৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ ১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ১২ই সফর, ১৪৪৩ হিজরি



সিলেট- ৩ উপ-নির্বাচন: হাবিব-আতিকের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস

মুহাজিরুল ইসলাম রাহাত ও ছামি হায়দার
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২১

সিলেট-৩ আসনের উপনির্বাচন শেষ মুহূর্তে এসে জমে উঠেছে। আগামী ৪ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে ভোট গ্রহণ।

এবার প্রথমবারের মতো এ আসনের ভোটাররা ইভিএমের মাধ্যমে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করবেন। শহর, পাড়া- মহল্লায় প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা এখন তুঙ্গে। শেষ সময়ে যেন প্রার্থীদের দম ফেলার ফুরসত নেই। নাওয়া-খাওয়া ছেড়ে দিন-রাত প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।

এ নির্বাচনে দ্বিমুখী লড়াইয়ের কথা জানিয়েছেন ভোটাররা। জরিপে এগিয়ে থাকা দুই প্রার্থীর বাগযুদ্ধেও মিলছে জমজমাট লড়াইয়ের আভাস। এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিবের সঙ্গে জাতীয় পার্টির প্রার্থী আতিকুর রহমান আতিকের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে অনেকটা পিছিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত সাবেক এমপি শফি চৌধুরী ।

প্রচারণায় নৌকার প্রার্থী তরুণ হাবিবুর রহমান হাবিব বেশ সুবিধাজনক অবস্থানেই আছেন। দলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সমর্থক একাট্টা হয়ে তার পক্ষে কাজ করছে। ইতোমধ্যে হাবিবের পক্ষে প্রচারণায় দলের এক ডজনের বেশি কেন্দ্রীয় নেতা অংশ নিয়েছেন। ফলে এবারও এ আসনে নৌকার জয়ের আশা করছেন দলের কর্মী- সমর্থকরা।

অপরদিকে লাঙ্গলের প্রার্থী জাতীয় পার্টির আতিকুর রহমান আতিকের পক্ষে দলের কর্মী-সমর্থকরা প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে দলীয়ভাবে তাদের গণসংযোগ প্রতিপক্ষ থেকে একটু কম লক্ষ করা গেছে ।

এ ছাড়াও এ নির্বাচনে অপর আরও দুই প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য ও বহিষ্কৃত হওয়া বিএনপি নেতা শফি আহমদ চৌধুরী ‘মোটরগাড়ি’ প্রতীকে এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের নেতা জুনায়েদ মুহাম্মদ মিয়া ‘ডাব’ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

তবে বাংলাদেশ কংগ্রেসের নেতা ‘ডাব’ প্রতীকের জুনায়েদ মুহাম্মদ মিয়ার প্রচার-প্রচারণা অনেকটাই পোস্টার ও প্রচার- মাইককেন্দ্রিক।

সাধারণ ভোটাররা বলছেন, তারা এবার দল নয়, ব্যক্তি দেখে ভোট দেবেন। এলাকার উন্নয়নে দলের মনোনয়ন মুখ্য নয়; এক্ষেত্রে প্রার্থীর ব্যক্তিগত মন- মানসিকতা, সততা ও যোগ্যতাই আসল ব্যাপার। কাজেই তারা কে কোন দলের প্রার্থী সেটা বিবেচনায় নিতে চান। না। তারা ভোট দেবেন প্রার্থীর ব্যক্তিগত ইমেজ, সততা ও যোগ্যতা দেখে।

এদিকে নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে প্রার্থীদের কথার লড়াইও বেশ জমে উঠেছে। একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ তুলছেন।

এরই মধ্যে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা জানিয়ে জাতীয় পার্টির প্রার্থী আতিকুর রহমান বলেছেন, লাঙ্গলের পক্ষে এবার জোয়ার উঠেছে। তবে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট নিয়ে আমি শঙ্কিত ভোটারা যদি নির্ভয়ে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারেন, তাহলে আমি বিপুল ভোটে জয়ী হবো।

আতিকের সাথে সুর মিলিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী শফি চৌধুরী বলেছেন, জনগণ তার পক্ষে আছেন, ভোটাররা সঠিকভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারলে মোটরগাড়ির বিজয় কেউ ছিনিয়ে নিতে পারবে না।

অবশ্য এসব শঙ্কা উড়িয়ে দিয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব। তিনি বলেছেন, নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ হবে। মাঠে সব প্রার্থীই সমান সুযোগ পাচ্ছেন। এখন পর্যন্ত কোনো প্রার্থীর প্রচার-প্রচারণায় কেউ বাধা দেয়নি।

এ বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সিলেটের জেলা প্রশাসক এম কাজী এমদাদুল ইসলাম বলেছেন, সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কার কিছু নেই। কোনো প্রার্থী সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ করলে তা খতিয়ে দেখা হবে।

প্রসঙ্গত, করোনায় আক্রান্ত হয়ে চলতি বছরের ১১ মার্চ সিলেট-৩ আসনের সরকারদলীয় সংসদ সদস্য মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরীর মৃত্যু হয়।

এরপর ১৫ মার্চ আসনটি শূন্য ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গেল ২৮ জুলাই এ আসনে উপনির্বাচনে ভোট গ্রহণের কথা থাকলেও করোনা পরিস্থিতির কারণে ভোট গ্রহণ স্থগিত করেন হাইকোর্ট। এরপর এক দফা পিছিয়ে আগামী ৪ সেপ্টেম্বর ভোট গ্রহণের তারিখ ধার্য করে নির্বাচন কমিশন।






এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ





















© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD
themesbazar_brekingnews1*5k