৩রা জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ ১৭ই মে, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ ১৬ই শাওয়াল, ১৪৪৩ হিজরি



রমজানে আল্লাহর প্রিয় বান্দা হওয়ার সুযোগ

সাইফুল ইসলাম সালেহী
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২২

যখন রমজানের আগমন ঘটে তখন মুমিন বান্দারা য খুশি হয়ে যায়, রমজানের বাতাশ লেগে যায় শিশুদের গায়ে। শিশুরা দল বেঁধে মসজিদে যায়। আল্লাহর প্রিয় বান্দা হওয়ার সুযোগ এই রমজাসে মাসে।

আমাদের প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, যখন রমজান মাস আসে তখন আসমানের দরজা খুলে দেওয়া হয়। (বুখারি শরীফ, খণ্ড-১ম, পৃষ্ঠা ৬২৬, হাদীস নং-১৮৯৯) রমজান দিবে পরকালে শান্তি।

বিশ্বনবী হজরত মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, জান্নাতে একটি দরজা রয়েছে যাকে বলা হয় রাইয়ান। কিয়ামতের দিন এ দরজা দিয়ে রোজাদারগণ প্রবেশ করবে। অন্য কেউ এ দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না। রোজাদারগণ প্রবেশ করলে এ দরজা বন্ধ হয়ে যাবে। ফলে আর কেউ সেখান দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না। (সহীহ বুখারী, হাদীস-১৭৯৭; সহীহ মুসলিম, হাদীস-২৭৬৬) কিছু মানুষ রমজান মাসেও অন্যায় অপরাধ ও জুলুম করে। তারা এই রমজান মাসেও ভালো হতে চায় না। রমজানের শিক্ষা গ্রহণ করতে চায় না। তারা সবসময় ঝড়গা ও খারাপ ব্যবহার করে। তাদের ব্যবহার ফেরাউন ও নমরুদের মতো। আমাদের প্রিয় নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, যখন তোমাদের কোনো ব্যক্তি রোজা রাখে তখন সে যেন কোনো অশ্লীল কথাবার্তা বা ঝগড়া-বিবাদ না করে। যদি অন্য কোনো ব্যক্তি তাকে গালি দেয়, তাহলে সে যেন উত্তরে গালি না দেয়। বরং সে বলবে আমি রোজাদার। (সহি বুখারি, হাদিস : ১৯০৪, সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৬৮২,৬৮৩) প্রিয় নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরো বলেন, যে ব্যক্তি রোজা রেখে মিথ্যা কথা এবং অন্যায় কাজ করা থেকে বিরত থাকে না তাহলে তার সারা দিন পানাহার থেকে বিরত থাকা আল্লাহ তায়ালার কোনো প্রয়োজন নেই। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১৯০৪, সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ৭০৭, সুনানে আবু দাউদ, হাদিস : ২৩৬২, সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস : ১৬৮৯) অনেকে রমজানেও একে অপরের বিরুদ্ধে সমালোচনা ও নিন্দা করে।

আল্লাহ বলেন, প্রত্যেক পশ্চাতে ও সম্মুখে পরনিন্দাকারীর দুর্ভোগ। (সুরা হুমাজাহ, আয়াত-১) এই আয়াতে আলোচনায় তাফসীরে জালালাঈন শরীফে বলা হয়েছে সমালোচনাকারী ও নিন্দুকেরা হুতামা জাহান্নামে থাকবে তাদেরকে লোহার সিন্ধুকের ভিতরে ভরে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। তখন তাদের চিৎকার কোনো কাজে আসবে না।

কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সারা বছর খাদ্য ভেজাল ও ওজনে কম দেয়। রমজানে মাসে ক্রেতা বেশি থাকে, তারা এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে আরো বেশি খাদ্য ভেজাল করে ও ওজনে কম দেয়। অথচ ওজনে কম দেওয়ার কারণে আল্লাহ তায়ালা মাদইয়ান জাতিকে ধ্বংস করে দিয়েছে। খাদ্য ভেজাল করা ও ওজনে কম দেওয়া এটা মারক্তক অপরাধ। এই সব অসাধু ব্যবসায়ীদের আল্লাহ যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি দিবেন।

আল্লাহ বলেন, যারা মাপে কম করে, তাদের জন্যে দুর্ভোগ। যারা লোকের কাছ থেকে যখন মেপে নেয়, তখন পূর্ণ মাত্রায় নেয় এবং যখন লোকদেরকে মেপে দেয় কিংবা ওজন করে দেয়, তখন কম করে দেয়। তারা কি চিন্তা করে না যে, তারা পুনরুত্থিত হবে। সেই মহাদিবসে; যেদিন মানুষ দাঁড়াবে বিশ্ব পালনকর্তার সামনে। এটা কিছুতেই উচিত নয়, নিশ্চয় পাপাচারীদের আমলনামা সিজ্জীনে আছে। আপনি জানেন, সিজ্জীন কি? এটা লিপিবদ্ধ খাতা। সেদিন দুর্ভোগ মিথ্যারোপকারীদের; যারা প্রতিফল দিবসকে মিথ্যারোপ করে। প্রত্যেক সীমালঙ্ঘনকারী পাপিষ্ঠই কেবল একে মিথ্যারোপ করে। (সুরা মুতাফফীফিন, আয়াত : ১-১২) যাদের ওপর জাকাত ফরজ হয়েছে, তাদের অবশ্যই জাকাত দিতে হবে।

আল্লাহ বলেন, হে মুমিনগণ, তোমরা তোমাদের পবিত্র উপার্জন থেকে খরচ কর (জাকাত প্রদান কর) এবং আমি তোমাদের জন্য ভূমি থেকে যা বের করেছি তা থেকে (জাকাত প্রদান কর)। (সুরা বাকারা, আয়াত-২৬৭) অথচ যাদের জাকাত দেওয়ার সামর্থ্য আছে তাঁরা অনেকে জাকাত দেয় না, এটা খুব মারাত্মক অপরাধ। আল্লাহ বলেন, ধ্বংস মুশরিকদের জন্য। যারা জাকাত দেয় না। আর তারাই আখিরাতের অস্বীকারকারী। (সুরা ফুসসিলাত, আয়াত ৬-৭)

লেখক : সাইফুল ইসলাম সালেহী

আলেম, প্রাবন্ধিক






এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ











All Bangla Newspapers



অনলাইনে বাংলাদেশের সকল পত্রিকা পড়ুন…













© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD
themesbazar_brekingnews1*5k