৪ঠা মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ ১৮ই জানুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ ১৫ই জমাদিউস সানি, ১৪৪৩ হিজরি



মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে তৎপর সরকার

কুশিয়ারা ভিউ ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ১৪ জানুয়ারি, ২০২২

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে নানাবিধ তৎপরতা চালাচ্ছে সরকার। আগামী মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। দেশটির শীর্ষ কূটনীতিক ও মার্কিন সিনেটরদের সঙ্গে “বৈঠক করবেন তিনি।

ঢাকা ও ওয়াশিংটনের কূটনৈতিক সূত্র জানায়, উভয় জায়গা থেকেই বেশ কয়েকটি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) এবং এই বাহিনীর সাবেক ও বর্তমান ৭ জন কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পর ইতোমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্থনি ব্লিনকেনকে চিঠি দিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন।

সেই চিঠিতে সন্ত্রাস, মাদক ও জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে র‍্যাবের ইতিবাচক ভূমিকা তুলে ধরেছেন তিনি। র‍্যাবের এসব ইতিবাচক কার্যক্রম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নীতির সাথে কোনোভাবেই যে সাংঘর্ষিক নয়, সেটা বোঝাতে চায় সরকার। তবে গত ২৪ ডিসেম্বর এই চিঠি দেওয়া হলেও এখনো কোনো জবাব আসেনি।

র‍্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা সামনে রেখে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন আগামী মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন। সফরকালে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কূটনীতিক ও মার্কিন সিনেটরদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এসব বৈঠকে তিনি র‍্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে যুক্তি তুলে ধরবেন। বৈঠকের মাধ্যমে ইতিবাচক ফলাফল আসতে পারে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

র‍্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের লবিস্ট বা কোনো আইনি সংস্থাকে নিয়োগ দিতে তৎপরতা চালাচ্ছে। ওয়াশিংটনের বাংলাদেশ দূতাবাস এ বিষয়ে কাজ করছে পবিষ্ট দ্বারা যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটরদের কাছে সঠিক তথ্য সরবরাহ করতে চায় সরকার। বাংলাদেশে এই প্রথমবারের মতো র‍্যাবের শীর্ষ কর্মকর্তাদের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের পদক্ষেপ মোকাবিলা আগে কখনো করেনি বাংলাদেশ। সে কারণে বাইডেন প্রশাসনের সঙ্গে অব্যাহতভাবে আলোচনা চালিয়ে যেতে চায়। এ বিষয়ে সতর্কতার সঙ্গে পদক্ষেপও নিতে চায় সরকার।

আগামী দুই-এক মাসের মধ্যেই ঢাকা সফরে আসছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল। সফরকালে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও কীভাবে এগিয়ে নেওয়া যায়, সে বিষয়ে আলোচনা হবে। সে সময় নিষেধাজ্ঞার বিষয়টিও বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তোলা হতে পারে।

মার্কিন নিষেধাজ্ঞা নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন শুরু থেকেই খোলামেলা বক্তব্য দিয়ে চলেছেন।

তিনি বলেছেন, যখনই কোনো দেশ ভালো করে, তখন তার শত্রু বাড়ে, চাপও বাড়ে। তবে যুক্তরাষ্ট্র সরকারিভাবে তেমন কিছুই করেনি। তারা তাদের কাজ করেছে, আমরা আমাদের কাজ করছি। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড নিয়ে কঠোরভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করেছেন ড. মোমেন।

গত বছরের ১০ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবসে র‍্যাব এবং এই বাহিনীর সাবেক ও বর্তমান সাত কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে পৃথকভাবে এ নিষেধাজ্ঞা দেয় যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট (রাজস্ব বিভাগ) ও পররাষ্ট্র দপ্তর।

নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মধ্যে র‍্যাবের সাবেক মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদও রয়েছেন, যিনি এখন বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক। মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে বাংলাদেশ সরকার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। একই সাথে এটাকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বড় ধরনের কূটনৈতিক চাপ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।






এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ





















© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD
themesbazar_brekingnews1*5k