২২শে আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ ৭ই অক্টোবর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ ১১ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৪ হিজরি



সংক্রমণে দাপট ডেল্টার

কুশিয়ারা ভিউ ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ৭ জানুয়ারি, ২০২২

 

   


       ওমক্রিনের তথ্য নেই

        টিকা ছাড়া স্কুলে নয়

         ভ্রমণে লাগবে সনদ


বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রনের ব্যাপক সংক্রমণ ঘটেছে। দেশেও ওমিক্রনে আক্রান্ত মোট ১০ জন রোগীর সন্ধান পাওয়া গেছে। কিন্তু চলতি বছরের ছয় দিনে চার হাজারের বেশি নতুন রোগী শনাক্ত হলেও তা কোন ধরনের তার সঠিক তথ্য নেই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাছে।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে এখনো ওমিক্রনের প্রভাব সেভাবে পড়েনি। বিধ্বংসী ডেল্টার দাপটেই বাড়ছে সংক্রমণ।

এদিকে, নতুন বছরের প্রথম দিন থেকেই দেশে করোনায় রোগী শনাক্তের হার বাড়ছে। চলতি মাসের প্রথম ছয় দিনে শনাক্ত হয়েছেন ৪৩৯৮ জন। তার মধ্যে গত একদিনে নতুন সংক্রমণ হাজারের বেশি। সর্বশেষ গত ২৯ সেপ্টেম্বর একদিনে ১ হাজার ১৭৮ জনের শরীরে করোনা সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছিল। গত মঙ্গলবার থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত ৮৯২ জনের করোনা শনাক্ত হয়। বছরের প্রথম দিন ৩৭০ জন, ২ জানুয়ারি ৫৫৭ জন, ৩ জানুয়ারি ৬৬৪ জন, ৪ জানুয়ারি ৭৭৫ জন শনাক্ত হওয়ার খবর জানায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

গতকাল অধিদপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত একদিনে নমুনা পরীক্ষায় এক হাজার ১৪০ জনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে মারা গেছে সাতজন। পরীক্ষা বিবেচনায় রোগী শনাক্তের হার ৪ দশমিক ৪৬।

গত বছরের মাঝামাঝি দেশে করোনায় মৃত্যু, রোগী শনাক্ত ও শনাক্তের হার বেড়েছিল। আগস্টে দেশব্যাপী করোনার গণটিকা দেওয়ার পর সংক্রমণ কমতে থাকে। গত ডিসেম্বরের প্রথম কয়েক সপ্তাহ ধরে করোনা শনাক্ত ১ শতাংশের ঘরেই ছিল। কিছুদিন ধরে ডেল্টার দাপটে করোনার সংক্রমণে আবার ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে দেশে করোনাতে নতুন শনাক্ত দ্বিগুণ হয়েছে।

শনাক্ত বাড়ার কারণ হিসেবে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে এখনো ওমিক্রনের প্রভাব সেভাবে পরেনি। এখনো সেই বিধ্বংসী ডেল্টার প্রভাব রয়েছে, সেই সঙ্গে রয়েছে মানুষের স্বাস্থ্যবিধি না প্রবণতা।

আইইডিসিআর পরিচালক অধ্যাপক ডা. তাহমিনা শিরীন গণমাধ্যমকে বলেন, ওমিক্রন আসছে, কিন্তু সবই ওমিক্রন এটা বলা যাবে না। এখন পর্যন্ত আমাদের হাতে যে তথ্য রয়েছে তাতে করে ডেল্টার রোগীই বেশি।

আইইডিসিআরের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. এএসএম আলমগীর বলেন, আমরা কেউ সতর্কতাগুলো মানছি না- এটাই রোগী বাড়ার অন্যতম কারণ। ওমিক্রনতো এখানে তেমনভাবে হয়নি, আমাদের এখানে এখনো ডেল্টার সংক্রমণই হয়েছে। ডেল্টাতে তো জটিলতা বেশি হয়, হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়, মানুষের মৃত্যু হচ্ছে বেশি। তিনি বলেন, ওমিক্রন কোনো দেশ ঠেকাতে পারেনি। আমরাও পারবো না। কিন্তু এখনো দেশে ডেল্টাই রয়েছে। ওমিক্রনে এখন পর্যন্ত ১০ জন পাওয়া গেছে, ভবিষ্যতে হয়তো আরো পাওয়া যাবে। তবে স্বাস্থ্যবিধি না মানলে কোনো ভ্যারিয়েন্টকেই আটকানো যাবে না।

