২রা কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ ১৮ই অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ১২ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৩ হিজরি



সিডনির বাংলাদেশি চাষি

কাউসার খান
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২১

অস্ট্রেলিয়ার সিডনি শহর থেকে এম৫ মহাসড়ক ধরে ৫০ কিলোমিটার পর লেপিংটন এলাকা।

রামিনস ফার্মে যেতে হয় সেখানকার ইস্টউড রোড দিয়ে। হতভম্ব হওয়ার জোগাড় হলো সেই খামারে গিয়েই, যেন কোনো মন্ত্রবলে পৌঁছে গিয়েছি সুদূর বাংলাদেশের নিভৃত এক গ্রামে।

এখানে হরেক রকম শাকসবজির খেত নজরে পড়বে। সবই বাংলাদেশের সবজি। আছে লালশাক, ডাঁটাশাক, কাঁচা মরিচ, উচ্ছে, চিচিঙ্গা, শিম, লাউ, মিষ্টিকুমড়া, বেগুন, কচুশাক, ধুন্দুল, টমেটোসহ আরও কত কী। খামারটি গড়ে তুলেছেন হারুন রশিদ নামে বাংলাদেশি তরুণ।

সিডনির লেপিংটন এখনো অনেকটাই খোলা প্রান্তর। কিন্তু চাষাবাদের উপযোগী ফসলি জমি তেমন নেই। বাংলাদেশের উর্বর জমির মতো এখানে যা ইচ্ছা তাই চাষ করা সম্ভব নয়। টমেটো কিংবা মরিচের মতো সবজিও ভিনদেশ থেকে আমদানি করে অস্ট্রেলিয়া। তবু প্রবাসী বাংলাদেশিদের দেশীয় তাজা সবজির স্বাদ পাইয়ে দেওয়ার স্বপ্ন থেকে ২০১৬ সালে চাষাবাদ শুরু করেন তরুণ হারুন রশিদ।

শুরুতে দুই বন্ধুর সহযোগিতা পেলেও একটা সময় তাঁরা উৎসাহ হারিয়ে ফেলেন। হারাবেনই না কেন, বছরখানেক চেষ্টা করেও জমিতে ফসল ফলাতে পারেননি। তবে হার মানেননি হারুন। তাঁর নিরলস পরিশ্রমে যাত্রা শুরু হয় রামিনস ফার্মের। এই খামারে চাষ হয় বাংলাদেশের বেশির ভাগ শাকসবজিই। উৎপাদিত এসব শাকসবজি সরাসরি চলে যায় সিডনির বিভিন্ন বাংলাদেশি দোকানে।
সবচেয়ে উপভোগ্য ব্যাপারখানা ঘটে সপ্তাহের শনি ও রোববারে। সাপ্তাহিক ছুটির এই দুদিনে বাজার করা থেকে ঘরোয়া বেশির ভাগ কাজই সেরে নেন অস্ট্রেলিয়াবাসী। অনেকে আবার পরিবার-পরিজন নিয়ে বাইরে সময় কাটান। এ দুটি দিনই রথ দেখতে গিয়ে কলা বেচার মতো অনেকে হাজির হন হারুনের খামারে। খামারের পক্ষ থেকে গ্রামের হাটের মতোই তরতাজা সবজির পসরা সাজানো থাকে। আগে থেকেই খামারের ফেসবুক পেজে কোন সবজির কত দাম, তা জানিয়ে দেওয়া হয়। মেলার মতোই অনেকেই পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসেন খামারে।

হারুন রশিদের জন্ম ও বেড়ে ওঠা টাঙ্গাইলে। দেশের স্কুল ও কলেজের গণ্ডি পেরিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ওলোংগং বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবস্থাপনায় স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নিয়েছেন। স্ত্রী এবং তিন সন্তান নিয়ে এখন লেপিংটন এলাকাতেই বসবাস করছেন। নিজ উদ্যোগে গড়ে তোলা এই খামারে নিজেই চাষাবাদের কাজ করেন। খামার ঘুরে দেখাতে দেখাতে তিনি বলছিলেন, ‘দেশের সেই সবুজ গ্রামে আমার শৈশবের কথা মনে পড়ে, খামারে এলেই চোখে ভাসে সেসব স্মৃতি। আর দেশের মানুষকে তাজা শাকসবজির স্বাদ দিতে পারছি, এটাই আমার আসল প্রাপ্তি।’

লেখক:কাউসার খান।
সিডনি, অস্ট্রেলিয়া

কুশিয়ারাভিউ২৪ডটকম/কাউসার






এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ





















© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD
themesbazar_brekingnews1*5k