১০ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ ২৬শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ২০শে রবিউল আউয়াল, ১৪৪৩ হিজরি



বিক্রমপুরে ‘নৌকা জাদুঘর’

কুশিয়ারা ভিউ ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২১

মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার ভাগ্যকুল ইউনিয়নের উত্তর বালাশুর গ্রামে জমিদার রাজা শ্রীনাথ রায়ের বাড়ি। এ পরিবারের সর্বশেষ জমিদার ছিলেন যদুনাথ রায়।

১৯৬৫ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের পর প্রজাহিতৈষী এ জমিদারকে সাম্প্রদায়িক শাসক গোষ্ঠী তার বিপুল ভূসম্পত্তি ও বাড়ি থেকে উৎখাত এবং দেশত্যাগে বাধ্য করে। প্রায় ৩০০ সবুজ গাছগাছালিতে ঢাকা ছিমছাম ছায়াশীতল এই জমিদার বাড়িতে বর্তমানে স্থাপন করা হয়েছে বিক্রমপুর জাদুঘর ও দেশের একমাত্র ‘নৌকা জাদুঘর’। জমিদার বাড়ির সামনে রয়েছে বিশাল দুটি দিঘি ও শান বাঁধানো বড় বড় ঘাট। এ জাদুঘর চত্বরের আয়তন সাড়ে ১৩ একর।

ইতিহাস, ঐতিহ্য ও মুক্তিযুদ্ধের আলোকে গড়ে তোলা এ জাদুঘরে রয়েছে দশম শতাব্দী থেকে শুরু করে বিভিন্ন সময়ের ঐতিহাসিক নানা প্রত্নবস্তু।

বিক্রমপুরের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন সংরক্ষণের লক্ষ্যে ১৯৯৮ সালে ‘অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশন’ নামে একটি সংগঠন যাত্রা করে।

জমিদার যদুনাথ রায়ের পরিত্যক্ত এ বাড়িটি অগ্রসর বিক্রমপুর সরকারের কাছ থেকে লিজ নেয়। জাদুঘরটি দেখভালের দায়িত্ব পেয়েছে সংগঠনটি। জেলা পরিষদের আর্থিক সহায়তায় নির্মিত এ ভবনটি ২০১৩ সালের ২৮ মে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধন করেন।

২০ জুন বিক্রমপুর জাদুঘর দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। বৃহস্পতিবার ছাড়া প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৬টা পর্যন্ত জাদুঘর খোলা থাকে। এ জমিদার বাড়িতে রয়েছে। ২০০ বছর আগে নির্মিত মন্দিরসহ বিশাল বিশাল পুরাতন ভবন। তার মাঝে বিরাট পুকুর, শান বাধানো ঘাট, সাম্পান নৌকা। ভবনগুলোর পাশেই স্থাপন করা হয়েছে বিক্রমপুর জাদুঘর। অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে শ্রীনগরের রঘুরামপুর ও নাটেশ্বর গ্রামে প্রত্নতাত্ত্বিক খনন কাজ শুরু হয়। এসব খননে প্রাচীন বৌদ্ধবিহার আবিষ্কৃত হয়েছে। পাওয়া গেছে বহু প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। ১০০টির মতো প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন নিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে জাদুঘরটি।

তিনতলা ভবনের জাদুঘরের মূল ফটকের দু’পাশে রয়েছে দুটি বড় মাটির পাতিল। নিচতলায় বা পাশের গ্যালারিটি জমিদার যদুনাথ রায়ের নামে। এ জাদুঘরে রয়েছে বিক্রমপুরের প্রাচীন মানচিত্র, এখানকার বিভিন্ন প্রত্নসামগ্রীর আলোকচিত্র, বৌদ্ধবিহার, হযরত বাবা আদম (রা.) শহীদ মসজিদ, ইন্দ্রাকপুর কেল্লা এবং অতীশ দীপঙ্করের পরিচিতিমূলক আলোকচিত্র। এছাড়া রয়েছে জাতীয় জাদুঘর, বরেন্দ্র জাদুঘর ও কলকাতা জাদুঘরে সংরক্ষিত কষ্টিপাথরের মূর্তিগুলোর আলোকচিত্র। এখানে রয়েছে রঘুরামপুর, নাটেশ্বরসহ বিক্রমপুরের বিভিন্ন এলাকা থেকে পাওয়া পোড়ামাটির নল, মাটির পাত্র, পোড়ামাটির খেলনাসহ প্রত্নতাত্ত্বিক বিভিন্ন নিদর্শন। বিক্রমপুরের বিভিন্ন মনীষীর পরিচিতিসহ আলোকচিত্র, বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থান, মঠ ও মন্দিরের আলোকচিত্রও রয়েছে।

জাদুঘরের নিচতলার দুটি কক্ষের নামকরণ করা হয়েছে আচার্য জগদীশ চন্দ্র বসু গ্যালারি ও জমিদার যদুনাথ রায় গ্যালারি। এছাড়া পুরো জাদুঘর ও জমিদার বাড়ি নিয়েও কর্তৃপক্ষের রয়েছে মহাপরিকল্পনা।

এসব বিষয়ে অগ্রসর বিক্রমপুর কর্তৃপক্ষ জানান, জমিদার বাড়ির পশ্চিমে দিঘির পাড়ে দর্শনার্থীদের বসার ব্যবস্থা করা হবে। আর বাড়ির বিশাল খালি জায়গায় বসানো হবে উন্মুক্ত প্রদর্শনী—যার নাম ‘ঐতিহ্য প্রাঙ্গণ”।

তিনি আরো জানান, এ প্রাঙ্গণে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বসতবাড়ির বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন ঘর ও উঠান প্রদর্শিত হবে এবং এসব বাড়ি সজ্জিত করা হবে ওই অঞ্চলের সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য, নকশা ও উপকরণ দিয়ে। সেখানে থাকবে উপজাতিদের বাহারি রঙের নকশা করা ঘর, কাঠ ও মাটির তৈরি একতলা দোতলা ঘর। সেখানে রাখা হবে প্রায় বিলুপ্ত হওয়া ঢালকাটা ঢেঁকিসহ নানান গ্রামীণ ঐতিহ্য।






এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ





















© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD
themesbazar_brekingnews1*5k