২২শে আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ ৭ই অক্টোবর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ ১১ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৪ হিজরি



বাড়ছে সাইবার অপরাধ: নিরাপত্তা নিশ্চিতে পদক্ষেপ জরুরি

  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ১৭ আগস্ট, ২০২২
প্রতীকী ছবি


প্রযুক্তি দিয়েছে এক ধরনের সুবিধা, আবার সৃষ্টি করেছে আরেক ধরনের সমস্যা। বিজ্ঞান দিয়েছে বেগ, কেড়ে নিয়েছে আবেগ—এমন দার্শনিক পক্তি আমাদের জানিয়ে দেয় ‘সভ্যতার অভিশাপ’র কথা। জ্ঞান-বিজ্ঞান যত উন্নত হচ্ছে এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও দেখা দিচ্ছে নানা প্রকারে। অনেক মানুষই বর্তমানে প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে পড়েছেন।

বিশেষ করে অফিস আদালত থেকে শুরু করে অনেকেই ব্যক্তিভাবেও প্রযুক্তি ব্যবহারের বাইরে থাকতে পারেন না একদিনও। যন্ত্রের ব্যবহার মানুষের জীবনকে করেছে সহজ ও স্বাচ্ছন্দ্যময়। বর্তমান সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ায় বদ্ধপরিকর এই লক্ষ্যে কাজ করেছে চলেছে। অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হয়েছে একধরনের জটিলতা।

সম্প্রতি একটি গবেষণায় বলা হয়েছে— সাইবার অপরাধের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশি হয়রানি ও পর্নোগ্রাফির শিকার হচ্ছেন নারীরা। নারীর প্রতি পুরুষের সহজাত আকর্ষণ চিরন্তন। কেউ কেউ এটাকে বিকৃতির পর্যায়ে নামিয়ে আনেন। তখন দেখা দেয় অশান্তি ও বিশৃঙ্খলা। অন্যদিকে সাইবার অপরাধের ভুক্তভোগী পুরুষদের মধ্যে বেশিরভাগই মোবাইল ব্যাংকিং ও এটিএম কার্ড হ্যাকিংয়ের শিকার হচ্ছেন। বিগত কয়েক বছরে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ই কমার্স। ই কমার্সের ভালো দিক কম নেই কিন্তু একশ্রেণির প্রতারক চক্র সক্রিয় এখানে। যে কারণে অনলাইনে পণ্য কিনতে গিয়ে প্রতারণার শিকার হতে হয় মাঝে মধ্যে। তবে পুরুষদের তুলনায় নারীরা বেশি প্রতারিত হচ্ছেন।

স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সাইবার ক্রাইম অ্যাওয়ারনেস ফাউন্ডেশনের (সিসিএ ফাউন্ডেশন) বাংলাদেশ সাইবার অপরাধ প্রবণতা-২০২২ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে নারী-পুরুষের প্রযুক্তিকেন্দ্রিক বিড়ম্বনার তথ্য। সম্প্রতি রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনে (ক্র্যাব) আয়োজিত অনুষ্ঠানে গবেষণা প্রতিবেদন তুলে ধরেন গবেষণাদলের প্রধান ইস্টওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষক মনিরা নাজনী জাহান।

এই গবেষণায় বলা হয়, ৫০ দশমিক ২৭ শতাংশ মানুষ সাইবার বুলিংয়ের শিকার হচ্ছেন। ছবি বিকৃত করে অপপ্রচার, পর্নোগ্রাফি কনটেন্ট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার এবং অনলাইনে-ফোনে মেসেজ পাঠিয়ে হুমকি দিয়ে মানসিক হয়রানির ঘটনা ক্রমেই বাড়ছে। এমন অপরাধের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের বেশিরভাগের বয়স ১৮ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে। গবেষণায় বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাইবার অপরাধের শিকার ভুক্তভোগীদের মধ্যে মাত্র ৭ দশমিক ০৪ শতাংশ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে অভিযোগ দিয়ে ফল পেয়েছেন। ৫৫ দশমিক ৭৩ শতাংশ ভূক্তভোগী অভিযোগ দিয়ো কোনো ফল পাননি। অভিযোগ দিয়েও যখন প্রতিকার মেলে না, স্বাভাবিকভাবেই অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। অন্যদিকে ভুক্তভোগী মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েন। প্রাতাহিক জীবনযাত্র তার এই ক্ষরণ নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক, ব্লগ, টুইটার ইত্যাদি ব্যবহারে সতর্ক ও সাবধান থাকা জরুরি। প্রতারক এখানে নানা রকম ফাঁদের জাল পেতে রেখেছে। ব্যবহারকারীকেই তাই প্রতিটি পদক্ষেপ ফেলতে হবে সতর্কভাবে। প্রযুক্তির অতি ব্যবহারে সেটা যেন নেশা হয়ে না দাঁড়ায়। ব্যবহারটুকু ইতিবাচক হওয়া বাঞ্ছনীয়। এটা সত্য, অনেকেই অতিরিক্ত ব্যবহার করে নিজেরই সর্বনাশ নিয়ে আসেন। শিক্ষার্থীদের একাংশ নিজেদের পড়াশোনার বারোটা বাজান প্রযুক্তিকেন্দ্রিক ‘স্বপ্নভুবনে প্রবেশ করে। তবে এর ইতিবাচক ব্যবহারে অনেকেই নিজের জীবন পাল্টে ফেলতে সমর্থ হয়েছেন। বেকারত্ব লাঘবেও ফেসবুকের ভূমিকা কম নয়। ই কমার্স বা অনলাইন ব্যবসা এখন হাতের নাগালেই। সংশ্লিষ্ট ব্যবসার ওয়েবসাইট না খুলে ফেসবুকের বিনামূল্যের পেজ, গ্রুপ কিংবা নিজ প্রোফাইলেই ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব। সেজন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন বিশ্বস্ততা। গ্রাহকের বিশ্বাস অর্জন করতে পেরেছেন যারা, তাদের পিছিয়ে থাকতে হচ্ছে না। অনেক তরুণ তরুণী এখন একদিকে যেমন নিজেরা পণ্য কিনে এনে বিক্রি করছেন আবার উৎপাদন করে বিক্রি করছেন এমন সংখ্যাও কম নয়। যিনি যেভাবে, যে উদ্দেশ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করেন না কেন— সবারই যার যার নিরাপত্তা, নৈতিকতা ও সততা বজায় রাখা উচিত। সামাজিক প্ল্যাটফরমের অপব্যবহার কাম্য নয়। যারা সমস্যার প্রতিকার পাচ্ছেন না- সংশ্লিষ্টদের উচিত তাদের সমস্যা সমাধানে এগিয়ে আসা, অপকর্মের হোতাদের আইনের মুখোমুখি দাঁড় করানো।





এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ









All Bangla Newspapers






















© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত২০২২ কপিরাইট © কুশিয়ারা ভিউ টোয়েন্টিফোর ডটকম
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD
themesbazar_brekingnews1*5k