২১শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ ৬ই ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ২রা জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৩ হিজরি



পাসপোর্ট নিয়ে সঙ্কটে প্রবাসীরা, সমস্যার দ্রুত সমাধান কাম্য

সম্পাদকীয়
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ১৭ আগস্ট, ২০২১

যেকোনো সময় মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট নিয়ে সঙ্কট সৃষ্টি হতে পারে, ছাপানো বইয়ের মজুত ফুরোতে পারে, গ্রাহকের তথ্য সংযুক্তি ছাপানোর মেশিনেও সমস্যা হতে পারে।

এসব বিবেচনায় নিয়ে গোটা দাপ্তরিক কার্যক্রম চালানোটাই সমীচীন। অথচ করোনার দোহাই দিয়ে কাজে স্থবিরতা কিংবা সাময়িকভাবে চরম সঙ্কট সৃষ্টি হওয়ার বিষয়টি অনাকাঙ্ক্ষিত।

গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে এই বিষয়টি উঠে এসেছে সম্প্রতি। জেনে কিছুটা বিস্মিতই হতে হয় যে, আড়াই মাস ধরে পাসপোর্ট ছাপানো বন্ধ, ফলে সঙ্কটে পড়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা।

উদ্বেগের বিষয় হলো— গত আড়াই মাসের বেশি সময় ধরে বিদেশে বাংলাদেশের মিশনগুলোতে নতুন পাসপোর্ট ইস্যু কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। মেশিন রিডেবল পাসপোর্টের সার্ভার সঠিক সময়ে হালনাগাদ না করায় পাসপোর্ট তৈরির কাজে স্থবিরতা নেমে এসেছে। জুন মাসে পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট সার্ভারের (এমআরপি) ধারণক্ষমতা নির্ধারিত তিন কোটির বেশি সীমা অতিক্রম করে। এ কারণে পাসপোর্ট প্রিন্ট বন্ধ হয়ে যায়। এর প্রতিক্রিয়া হয় ব্যাপক। ফলস্বরূপ সারা বিশ্বে কর্মরত প্রবাসীদের অনেকেরই পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে তারা বিপাকে পড়েন। পাসপোর্টের মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার কারণে ভিসার মেয়াদ বাড়ানো তাদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। সঙ্গত কারণেই তারা অবস্থানরত দেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তারের আশঙ্কা করছেন।

একই সঙ্গে পাসপোর্ট না পেয়ে কাজের মেয়াদ বৃদ্ধি করার আবেদনও করতে পারছেন না। কেউ কেউ ছুটিতে দেশেও আসতে পারছেন না। রাস্তায় চলাচল থেকে শুরু করে কর্মস্থলেও পড়ছেন ঝামেলায়। সমস্যা বেশি মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত প্রবাসীদের। উপায়ান্তর না পেয়ে সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাসে মেয়াদোত্তীর্ণ পাসপোর্টের মেয়াদ বাড়ানো হচ্ছে হাতে লিখে।

অবশ্য উদ্ভূত পরিস্থিতিতে একের পর এক বিভিন্ন দূতাবাস থেকে জরুরি বিজ্ঞপ্তি দিয়ে প্রবাসীদের কাছে দুঃখ প্রকাশ ও ক্ষমা চাওয়া হচ্ছে। বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের নতুন মহাপরিচালক ইতিবাচক উদ্যোগ নেয়ার কথা গণমাধ্যমকে বলেছেন।

তবে এটাও স্বীকার করেছেন যে, জোড়াতালি দিয়েই চলছে পাসপোর্ট অধিদপ্তরের কাজ । যদিও পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং ইতিবাচকভাবে উত্তরণের জন্য যা যা করণীয় সে ব্যাপারে কর্তৃপক্ষ সজাগ রয়েছে। এই সচেতনতা ও গতি আগে থেকে বিরাজিত থাকলে এই সাময়িক সঙ্কট দেখা দিতো না বলে পর্যবেক্ষক মহলের ধারণা। সময়ের কাজ সময়ে করাটাই সমীচীন।

উদ্ভূত পরিস্থিতি বিবেচনা করলে এটাই স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, দেশে ই-পাসপোর্ট কার্যক্রম শুরুর পর ধারণা করা হয়েছিল হাতে থাকা এমআরপি দিয়ে চাহিদা মেটানো সময়ের মধ্যেই সম্ভব হবে এবং সব গ্রাহক ই-পাসপোর্টের আওতায় চলে আসবে। কিন্তু করোনার কারণে বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের দূতাবাসে ই-পাসপোর্টের তথ্য গ্রহণের মেশিন বসানো যায়নি। গতিশীলতায়ও ঘাটতি ছিলো। ফলে এমআরপি পাসপোর্টের ওপরই নির্ভরতা বাড়ে। অথচ তথ্য-প্রযুক্তিগত সহায়তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এমআরপি সরবরাহ সম্ভব হয়নি। অথচ এমআরপি আসার পর হাতে লেখা পাসপোর্ট ২০১৫ সালেই বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। অবশেষে সঙ্কট মোকাবিলায় আরও ৬০ লাখ পাসপোর্টের জন্য নতুন করে চুক্তি করা হয়েছে মালয়েশিয়ার সংশ্লিষ্ট কোম্পানির সঙ্গে। আমরা আশা করি, পাসপোর্ট সমস্যার সমাধান হবে অচিরেই। তবে এ ক্ষেত্রে প্রবাসীদের বিষয়টি অগ্রাধিকার দিতে হবে। কেননা তারাই বেশি ভুক্তভোগী।






এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ





















© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD
themesbazar_brekingnews1*5k