২রা ভাদ্র, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ ১৭ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ ১৯শে মহর্‌রম, ১৪৪৪ হিজরি



ভোজ্যতেলে দিশেহারা সাধারণ মানুষ

কুশিয়ারা ভিউ ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০২১

‘সিন্ডিকেট’ ও এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ীদের অতি মুনাফার কারণে দেশের সয়াবিন তেলের বাজার সবসময়ই ঊর্ধ্বমুখী।

ভোজ্যতেলের বাজার অস্থিতিশীল করা এসব ব্যবসায়ীরা বরাবরই আন্তর্জাতিক বাজারকে এজন্য দায়ী করে আসছে, যা রীতিমতো মুনাফাখোরদের মুদ্রাদোষে পরিণত হয়েছে।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, আন্তর্জাতিক বাজারে সয়াবিন তেলে দাম স্থিতিশীল থাকলেও দেশে তার উল্টো চিত্র। এমন পরিস্থিতিতে সয়াবিন তেল কিনতে গিয়ে সাধারণ মানুষ এখন দিশেহারা।

গত বছরের এপ্রিলের শুরুতে সয়াবিনের দাম বাড়ে বিশ্বজুড়ে। দেশে সেটার প্রভাব পড়তে সময় লাগেনি। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে দাম স্থিতিশীল ও উৎপাদন বাড়লেও দেশে দর কমার কোনো লক্ষণ নেই।

২০২০ সালের এপ্রিলে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি টন অপরিশোধিত সয়াবিন তেলের দাম ছিল ৭০০ ডলার। ২০২১ সালের এপ্রিলে হয় ১৪৫০ ডলার। অক্টোবরে ১৬৬০ ডলার। এরপর দামও স্থিতিশীল হয়েছে, উৎপাদনও বেড়েছে। তারপরও দেশের বাজারে প্রতিনিয়ত বাড়ছে দাম। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে বার বার দর নির্ধারণ করে দিলেও বাজারে সেই দাম কমার খবর নেই।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আমদানি ও অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য অনুবিভাগের পর্যালোচনা ও পূর্বাভাস সেলের নিয়মিত
পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, ২০২০ সালের জুনের পর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে সয়াবিন তেলের দামে ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে।

ভোজ্যতেলের দর নির্ভর করে আন্তর্জাতিক বাজারের ওপর। মোট চাহিদার ৯৫ ভাগেরও বেশি আমদানি হয়। করোনার মহামারীর বিরূপ প্রভাব সত্ত্বেও বিশ্বে সয়াবিনের উৎপাদন বেড়েছে। তবু বেড়েছে দাম।

বিশ্লেষকরা বলছেন, উৎপাদক দেশগুলো রপ্তানি বাড়ালেও ডলারের বিপরীতে ওই দেশগুলোর মুদ্রা শক্তিশালী হওয়াতেই তেলের দাম বেড়েছে।

বিশ্বে সবচেয়ে বেশি সয়াবিন তেল উৎপাদিত হয় চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রাজিলে। এর মধ্যে ২০১৯ সালে চীন ১ কোটি ৮০ লাখ টন ও যুক্তরাষ্ট্র ৮০ লাখ টন সয়াবিন তেল উৎপাদন করে। যা বিশ্বের মোট উৎপাদনের প্রায় ৪৫ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের তথ্যানুযায়ী, ২০১৯ সালে উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ৫ কোটি ৮০ লাখ টন। ২০২০ সালে বিভিন্ন দেশে উৎপাদিত হয়েছে ৬ কোটি ১০ লাখ টন।

করোনার কারণে সয়াবিন তেলের উপজাত সয়ামিলের (সয়াবিন থেকে তৈরি খাবার) চাহিদাও কমে যায়, এ কারণেও বাড়তে পারে তেলের দান। ২০২১ সালে আরও বেশি তেল উৎপাদন হবে বলে জানিয়েছে ইনডেক্সবক্স।

যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের তথ্য বলছে, ২০১৯ সালে যেখানে বিশ্বব্যাপী ৫ কোটি ৮০ লাখ টন সয়াবিন তেল উৎপাদিত হয়, সেখানে ২০২০ সালে হয়েছিল ৬ কোটি ১০ লাখ টন। তারপরও কেন দাম বাড়ল? কারণ হিসেবে ইনডেক্সবক্স বলছে উৎপাদক দেশগুলো রপ্তানি শুল্ক বাড়িয়েছে বলেই দাম বেড়েছে।

মার্কিন বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইনডেক্স বক্স-এর তথ্যমতে, গতবছর থেকেই সয়াবিন থেকে তৈরি প্রাকৃতিক জ্বালানি বায়োডিজেলের উৎপাদন কমেছে। এতেও বেড়েছে সয়াবিন তেলের উৎপাদন।

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি জানান, সয়াবিন তেল আমদানিনির্ভর বলে আন্তর্জাতিক বাজারে কঠোরভাবে নজর রাখতে হচ্ছে। সেখানে দাম কমার সঙ্গে সঙ্গে দেশের বাজারে কমানো হবে। তবে সয়াবিন তেল নিয়ে একচেটিয়া বাণিজ্যের সুযোগ নেই বলেও জানান তিনি।

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ











All Bangla Newspapers



অনলাইনে বাংলাদেশের সকল পত্রিকা পড়ুন…
















© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত২০২২ কপিরাইট © কুশিয়ারা ভিউ টোয়েন্টিফোর ডটকম
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD
themesbazar_brekingnews1*5k