৭ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ১৫ই সফর, ১৪৪৩ হিজরি



শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় চিরনিদ্রায় এমপি মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী

রিপোটারের নাম
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ১২ মার্চ, ২০২১

নিজস্ব প্রতিবেদক: হাজারো মানুষের শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন  সিলেট -৩ (ফেঞ্চুগঞ্জ,বালাগঞ্জ,দক্ষিণ সুরমা ) আসনের সংসদ সদস্য, সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও শেখ রাসেল জাতীয় শিশু কিশোর পরিষদের কেন্দ্রীয় মহাসচিব  মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী।

শুক্রবার সন্ধ্যায় গ্রামের বাড়ি ফেঞ্চুগঞ্জের নুরপুর বড়বাড়ী গ্রামে দেলওয়ার হোসেন চৌধুরী জামে মসজিদ সংলগ্ন কবরস্থানে তাঁকে সমাহিত করা হয়।

এর আগে বাদ আসর উপজেলার কাসিম আলী সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় আ.লীগ ও সহযোগী সংগঠনের পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানানো হয়।

এ সময় বিভিন্ন দলীয় নেতাকর্মী, প্রশাসন ও সর্বস্তরের হাজার হাজার মানুষ জানাজায় অংশগ্রহণ করেন।

এর আগে সকাল ১২ টায় ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারযোগে তার লাশ ফেঞ্চুগঞ্জ  উপজেলার এনজিএফএফ খেলার মাঠে এসে পৌঁছলে সেখান থেকে তার গ্রামের বাড়ি নুরপুরে নেয়া হয়।

বৃহস্পতিবার (১১ মার্চ) রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেলা আড়াইটার দিকে তিনি ইন্তেকাল করেন।

জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরে শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন সংসদ সদস্য মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী। গত রোববার (৭ মার্চ) তিনি ঢাকার উদ্দেশে রওনা দিয়ে বিমানে ওঠার সময় হাঁপিয়ে পড়েন এবং বিমানের মধ্যেই অসুস্থ অনুভব করায় সেখান থেকে সরাসরি তাকে হাসপাতালে ভর্তি হয়। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর তার শরীরে করোনা শনাক্ত হয়। এরপর তাকে ঢাকা ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে স্থানান্তর করা হয় হাসপাতালে ভেন্টিলেশন বিভাগে।

মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, ১ পালকপুত্রসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। এর আগে গত ১০ ফেব্রুয়ারি করোনাভাইরাসের টিকা নিয়েছিলেন তিনি। তারপর কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছিল না।

সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ, বালাগঞ্জ ও দক্ষিণ সুরমা উপজেলা নিয়ে সিলেট-৩ আসন।

মরহুম মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী সিলেট -৩ আসন থেকে টানা তিনবারের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

উল্লেখ্য, ১৯৫৫ সালের ৩ জানুয়ারি সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার ২নং মাইজগাঁও ইউনিয়নের নুরপুর (বড়বাড়ী) গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তার পিতার নাম মরহুম দেলোয়ার হোসেন চৌধুরী ও মাতা মরহুমা আছিয়া খানম চৌধুরী।

গত (২০১৮ সালের) নির্বাচনে তিনি নৌকা প্রতীক নিয়ে ১ লাখ ৭৬ হাজার ৫৮৭ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির শফি আহমদ চৌধুরী পান ৮৩ হাজার ২৮৮ ভোট।

এর আগে ২০১৪ সালের নির্বাচনে মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী  বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ৯৭ হাজার ৫৯৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছিলেন। ওই নির্বাচনে তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির শফি আহমদ চৌধুরী ৫৪ হাজার ৯৫৫ ভোট পেয়েছিলেন। এ ছাড়া ১৯৯৬ সালে সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও ২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী দ্বিতীয় অবস্থানে ছিলেন।

করোনাভাইরাসের এই দুর্যোগে তিনি নিজ নির্বাচনি এলাকার মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে প্রশংসিত হয়েছেন এই সংসদ সদস্য।নিজ  নির্বাচনি এলাকায় সহায়তা নিয়ে ছুটে চলেছিলেন মানুষের বাড়ি বাড়ি। খাদ্য, অর্থ ও ঔষধ বিলিয়েছেন বিরামহীন ভাবে।

 






এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ





















© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD
themesbazar_brekingnews1*5k