ডিক্রিরচর ইউনিয়নের ১২টি গ্রামের এক হাজার ২০০ পরিবার ও চর মাধবদিয়া ইউনিয়নের ১৬টি গ্রামের তিন হাজার পরিবারসহ মোট ৪১টি গ্রামের পাঁচ হাজার ৩৫০ পরিবার পানিবন্দি হয়ে আছে। ডিক্রির চর ইউনিয়নের

চেয়ারম্যান মেহেদী হাসান বলেন, নাজিম বিশ্বাসের ডাঙ্গী গ্রামে যাওয়ার ইটের রাস্তার প্রায় এক কিলোমিটার অংশ এবং বেপারী ডাঙ্গীগামী সড়কের মোতালেব মিন্টুর বাড়ির সামনে ৫০ মিটার অংশ পানির তোড়ে ভেসে গেছে।

চর মাধবদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মির্জা সাইফুল ইসলাম আজম বলেন, এই ইউনিয়নে পানিবন্দি হয়ে আছে। অন্তত তিন হাজার পরিবার পানিতে ফসলি জমি তলিয়ে গেছে।

চরভদ্রাসন উপজেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোতালেব হোসেন জানান, উপজেলার গাজিরটেক, হরিরামপুর, চরঝাউকান্দা ও চরভদ্রাসন সদর ইউনিয়নের একাংশ প্লাবিত হয়েছে। ইউনিয়নগুলোতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে প্রায় দুই হাজার পরিবার।

তিনি আরও জানান, চরভদ্রাসনের ইউনিয়নগুলো চরাঞ্চলবেষ্টিত নিম্নাঞ্চল, তাই একটু পানি বৃদ্ধি পেলেই এলাকাগুলো প্লাবিত হয়ে যায়। এসব এলাকায় সুপেয় পানির সংকট দেখা দিয়েছে। এছাড়া গবাদিপশুরও খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে ।






এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ





















© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD
themesbazar_brekingnews1*5k