২১শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ ৬ই ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ২রা জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৩ হিজরি



ব্যবসায়ীবান্ধব বাজেট যথাযথ প্রতিফলনই কাম্য

সম্পাদকীয়
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ৯ জুন, ২০২১

গত ৩ জুন বিকেলে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদে ২০২১-২২ অর্থবছরের বাংলাদেশের ৫০তম বাজেট পেশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এ পর্যন্ত যতগুলো বাজেট প্রস্তাব করা হয়েছে তার মধ্যে বিশাল আকার।

এবারের বাজেট ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকার। এর মধ্যে আয় ৩ লাখ ৯২ হাজার ৪৯০ কোটি টাকা।

বাজেট ঘাটতি ৬ দশমিক ১ শতাংশ। বাজেট ঘাটতির বড় অংশই আসবে বৈদেশিক ঋণ থেকে ১ লাখ ১২ হাজার ১৮৮ কোটি টাকা। অর্থনীতিকে গতিশীল করতে ব্যয় বাড়াতেই হবে, এর কোনো বিকল্প নেই।

সবাই আশা করেছিল সরকার বিদায়ী অর্থবছরের বাজেট পুরোটাই বাস্তবায়ন করতে পারবেন। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা বিদায়ী অর্থবছরে ব্যয় করতে পারছে না বলে সংশোধন করতে হয়েছে। ‘জীবন-জীবিকার প্রাধান্য দিয়ে সুদৃঢ় আগামীর পথে বাংলাদেশ’ শিরোনামে

প্রস্তাবিত বাজেটে জীবিকা বাড়ানোর সরাসরি কোনো কথা নেই। বরং ব্যবসায়ীদের নানা সুযোগ-সুবিধার কথা বলা হয়েছে। বিভিন্ন কর ছাড় পেয়ে

ব্যবসায়ীরা উদ্যোগ বাড়াবেন, বাড়াবেন বিনিয়োগ। তাতে উৎপাদন বাড়বে, বাড়বে কর্মসংস্থান। এমন ধারণায় অর্থমন্ত্রী এমনটা করেছেন। কিন্তু লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে, গত দুই বছরে করোনার দাপটে হোক বা অন্য কোনো কারণে হোক তেমন কোনো দেশীয় বা বিদেশি বিনিয়োগ হয়নি। কাজেই চলমান করোনার কারণে আগামীতে কতটা বিনিয়োগ হবে তা সময়ই বলবে।

 



বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, এবার বাজেট প্রণয়নের ক্ষেত্রে তিনি গতানুগতিকতা থেকে বেরিয়ে এসেছেন। তিনি স্বাস্থ্য খাতকে সবচেয়ে অগ্রাধিকার দিয়েছেন বলছেন। দ্বিতীয় অগ্রাধিকার প্রণোদনা তহবিল বাস্তবায়ন অব্যাহত রাখা। তৃতীয়ত খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষি খাতকে গুরুত্ব দিয়েছেন। এরপর গুরুত্ব দিয়েছেন শিক্ষা খাত, দক্ষতাসহ মানবসম্পদ উন্নয়ন। পল্লী উন্নয়ন ও কর্মসৃজন পঞ্চম অগ্রাধিকার খাত। সবশেষে আছে সামাজিক নিরাপত্তা সম্প্রসারণ। অগ্রাধিকারে কথা যতই ঘুরিয়ে ফিরিয়ে পেঁচিয়ে বলা হোক না কেনো বরাদ্দ কিন্তু গতানুগতিক। সেখানে কোনো বিশেষত্ব নেই। অর্থমন্ত্রী এবারও বড় অংকের প্রবৃদ্ধির আলোচনায় আটকে থাকলেন। ৬ লাখ কোটি টাকার বিশাল বাজেট আর ৭ দশমিক ২ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির বড় লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে উচ্চাভিলাষ বজায় রেখেছেন।



বাজেটের আগে ব্যবসায়ীদের বড় অভিযোগ ছিলো সামগ্রিক কর ব্যবস্থা নিয়ে। সে সময় ব্যবসায়ীরা প্রচলিত কর ব্যবস্থাকে ব্যবসা বৈরী বলে আসছিলেন। এ থেকে উত্তরণে প্রয়োজন ছিলো বড়ো ধরনের সংস্কারের। প্রণোদনা তহবিল দেয়া হচ্ছে ব্যাংকের মাধ্যমে । ব্যাংক খাতের সংস্কারের কথা ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে এ অর্থমন্ত্রীই বলেছিলেন।

আবার কর জিডিপি নিম্নতম বলে সরকার নিজের অর্থে বড় আকারে প্রণোদনা তহবিলও দিতে পারেনি। সুতরাং কর ব্যবস্থার বড় সংস্কার প্রয়োজন। দক্ষিণ এশিয়ায়, এমনকি প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের কর্পোরেট কর হার সবচেয়ে বেশি। দীর্ঘদিন থেকে ব্যবসায়ীরা এ হার কমানোর কথা বলছিলেন।

গত বাজেটে এবং প্রস্তাবিত বাজেটে পর পর দুইবার আড়াই শতাংশ করে ৫ শতাংশ কর্পোরেট হার কমালেন। অর্থমন্ত্রী এবার স্থানীয় শিল্পকেও বড় ধরনের ভ্যাট ছাড় দিয়েছেন। গৃহস্থলী নানা ধরনের পণ্যের আমদানি নির্ভরতা কমাতে ভ্যাট ছাড়াও আগাম কর থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। নতুন নতুন কর সুবিধা দেয়া হয়েছে দেশে।

উৎপাদিত মোবাইল ও তথ্য-প্রযুক্তি খাতে। এদিকে করোনার কারণে দরিদ্রের হার বেড়েছে। নতুন গরিবদের বাজেটে স্বীকৃতি দেয়া হয়নি। সার্বিকভাবে করোনার দ্বিতীয় ধাক্কা বাজেট বিবেচনায় আনা হয়নি। বাজেট কাঠামো খুবই মুর্ণল সাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে অনুমিতির ওপর ভর করে।

দেশে দরিদ্র ও অতিদরিদ্র মানুষের জীবন-জীবিকার কথা বলে বাজেট শুরু করা হয়েছিল তার কোনো প্রতিফলন বাজেটে নেই। বরং ব্যবসায়ীদের সুযোগ সুবিধার কথাই ফুটে উঠেছে আদ্যন্ত। তবে প্রস্তাবিত বাজেট রাজনীতি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে তেমন শোরগোল বা বিক্ষোভ নেই।

অর্থনীতি নিয়ে যারা গবেষণা করেন, তারাই শুধু আলোচনা করছেন বাজেট নিয়ে। বাজেট ভালো মন্দ দিক নিয়ে তারা তাদের অভিমত ব্যক্ত করছেন। কিন্তু জনগণের মাঝে এনিয়ে তেমন কোনো আগ্রহ নেই। তবে সবাই বলছে, এ বাজেট ব্যবসায়ীদের খুশি করলেও সাধারণ মানুষকে হতাশ করেছে।

কুশিয়ারাভিউ২৪ডটকম/৯ জুন,২০২১/সম্পাদকীয়






এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ





















© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD
themesbazar_brekingnews1*5k