১১ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ ২৭শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ২১শে রবিউল আউয়াল, ১৪৪৩ হিজরি



রাণীনগরে বৃদ্ধি পেয়েছে পাটচাষ

কুশিয়ারা ভিউ ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ২০ আগস্ট, ২০২১

নওগাঁর রাণীনগরে দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে এক সময়ের সোনালি আঁশ পাটের চাষ। গত কয়েক বছর বাজারে পাটের ফলন ও দাম ভালো পাওয়ায় পাটচাষ কৃষকদের মাঝে নতুন করে সাড়া জাগিয়েছে।

কিন্তু কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া লাগলেও পাটচাষ কিংবা পাটজাগ (পচন) দেয়ায় আধুনিক পদ্ধতি এখনো স্পর্শ করেনি। এতে সনাতন পদ্ধতিতে পাট জাগ দেয়া ও আঁশ ছড়ানোর কারণে পাটের গুণগত মান যেমন নষ্ট হচ্ছে তেমনিভাবে পাটচাষিরাও ভালো দাম পাওয়া থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছেন। সচেতনতার অভাবে পাট জাগ দেয়ার আধুনিক পদ্ধতি রিবন রেটিং পদ্ধতি কৃষকদের মাঝে সাড়া ফেলতে পারেনি। এখনো উপজেলার কৃষকরা সনাতন পদ্ধতিতে পাট জাগ দিয়ে আসছেন। ফলে এক দিকে যেমন কমছে পাটের গুণগত মান অন্যদিকে ক্ষতি হচ্ছে পরিবেশের। প্রথমে পাটের আঁশ ছাড়িয়ে নিতে হয় তারপর পাটের আঁশে রিং আকারে আঁটি বেঁধে পানির একটি হাউসের মধ্যে জাগ দেয়া হলে পাটের গুণগত মান ভালো হওয়ার কারণে কৃষকরা পাটের নায্যমূল্য পায়। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ পাট চাষের আধুনিক পদ্ধতি ও কাটার পর পাট পচানোর জন্য মাঠপর্যায়ে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করলেও ঝামেলা জনিত কারণে তা মানছেন না কৃষকরা।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে মেস্তা, দেশি ও তোষা জাতের প্রায় ১০০ হেক্টর জমিতে পাটচাষ করা হয়েছে।

গত বছর উপজেলায় পাট চাষ হয়েছিলো ৭০ হেক্টর। গত বছরে পাটের ভালো ফলন ও দাম আশানুরুপ পাওয়ায় চাষিরা অন্য ফসলের পাশাপাশি পাটচাষের দিকে আগ্রহী হয়ে উঠছে। প্রতি বিঘা জমিতে প্রায় ১৫ মণ পর্যন্ত পাট উৎপাদন হয়। তবে চাষিদের কৃষি অফিসের পরামর্শে পাট জাগ না দেয়ায় সনাতন পদ্ধতিতে পাট জাগ দেয়ার কারণে পাটের রং কালো ও গুণগত মান কমে যাচ্ছে। শুধু তাই নয়, খোলা রাস্তায় ধুলাবালির উপর পাট শুকানোর কারণে মান নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। ইতোমধ্যেই কৃষকরা হাটে-বাজারে পাট বিক্রয় শুরু করেছে। স্থানীয় বাজারগুলোতে মান ভেদে প্রতি মণ কাঁচা পাট তিন হাজার থেকে ৩৫শ টাকা পর্যন্ত বেচা কেনা হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ শহীদুল ইসলাম জানান, গত বছরগুলোতে পাটের বাজার কম থাকাই এই ফসলের প্রতি চাষিদের আগ্রহ কমে গিয়েছিল। পরিবেশবান্ধব পাটের ব্যবহার ও চাষ বৃদ্ধির লক্ষ্যে বর্তমান সরকারের গৃহীত নানা পদক্ষেপ আবার নতুন করে পাটের চাহিদা বৃদ্ধি করেছে। যার কারণে বাজারে পাটের দামও ভালো পাওয়া যাচ্ছে।

কিন্তু পাট জাগ (পচন পদ্ধতি) পদ্ধতি বিষয়ে কৃষকরা রিবন রেটিং পদ্ধতি ব্যবহার করতে নারাজ। তবুও আমরা আধুনিক পদ্ধতি সম্পর্কে পাটচাষিদের সচেতন করার চেষ্টা করছি।






এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ





















© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD
themesbazar_brekingnews1*5k