স্বাস্থ্যবিধি না মানার কারণেই গত এক সপ্তাহ ধরেই রোগী বাড়ছে উল্লেখ করে ডা. আলমগীর বলেন, পাঁচ শতাংশের নিচে থাকা অবস্থায় হয়তো সহনীয় পর্যায়ে থাকবে, তবে তারচেয়ে বাড়তে শুরু করলে বলা হয় ওমিক্রন ডেল্টার চেয়ে তিন থেকে পাঁচগুণ বেশি সংক্রামক, তাহলে রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকবে। সেই সঙ্গে হবে ডেল্টার সিভিয়ারাটি। এজন্য স্বাস্থ্যবিধি মানা ছাড়া কোনো উপায় নেই।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (রোগ-নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাপক ডা. মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, ওমিক্রন বা ডেল্টা বা অন্য যে কোনো ভ্যারিয়েন্টের সংক্রমণ হোক না কেন সংক্রমণ রোধে ব্যক্তিগত শিষ্টাচার ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিকল্প নেই। এছাড়া সরকারঘোষিত ১৫ দফা নির্দেশনা মেনে চললে ওমিক্রনের সংক্রমণ
ঠেকানো যাবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। কিছু দিন ধরে শনাক্ত সংখ্যা ও হার বাড়তে থাকায় করোনা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় মানুষের চলাফেরার ওপর ফের বিধিনিষেধ আরোপ করতে যাচ্ছে সরকার।

টিকা ছাড়া ১২ বছর বয়সী কোনো শিক্ষার্থী স্কুলে যেতে পারবে না। খেতে যাওয়া যাবে না রেস্টুরেন্টে; ভ্রমণ করা যাবে না বিমান-ট্রেনে। এমন বাধ্যবাধকতা রেখে দুয়েক দিনের মধ্যে আসছে সরকারি নির্দেশনা আসছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম। সচিবালয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার (৬ জানুয়ারি)  মন্ত্রিপরিষদের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় এরই মধ্যে ইন্সট্রাকশন দিয়ে দিয়েছে যে ভ্যাকসিন ছাড়া ১২ বছরের ওপরে কেউ স্কুলে আসতে পারবে না। ভ্যাকসিন তো এখন গ্রামগঞ্জ পর্যন্ত আমাদের এভেইলেবল আছে। সে জন্যই এটা ইমপোজ করে দেওয়া হয়েছে। ভ্যাকসিনে গিয়ে যদি স্কুলে যাওয়া সহজ হয় তাহলে সেটাই সবাই কামনা করে।

তিনি বলেন, টিকা না নিয়ে কেউ স্কুলে যেতে পারবে না। অন্তত পক্ষে ফার্স্ট ডোজ নিতে হবে। ১২ বছরের নিচে এখনো কাউন্টে আসেনি আমাদের দেশে। বাচ্চাদের নিবন্ধনেরও প্রয়োজন নেই। তারা বার্থ সার্টিফিকেট বা যে কোনো একটি সার্টিফিকেট নিয়ে গেলেই টিকা পেয়ে যাবে।

টিকা নেওয়ার সার্টিফিকেট ছাড়া রেস্টুরেন্টে খাওয়া-দাওয়া, শপিং কমপ্লেক্সে যাওয়া এবং বিমান-ট্রেনে ভ্রমণ করা যাবে না। বাড়ির বাইরে মাস্ক ছাড়া বের হওয়া যাবে না। কোভিড সংক্রমণ আরো বাড়লে গণপরিবহনের অর্ধেক যাত্রী নিয়ে চলাচলের সিদ্ধান্ত হবে। তবে ভাড়া বাড়ানো যাবে না। রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে সীমিত জনসমাগম করতে হবে। টিকা সার্টিফিকেট ছাড়া যাওয়া যাবে না বাণিজ্য মেলা, বইমেলাতেও। নির্দেশনায় এর বাইরেও আরো কিছু বিধিনিষেধে থাকবে বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

কীভাবে নির্দেশ বাস্তবায়ন করা হবে, জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, মোবাইলে সফট কপি থাকবে বা হার্ড কপি থাকবে। টোটাল পপুলেশন কখনই কোনো দেশে চেক করা সম্ভব না, স্যাম্পল চেক করা হয়। টিম থাকবে প্রতিটি শহরে। প্রত্যেক পৌরসভায় হেলথ ইন্সপেকটর আছে তারা চেক করবে। ল এনফোর্সের লোকজন চেক করবে। এটা একটা সময় দিতে বলা হয়েছে আলাপ আলোচনা করে তারপর এটা করতে হবে। ওমিক্রন ঠেকাতে হলে আমাদের স্ট্রিক্ট ভিউতে যেতে হবে।

তিনি বলেন, আমরা এখন থেকে রেস্তোরাঁ, শপিংমল, প্লেন, লঞ্চে ট্রেনে উঠার ক্ষেত্রে ডাবল ভ্যাকসিনেশনের একটি ইমপোজ আসছে। আমরা এরই মধ্যে সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে। টেকনিক্যাল লোকজন আছে, দু-একদিনের মধ্যে তাদের সঙ্গে কথা বলে একটা সময় দিয়ে আমরা অর্ডার দিয়ে দিচ্ছি। বাড়ির বাইরে কোনো অবস্থাতেই মাস্ক ছাড়া যেতে পারবে না। আমরা এরই মধ্যে এটা বলে দিয়েছি। মোবাইল কোর্ট বা আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর মাধ্যমে এটা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। এটা নিয়ে প্রমোশন ক্যাম্পেইনে কথা বলা হয়েছে। আমাদের ইমাম সাহেবরা যেন খুতবাতেও এই কথাগুলো বলেন।





এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ









All Bangla Newspapers






















© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত২০২২ কপিরাইট © কুশিয়ারা ভিউ টোয়েন্টিফোর ডটকম
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD
themesbazar_brekingnews1*5k