৪ঠা মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ ১৮ই জানুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ ১৫ই জমাদিউস সানি, ১৪৪৩ হিজরি



শীতে স্থবির তৃণমূলের জনজীবন: বিত্তবানদের অংশগ্রহণ জরুরি

সম্পাদকীয়
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ১৪ জানুয়ারি, ২০২২

ষড়ঋতুর দেশ বাংলাদেশে পৌষ-মাঘ মূলত শীতকাল। আর এ সময়েই দেশের মানুষ শীতের হাড় কাঁপানো ঠান্ডা অনুভব করে থাকেন। তবে চরমভাবাপন্ন দেশের উত্তরাঞ্চাল এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জনজীবন এসময় হয়ে পড়ে নাজুক। এই সময়ে সূর্যের দেখা মেলাও ভার। সম্প্রতি উত্তরের জেলা নাটোরে বেশ কয়েকদিন ধরে সূর্যের দেখা মেলেনি; আবার সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় তাপমাত্রা নেমে গেছে অসহনীয়ভাবে। গত ৭ জানুয়ারি এখানকার তাপমাত্রা ছিল ৯ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। মূলত এসময় বিপাকে পড়তে হয় খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষের।

বাংলাদেশের অর্থনীতি অতোটা শক্তিশালী নয়, যতোটা হলে একদিকে মহামারি অন্যদিকে শীতের প্রকোপ মোকাবিলা করা যায়। ফলে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে কর্মজীবী ও দরিদ্র মানুষকে। এছাড়া শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশু-বৃদ্ধসহ নানা বয়সি মানুষ। তীব্র শীতে উপার্জন কমে গেছে দিন এনে দিন খাওয়া মানুষের। সকালে কাজের সন্ধানে বের
হয়েও কাজ না পাওয়ায় বসে অলস সময় পার করছেন অনেকে। শীতের প্রকোপ বাড়ায় সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে বেড়েছে ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। যার অধিকাংশ ডায়রিয়া, হাঁপানি, শ্বাসনালির প্রদাহসহ ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত। সর্দি-কাশি
থেকে শুরু করে অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যাও প্রকট হয়ে উঠছে।

সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়তে হচ্ছে দরিদ্র দিনমজুরদের। গরম কাপড়ের অভাবে কাজে যেতে পারছেন না তাদের অনেকে। এদেরকে শীত প্রতিরোধের সঙ্গে সঙ্গে ক্ষুধা নিবারণের জন্যও সংগ্রাম করতে হয়। শীত জেঁকে বসায় শ্রমজীবী মানুষের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে পাথর ও চা শ্রমিক এবং কৃষিকাজের সঙ্গে সম্পৃক্তরা পড়েছেন বেকায়দায়। প্রচণ্ড শীতে দক্ষিণের চরাঞ্চল ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগও বেড়েছে। মানুষের পাশাপাশি কাবু হয়ে পড়েছে গবাদি পশু-পাখিও। আবার ভাসমান লোকজন আশ্রয়ের অভাবে দালান-কোঠার বারান্দায় আশ্রয় নিলেও শীতে কাবু হয়ে জীবন বাঁচানোর লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছে। এসব শীতার্ত মানুষের পাশে সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো এগিয়ে এলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।

যেমন— গত এক মাসে উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে ২৪ হাজার কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। এর বাইরেও বিভিন্ন সংগঠনও দিয়েছে আরও ৫ হাজার কম্বল। কিন্তু এসবই জেলা ও উপজেলাতেই সীমাবদ্ধ। ইউনয়ন পর্যায়ে এই বরাদ্দ খুবই সীমিত। সুতরাং শীতের তীব্রতা থেকে জনজীবন রক্ষায় সরকারি ও বেসরকারি উভয় পর্যায়েই তৃণমূল পর্যন্ত কাজ করা জরুরি। শুধু গরম বস্ত্র বা কম্বল বিতরণ নয়, পাশাপাশি মেডিকেল টিম পরিচালনাও অত্যাবশ্যক এসব হতদরিদ্র মানুষের জন্য। শীতজনিত রোগ বেড়ে যাওয়ায় মেডিকেল টিম দ্বারা এদের নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে। ডায়রিয়া ও নিউমনিয়ায় আক্রান্ত রোগীরা এলে জরুরিভিত্তিতে চিকিৎসা দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।

আমরা আশা করবো, শীতার্ত মানুষের কল্যাণে সবাইই এগিয়ে আসবেন। শীতের সবজি-বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। করোনা মহামারির জন্য স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে মেনে চলার পরিবেশ তৈরি করতে হবে। গরিব, অসহায় এবং ছিন্নমূল জনগোষ্ঠীর জন্য ত্রাণ সহায়তা বাড়াতে হবে। সরকারি ত্রাণ ও সহায়তা কার্যক্রমে যেন কোনো ধরনের নিয়ম এবং অস্বচ্ছতা তৈরি না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। প্রয়োজনে সত্যিকার অর্থে দুর্ভোগে থাকা দুস্থদের তালিকা প্রণয়নে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা নিতে হবে। দুস্থ ও অসহায় মানুষের চাহিদা অনুযায়ী যথাযথ সহায়তা পৌঁছে দিতে হবে। সুতরাং প্রচণ্ড শীতে তৃণমূলের মানুষের জীবনযাত্রা স্বাভাবিক রাখতে সরকারের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানদের ব্যাপক অংশগ্রহণ জরুরি। এক্ষেত্রে বর্তমান সময়ে সরকারের নির্দেশনাও কাম্য। আমরা মনে করি, এর মাধ্যমে জেঁকে বসা শীত থেকে সাধারণ মানুষকে রক্ষা এবং বর্তমান সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব।






এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ





















© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD
themesbazar_brekingnews1*5k