৪ঠা মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ ১৮ই জানুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ ১৫ই জমাদিউস সানি, ১৪৪৩ হিজরি



পানি দূষণ রোধকল্পে সচেতনতা প্রয়োজন

ইসরাত জাহান 
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ৮ জুলাই, ২০২১

আমাদের দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে পানি ও তপ্রোতভাবে জড়িত। পৃথিবীর প্রায় সমস্ত জীবের জীবনধারণের জন্য পানি অত্যাবশ্যকীয় উপাদান।

ভূপৃষ্ঠের ৭০.৯% অংশ জুড়ে পানির অস্তিত্ব রয়েছে অর্থাৎ ভূপৃষ্ঠের ৪ভাগের ৩ভাগ পানি। এত ভাগ পানির ৯৬.৫% পাওয়া যায় মহাসাগরে, ১.৭% ভূগর্ভে, ১.৭% হিমশৈল ও তুষার হিসেবে, ০.০০১% মেঘ হিসেবে থাকে। এত ভাগ পানি থাকা সত্ত্বেও মাত্র ৩ভাগ পানি রয়েছে যা ব্যবহার যোগ্য যাকে স্বাদু পানি বলে। বাকি ৯৭% পানি রয়েছে যা ব্যবহার অযোগ্য অর্থাৎ লোনা পানি।

বর্তমানে পৃথিবীতে মোট জনসংখ্যা ৭৭০কোটি। এতগুলো মানুষের জন্য সুপেয় পানির পরিমাণ অতি সামান্য। কিন্তু প্রতিদিন কোন না কোন কারণে অনেক পানি অপচয় হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘গত কয়েক দশক ধরে পৃথিবীতে জনসংখ্যার পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে সুপেয় পানির সরবরাহ বৃদ্ধি পেয়েছে।’

পানির অপর নাম জীবন। এটা শুধু কোন প্রচলিত কথা নয় বরং একটি অপরিহার্য সত্য বাণী। কিন্তু খুবই দুঃখজনক হলেও সত্যি যে, প্রতিদিন কয়েক টন পানি অপচয় করে বিশ্ববাসি। যা কখনো কাম্য নয়। পানি দূষণকে বৈশ্বিক সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ‘পানি দূষণের কারণে বর্তমানে চর্তুদিকে বিভিন্ন সমস্যা পরিলক্ষিত হচ্ছে। নানাবিধ রোগের সৃষ্টি হচ্ছে। যা কখনো কখনো প্রাণঘাতী হয়ে উঠে।’ এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ‘শুধুমাত্র পানি দূষণের কারণে প্রতিদিন বিশ্বে ১৪০০ মানুষের মৃত্যু ঘটে, বাংলাদেশেও গড়ে প্রতিদিন ৮০ জন মানুষ পানি দূষণ সম্পর্কিত রোগে মারা যায়।‘ ইউনিসেফ এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, বিশ্বব্যাপী তিন জনের মধ্যে একজনের সুপেয় পানি পানের ক্ষমতা নেই। প্রতিটি দেশ পানি দূষণের জন্য দায়ী থাকলেও সবচেয়ে বেশি দায়ী উন্নত দেশগুলো। সারাবিশ্বে বর্তমানে উন্নতির শীর্ষ ভাগ দখল করে আছে চীন। যে দেশ যত বেশি শিল্পখাতে অগ্রাধিকার দিতে পেরেছে সেই দেশ তত তাড়াতাড়ি উন্নতির সিংহাসনে আরোহণ করতে পেরেছে। একটি দেশে শিল্পখাতে উন্নতি করতে হলে যেটি সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন সেটা হচ্ছে পানি। আর সবচেয়ে বেশি পানির অপচয় ও দূষণ হয় শিল্পখাতের মাধ্যমে।

টেক্সটাইল ডাইং বিশ্বব্যাপী পানির দ্বিতীয় বৃহত্তম দূষণকারী এবং ফ্যাশন শিল্প বিশ্বব্যাপী বর্জ্য পানির ২০ শতাংশ উৎপাদন করে। আমরা যদি জনবহুল অঞ্চল চীনের  দিকে তাকাই তাহলে দেখতে পাব যে সেখানে ৯০ ভাগ পানি দূষিত পানি। একটি জনবহুল দেশের জন্য এটি অমঙ্গলজনক বলা যায়। শুধু চীনের মতো উন্নত দেশগুলো নয় বরং অনুন্নত ও উন্নয়নশীল প্রতিটি দেশ পর্যালোচনা করলে দেখা যায় সুপেয় পানির পরিমাণ দিন দিন কমে যাচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, ‘যেভাবে পানি দূষণ ও অপচয় বৃদ্ধি পাচ্ছে এভাবে চলতে থাকলে একটা সময় পৃথিবীতে সুপেয় পানির উৎসে ভাটা পড়বে।এক কথায় সুপেয় পানি খুঁজে পাওয়া কষ্টসাধ্য হয়ে পড়বে।‘পানি দূষণ ও পানির অপচয় রোধ কল্পে প্রতিবছর ২২মার্চ বিশ্ব পানি দিবস পালিত হয়। এই দিবসটির সূচনা হয় ১৯৯২সালে।

মূলত স্বাদু পানি রক্ষায় ব্রাজিলের রাজধানী রিও ডি জেনেরিওতে জাতিসংঘের পরিবেশ ও উন্নয়ন বিষয়ক অধিবেশনে একটি দিনকে ‘স্বাধু পানি দিবস’ হিসেবে পালনের সুপারিশ করা হলে পরবর্তীতে ১৯৯৩সালে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে সর্বসম্মতিক্রমে ২২শে মার্চকে আন্তর্জাতিকভাবে ‘বিশ্ব পানি দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়।  জলবায়ু পরিবর্তনের প্রতিক্রিয়া নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে গবেষকরা দেখেছেন, ২০৫০ সাল নাগাদ বিশ্বের শতকরা ৬০ ভাগ মানুষ পর্যাপ্ত পানি পাবে না। এই ঘাটতি ইউরোপ ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলবে।

পানি দূষণ যে শুধুমাত্র মানব জীবনকে প্রভাবিত করবে তা নয় বরং পুরো জীব বৈচিত্রকে প্রভাবিত করবে। পানি দূষণ রোধ করার জন্য বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তে বসবাসরত প্রতিটি মানুষকে সচেতন হতে হবে। অন্যথায় মানুষের পাশাপাশি পুরো জীব-বৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়বে।

কুশিয়ারাভিউ২৪ডটকম/৮ জুলাই,২০২১/ইসরাত জাহান






এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ





















© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD
themesbazar_brekingnews1*5k