১১ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ১৯শে সফর, ১৪৪৩ হিজরি



শেষ মুহূর্তে ফেঞ্চুগঞ্জে জমে উঠেছে ঈদবাজার

ছামি হায়দার,ফেঞ্চুগঞ্জ
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ১২ মে, ২০২১

মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতরের আরো দু’দিন বাকি। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বিধি উপেক্ষা করে সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে  জমে উঠেছে ঈদের কেনাকাটা।

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে কঠোর লকডাউনের কারণে এবং স্থানীয় প্রশাসনের কঠোর তদারকিতে প্রথম দিকে ঈদ বাজার খুব একটা জমে না উঠলেও গত সপ্তাহ থেকে পরিস্থিতি পাল্টে গেছে।

স্বাস্থ্যবিধি মেনে শপিংমল, বিপণী বিতান ও মার্কেটগুলো খুলে দেওয়ার সরকারি ঘোষণার পর ফেঞ্চুগঞ্জে নেমেছে মার্কেটমুখী মানুষের ঢল।  বিপণী বিতানগুলোতে এখন দেখা যাচ্ছে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড়। চলছে বিক্রেতাদের নানা হাকডাক। বেড়েছে ব্যাপক ব্যস্ততা।

তবে প্রতিবছর যেমন রোজার শুরু থেকেই কয়েক দফা বিভিন্ন শপিংমল ঘুরে পোশাক, জুতা ও অন্যান্য সামগ্রী কেনাকাটা করেন; এবার চিত্রটা একটু ভিন্ন। এক দিনেই পছন্দের পোশাকের পাশাপাশি জুতাও কিনে নিচ্ছেন ক্রেতারা।

উপজেলা জুড়ে অবস্থিত দোকানগুলোও খোলা রয়েছে। মার্কেট থেকে ফুটপাত সবখানে গভীর রাত পর্যন্ত ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এতে ঈদকেন্দ্রিক কেনাকাটা জমে উঠতে শুরু করেছে। মার্কেট খুলে দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানাচ্ছেন ক্রেতা-বিক্রেতারা। তবে স্বাস্থ্যবিধি মানার ক্ষেত্রে মানুষের মধ্যে উদাসীনতা দেখা গেছে।

সরেজমিন উপজেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বেড়েছে বিক্রেতাদের ব্যবস্ততা সেই সাথে ব্যাপক বেচাকেনাও চলছে। অন্য সময়ের তুলোনায় কাপড়সহ অন্যান্য জিনিসের দাম বেশি। পূর্বে করোনাভাইরাস আতঙ্কের কারণে বেচাকেনা কম থাকলেও গত দুইদিনে ভালো বেচাকেনা হচ্ছে। সব ধরণের কাপড় চোপড়ই এবার ভালো চলছে।

প্রতিটি দোকানে শাড়ি, লুঙ্গি, থ্রিপিস, ফ্রক, প্যান্ট, শার্ট বেচাকেনার ধুম পড়েছে। ঈদে এছাড়া ফুটপাতের দোকানেও  বেচাকেনা করছেন বেশ। গরিব ও মধ্যবিত্ত পরিবারের লোকজন ফুটপাতের দোকান থেকে কম দামে কেনাকাটা সারছেন। তবে করোনাকালে সরকারের নির্দেশ অমান্য করে মার্কেটে ও ফুটপাতে অধিকাংশ ক্রেতা-বিক্রেতাদের মাঝে নেই স্বাস্থ্যবিধি মানার কোনো বালাই। অনেকেই ব্যবহার করছেন না মাস্ক।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, মার্কেটগুলোতে ঈদকেন্দ্রিক সবচেয়ে বেশি বেচাকেনা হয়। লকডাউনের কারণে গতবারের মতো এবারও দোকান খোলা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছিল। সরকার ব্যবসায়ীদের দিকে তাকিয়ে দোকানপাট খোলার অনুমতি দিয়েছে। এতে তারা খুশি। আর তারা স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতে সর্বাত্মক চেষ্টা করে যাচ্ছেন।

গত কয়েকদিন ধরে ক্রেতা ভালোই আসছে। তবে ব্যবসায়ীরা আশা করছেন চাঁদ রাত পর্যন্ত ক্রেতাদের এমন সমাগম থাকবে।

ফেঞ্চুগঞ্জ বাজারে পরিবারের জন্য ঈদ মার্কেট করা নাদিয়া বেগম বলেন,আমাদের এক ছেলে এক মেয়ে। গত বছর কারও জন্য কিছু কেনা হয়নি। এবার কিছু না কিনলে হয় না তো, ওদেরও শখ আহ্লাদ আছে। করোনার ভয়ে ঘরের মধ্যে আর কতদিন থাকবো?’

শুধু কাপড়ের দোকানে নয় বরং কসমেটিক্স, জুতা ও মুদি দোকানগুলোতেও সেমাই-চিনিসহ ক্রেতারা ভিড় করছেন নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনাকাটার জন্য।

সব মিলিয়ে বৈশ্বিক মহামারি করোনাকালীন এ বছরের ঈদ আনন্দ নিরানন্দ মিশ্রিত কাটবে বলে জানান অনেকেই।

 






এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ





















© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD
themesbazar_brekingnews1*5k