২২শে আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ ৭ই অক্টোবর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ ১১ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৪ হিজরি



ফুটপাতকেন্দ্রিক চাঁদাবাজি: প্রয়োজন হকারদের পুনর্বাসন

সম্পাদকীয়
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ৭ জানুয়ারি, ২০২২

অতীতে বহুবার রাজধানী ঢাকার ব্যস্ততম এলাকার ফুটপাত থেকে হকার উচ্ছেদ হলেও আবারো তা দখল করে দোকান সাজিয়ে বসতে দেখা গেছে মহানগরীর হকারদের। ঘনবসতি ঢাকার জনদুর্ভোগের বড় দুটি সমস্যা হচ্ছে যানজট এবং হকারদের অবৈধভাবে ফুটপাত দখল। অথচ যানজট ও জনদুর্ভোগ কমাতে ফুটপাত ও সড়ক থেকে হকারদের উচ্ছেদে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে হলিডে মার্কেট চালু করতেও দেখা গেছে ঢাকা নগরীর সিটি করপোরেশনকে। এছাড়া সরাসরি দোকান ভেঙে দিয়ে হকারদের উচ্ছেদ করা হয়েছিল বেশ কয়েক দফা। কিন্তু কোনো কিছুই দীর্ঘমেয়াদি রূপ লাভ করতে দেখা যায়নি।

অভিযোগ রয়েছে যে, এর পেছনে কাজ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অসৎ কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ প্রভাবশালী মহলের যোগসাজশ। কিন্তু এবার সংবাদমাধ্যমে উঠে এসেছে, এর পেছনে রয়েছে ফুটপাতে চাঁদাবাজির এক গোপন চক্র বা সিন্ডিকেট।

বলা হচ্ছে, এখন রাজধানীর ফুটপাতগুলো এই চাঁদাবাজি সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি। সম্প্রতি রাজধানীর ফুটপাতের চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। ধরাও পড়েছে দুই চাঁদাবাজ। এর আগে মিরপুরের ভাসানটেক এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৪ জনকে আটক করা হয়।

র‍্যাবের কর্মকর্তারা বলছেন, তালিকা ধরে রাজধানীজুড়ে ফুটপাতের চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হবে। অতীতে বার বার উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েও দখলমুক্ত করা যায়নি ফুটপাত। সকালে উচ্ছেদ করলে সন্ধ্যায় আবার চলে যায় সিন্ডিকেটের দখলে। সিটি করপোরেশন ও সরকারের প্রচেষ্টাতেও দখলমুক্ত হচ্ছে না। অতএব এই অভিযানও কি পারবে এর সমাধান দিতে? প্রশ্ন নগরবাসীর। তেজগাঁও কলেজ, ইন্দিরা রোড ও ফার্মগেট মোড়ের এসব ফুটপাত দীর্ঘদিন ধরেই দখল হয়ে আছে।

তবে স্থানীয়রা বলছেন, ফুটপাতে হকাররা ব্যবসা করলেও এর নেপথ্যে শক্তিশালী সিন্ডিকেট রয়েছে। হকারদের জিম্মি করে এসব সিন্ডিকেটের মাধ্যমে প্রতিদিনই আদায় করা হচ্ছে মোটা অঙ্কের চাঁদা।

ব্যবসায়ী ও হকারদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ফার্মগেটসংলগ্ন গোটা এলাকার ফুটপাতের দোকানগুলো থেকে প্রতিদিন ২০০ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় হয়। তিন শতাধিক দোকান থেকে গড়ে প্রতিদিন এক লাখ টাকা তোলা হয়। অন্যদিকে রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকার ফুটপাত চাঁদাবাজির অন্যতম বড় স্পট। রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকার ফুটপাতের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্রতিদিন ১০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করে একটি চক্র।

ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন, স্থানীয় এক ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতার নেতৃত্বে পুরো নিউমার্কেট এলাকার ফুটপাতে বসা ব্যবসায়ীদের থেকে ১১ ভাগে চাঁদা আদায় করছেন লাইনম্যানরা, যারা চাঁদা আদায়কারী হিসেবে পরিচিত।

মূলত ফার্মগেট, নিউমার্কেট, মিরপুর, গুলিস্তান, পল্টন, মতিঝিল কিংবা উত্তরা- ঢাকা মহানগরীর সব এলাকার ফুটপাতেরই একই চিত্র। ঘুরেফিরে একটি কথাই বলতে হয়, নেতিবাচক রাজনীতি পরিহার না হওয়া পর্যন্ত কোনো সিন্ডিকেটই ভাঙা সম্ভব নয়। তার জন্যে প্রয়োজন রাজনৈতিক নেতৃত্বের সদাচার। দুর্নীতিবাজ রাজনীতিক, অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট এবং দুর্বৃত্তায়ন প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে যথাযথ নাগরিক সেবা প্রদান সম্ভব নয়। এই দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরতে হবে। এক্ষেত্রে প্রয়োজন সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি। পাশপাশি ফুটপাতকে নগরবাসীর চলাচলের গ্রহণযোগ্য করে তুলতে সিটি করপোরেশন ও প্রশাসনকে ঐক্যমতের ভিত্তিতে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।

এই পরিস্থিতিতে আমরা মনে করি, হকারমুক্ত ফুটপাত ও তাদের পুনর্বাসনে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা জরুরি, যা যানজটমুক্ত আধুনিক নগরী গড়ে তুলতে সহায়ক হবে। ইতোমধ্যে চসিক বন্দরনগরী চট্টগ্রামের ১২টি স্পটে জরিপ চালিয়ে ৮ হাজার ৫৯৯ হকারের তালিকা প্রস্তুত করাসহ পরিচয়পত্র প্রদানের উদ্যোগ নেয়। তাছাড়া হকারদের শৃঙ্খলার ভেতরে আনার ক্ষেত্রে তাদের একটি একই রঙের ছাতা প্রদান এবং পুনর্বাসনের লক্ষ্যে এলাকাভিত্তিক আবাসনের ব্যবস্থা করার কথাও জানিয়েছে। এর ফলে এক স্থানের হকার অন্য স্থানে যাওয়ার সুযোগ থাকবে না। সুতরাং চসিকের মূল পরিকল্পনাটি পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে রাজধানীর উপযোগী করে সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে। চসিকের এই পরিকল্পনাটিকে ঢাকার হকারদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে বিবেচনায় নিলে ফুটপাতকেন্দ্রিক চাঁদাবাজিও বন্ধ হবে বলে আশা রাখি।





এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ









All Bangla Newspapers






















© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত২০২২ কপিরাইট © কুশিয়ারা ভিউ টোয়েন্টিফোর ডটকম
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD
themesbazar_brekingnews1*5k