২রা ভাদ্র, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ ১৭ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ ১৯শে মহর্‌রম, ১৪৪৪ হিজরি



বাংলাদেশের সম্ভাবনা স্থায়ী হোক

সম্পাদকীয়
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০২১

আমাদের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে চলেছে দেশের গার্মেন্ট শিল্প। সস্তা মজুরি এর অন্যতম কারণ।

তাই ইউরোপ ও আমেরিকায় বাংলাদেশের পোশাকের অনেকটাই রয়েছে একচ্ছত্র বাজার। এই বাজার ধরে রাখার ক্ষেত্রে বর্তমান সময়ে চীন ও যুক্তরাষ্ট্র – এই দুই পরাশক্তির বাণিজ্যযুদ্ধও অনেকটা সহায়ক হয়ে উঠেছে। বিষয়টি এখন গুরুত্বের সঙ্গে আমাদের বিবেচনায় নিতে হবে।

বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের ক্ষেত্র খুবই সীমিত। বর্তমানে তৈরি পোশাক শিল্প খাত থেকেই অর্জিত হয় সবচেয়ে বেশি বৈদেশিক মুদ্রা। আর তাই সরকারও এ খাতের প্রতি গুরুত্ব দিয়ে থাকে বেশি। তবে দেশের অন্য সম্ভাবনাময় খাতগুলোর দিকেও নজর দেওয়া উচিত। আর সেই লক্ষ্য সৃষ্টি করে দিয়েছে বর্তমান চীন-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যযুদ্ধ চীনের রফতানি পণ্যের ওপর একর পর এক করের বোঝা চাপিয়ে দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। বিপরীতে চীনও নিয়েছে পাল্টা পদক্ষেপ।

এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক যেসব কোম্পানি চীনে তাদের পণ্য উৎপাদন করে পুনরায় তা যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রি করে থাকে, তারাও ক্ষতিগ্রস্ত হবে শুল্কারোপের কারণে। একই বাস্তবতা যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রেও। এর ফলে শ্রমমূল্য বৃদ্ধি চীন-যুক্তরাষ্ট্র— উভয় দেশের বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। যার দরুণ তারা উভয়েই উৎপাদন বাড়ানোর উদ্দেশে অন্যান্য দেশের শ্রমশক্তির দিকে ঝুঁকতে বাধ্য হচ্ছে। আর এক্ষেত্রে তাদের প্রথম পছন্দ কম শ্রমমূল্যের দেশ হিসেবে বাংলাদেশ। এখন বাংলাদেশকে এই সুযোগ কাজে লাগাতে হবে। যেন এটি দীর্ঘস্থায়ী রূপ লাভ করে।

এ প্রসঙ্গে বৈশ্বিক মুদ্রাবাজারের অন্যতম বিশ্লেষক এবং টেম্পলেটন ইমার্জিং মার্কেটস গ্রুপের নির্বাহী চেয়ারম্যান জোসেফ বার্নহার্ড মার্ক মোবিয়াস বলেই ফেলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্যযুদ্ধের ফলে সবচেয়ে লাভবান হবে বাংলাদেশ ও ভিয়েতনাম। চীন-যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যযুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্ব বাণিজ্যের বাস্তু সংস্থানে পরিবর্তন আসবে বলে পর্যবেক্ষক মহল মনে করছেন। যার দরুন প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোর পণ্য ক্রয়-বিক্রয়ের হার অনেক বেড়েছে।

এই বাণিজ্যযুদ্ধের ফলে চীনের গার্মেন্ট শিল্পের দর বৃদ্ধি পাওয়ায় এখন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের মতো সস্তা বাজার খুঁজবে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্রে গার্মেন্ট শিল্পের একচ্ছত্র বাজার ধরতে হবে। দুই পরাশক্তির এই বাণিজ্যযুদ্ধের ফলে রফতানি বাণিজ্যে যে সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে বাংলাদেশের সামনে, তাকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের রফতানিপণ্যের বহুমুখীকরণ সম্ভাবনা সৃষ্টির উদ্যোগ নিতে হবে।

সুতরাং আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে গার্মেন্ট শিল্পের পাশাপাশি আইটি পণ্য, ওষুধ, জাহাজ, চামড়াজাত পণ্য, পাটজাত পণ্য, প্লাস্টিক, কৃষি ও অ্যাগ্রো প্রসেসড পণ্য, আসবাবপত্র, হোম-টেক্সটাইল ইত্যাদি রফতানিতে আমাদের মনোযোগী হওয়া এখন জরুরি। একই সঙ্গে সিরামিক, মাছ, শাকসবজি, মাংস ইত্যাদি পণ্যের রফতানি বাজার সৃষ্টির সম্ভাবনার দিকটিও খতিয়ে দেখার প্রয়োজন রয়েছে। এতে আমাদের রফতানি আয় আরো বৃদ্ধি পাবে।

বর্তমান সময়ে কয়েকটি ঘটনা ইউরোপ ও আমেরিকার দূরত্ব বাড়িয়ে দিয়েছে। এর মধ্যে ন্যাটো, রাশিয়া, বাণিজ্য ও জলবায়ু পরিবর্তন অন্যতম। এর সঙ্গে নতুন করে চীন-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যযুদ্ধ তৈরি হলো। মূলত ‘সবার আগে আমেরিকা’- ট্রাম্পের এই নীতি বৈশ্বিক রাজনীতিকে ঘোলাটে করে তুলেছে। একে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশকে বাণিজ্য ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আনয়নে কৌশল অবলম্বন করতে হবে।

পরাশক্তিধর দুই রাষ্ট্রের বাণিজযুদ্ধের ফলে যে সম্ভাবনা বাংলাদেশের সামনে সৃষ্টি হয়েছে, তার সাময়িক লাভ বিচার না করে তার সুদূরপ্রসারী স্থায়িত্ব প্রদানে এখন কাজ করে যেতে হবে। আশা করি, সরকার বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ











All Bangla Newspapers



অনলাইনে বাংলাদেশের সকল পত্রিকা পড়ুন…
















© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত২০২২ কপিরাইট © কুশিয়ারা ভিউ টোয়েন্টিফোর ডটকম
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD
themesbazar_brekingnews1*5k