৩রা জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ ১৭ই মে, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ ১৬ই শাওয়াল, ১৪৪৩ হিজরি



বৃক্ষ তার ফলে পরিচয়

কুশিয়ারা ভিউ ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ৬ এপ্রিল, ২০২২


পৃথিবীতে মানুষ একমাত্র প্রাণী যার বিবেক শক্তি আছে। যার মাধ্যমে ভালো-মন্দের পার্থক্য করতে পারে। আল্লাহ তায়ালা মানুষকে ভালো মন্দ দুটি বিষয়ে স্বাধীনতা দিয়েছেন।

ইচ্ছা শক্তির মাধ্যমে মন্দ স্বভাবগুলো নিবৃত্ত করা যায় আবার ইচ্ছা শক্তির স্বাধীনতা ভোগ করে জন্তু-জানোয়ার চেয়ে হিংস্র পরিগণিত হয় মানুষ।

আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আর অবশ্যই আমি সৃষ্টি করেছি জাহান্নামের জন্য বহু জিন ও মানুষকে। তাদের রয়েছে অন্তর, তা দ্বারা তারা বুঝে না; তাদের রয়েছে চোখ, তা দ্বারা তারা দেখে না এবং তাদের রয়েছে কান, তা দ্বারা তারা শুনে না। তারা চতুষ্পদ জন্তুর মতঃ বরং তারা অধিক পথভ্রষ্ট। তারাই হচ্ছে গাফেল।’ (সুরা আরাফ : ১৭৯) আল্লাহ তায়ালা সুন্দর আচরণের জন্য কোরআন ও হাদিসের মধ্যে তাগিদ দিয়েছেন এবং রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে উত্তম আচরণের মাধ্যমে মানুষকে দ্বীনের দিকে আহ্বানের নির্দেশ দেন।

জীবনের স্বাভাবিক ছন্দ পতনের অন্যতম কারণ হলো অল্পতে রেগে যাওয়া। সামান্য বিষয়ে স্ত্রী, সন্তানদের গালাগাল ও গায়ে হাত তুলতেও কুণ্ঠাবোধ করে না, জিনিসপত্র ভাঙচুর করে। নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের কার্যক্ষমতা হ্রাস পেলে, সহকর্মী ও অধিনস্তদের কাজ নিজের মন মতো না হলে চিৎকার-চেঁচামেচি, বিভৎস চেহারা প্রদর্শন। এতে করে, মানুষ নিজের ও অপরের ক্ষতি করে ফেলে। যা সুসম্পর্কে ভাটা পড়ে। আশপাশের মানুষের তিরস্কার ও ভৎসনা বাক্য শুনতে হয়। আর পরিণত হয় অপছন্দের পাত্রে।

আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘যারা সুসময়ে ও দুঃসময়ে ব্যয় করে এবং ক্রোধ সংবরণ করে ও মানুষকে ক্ষমা করে। আর আল্লাহ সৎকর্মশীলদের ভালোবাসেন।’ (সুরা ইমরান : ১৩৪) মানুষ রাগের মুহূর্তে খুব সহজ কাজ জটিল করে তোলে। ফলে ব্যক্তি পরক্ষণেই অনুশোচনায় কাতর হয়। কথায় আছে, রেগে গেলেন তো হেরে গেলেন। অনিয়ন্ত্রিত জীবনাচার অমঙ্গল ডেকে আনে। আর আত্মার নিয়ন্ত্রণ হারালে পথিকের ইহকাল ও পরকালের মুক্তির পথ নিজেই সংকোচিত করে ফেলে।

হারিস ইবনে ওয়াহাব রা. বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, কঠোর ও রুক্ষ স্বভাবের মানুষ জান্নাতে প্রবেশ করবে না। (আবু দাউদ, মিশকাত হা/৫০৮০) ইমানদার ব্যক্তি সব সময় সুনিপুণ ও কোরআন ও হাদিসের ছোঁয়ায় জীবনাচরণ নম্র ও বিনয়ী হয়।

আবু হুরায়রা রা. বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ঈমানদার মানুষ সরল ও ভদ্র হয়। পক্ষান্তরে পাপি মানুষ ধূর্ত ও হীন চরিত্রের হয়। (তিরমিযী হা/১৯৬৪; মিশকাত হা/৫০৮৫) মানুষের বহু মন্দ স্বভাব রয়েছে, তার মধ্যে যে সব স্বভাব হৃদয়ে আঘাত করে। আল্লাহ তায়ালা থেকে বিমুখ করে দেয়। অতিরিক্ত কথা বলা, অহংকার, মিথ্যাচার করা, নেতিবাচক মনোভাব, কৃপণতা ও অপচয়, নেশা করা, অনৈতিক সম্পর্কে লিপ্ত হওয়া, মানুষের দোষ খুঁজে বেড়ানো, পরনিন্দা, অতিমাত্রায় স্বার্থপর হওয়া, অল্পতে রেগে যাওয়া, সব কিছুতে একগুঁয়ে স্বভাব, কার মতের প্রধান্য না দেওয়া, হীনম্মন্যতা, খুঁতখুঁতে স্বভাব, কর্তৃত্বপরায়ণ আচরণ, পরাজয় স্বীকার না করার মনোভাব, অল্পতে হতাশ হওয়া, সব কাজ একাই করার মনোভাব, কোনো কাজে না বলতে না পারার স্বভাব, নিজের ব্যর্থতার দায়ভার অন্যের ওপর চাপিয়ে দেওয়া, আত্মকেন্দ্রিক হওয়া, আয়ের চেয়ে অধিক ব্যয় করা, মানুষের প্রতি কুধারণা, গোয়েন্দাগিরি করা, খারাপ চিন্তা করা। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আর যে আমার স্মরণ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে, তার জন্য হবে নিশ্চয় এক সংকুচিত জীবন এবং আমি তাকে কিয়ামত দিবসে উঠাবো অন্ধ অবস্থায়।’ (সূরা ত্ব-হা : ১২৪) মানুষের অন্তরের পশুস্বভাব নিয়ন্ত্রণে রাখতে; আল্লাহ ভীর্তি অন্তরে সদা বিরাজমান রাখা এবং ভালো-মন্দের পার্থক্য করতে শিখা। পরিস্থিতি থেকে সরে আসা, ইসলামী জ্ঞানের আলোয়; জীবনকে আলোকিত করা। শয়তানের কুমন্ত্রণা, কু-বাসনা থেকে আত্মনিয়ন্ত্রণের জন্য আল্লাহর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করা। মুমিন বান্দাদের সংস্পর্শে থাকা কেননা একজন মুমিন অপর মুমিনের আয়না স্বরূপ। আত্মসমালোচনা করা। নিয়মিত কিছু সময় ব্যায়াম করা। কঠিন রোগাক্রান্ত ও বিপদের ভারে নুয়ে পড়ছে এমন মানুষের দেখতে যাওয়া। মৃত্যুর কথা স্মরণ করা। ইয়াতিম ও অসহায়ের পাশে দাঁড়ানো এর মাধ্যমে অন্তরের কঠোরতা দূর হয়।

লেখক : প্রাবন্ধিক

msharkar199@gmail.com






এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ











All Bangla Newspapers



অনলাইনে বাংলাদেশের সকল পত্রিকা পড়ুন…













© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD
themesbazar_brekingnews1*5k