১১ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ ২৭শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ২১শে রবিউল আউয়াল, ১৪৪৩ হিজরি



স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে সচেতনতা জরুরি

ইসরাত জাহান 
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ২৮ জুন, ২০২১
প্রতীকী ছবি

প্রতিবছর বহুসংখ্যক মানুষ ক্যান্সারের কারণে মৃত্যুকে বরণ করে নেয়। এটি নিয়ে নানা জল্পনা কল্পনার সৃষ্টি হচ্ছে প্রতিনিয়ত।

গবেষকদের মতে, “এশিয়া ও আফ্রিকায় বৈশ্বিক অনুপাতের তুলনায় ক্যান্সার আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। বাংলাদেশ এশিয়া মহাদেশেরই অন্তর্ভুক্ত। বিগত কয়েক বছর ধরে এখানে ক্যান্সারে আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে”। International Agency for Research on Cancer (IARC) এর  তথ্যমতে, “ প্রত্যেকবছর বাংলাদেশে প্রায় এক লাখ নয় হাজার মানুষ ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করে। এভাবে মৃত্যুর প্রধান কারণ হল যথাসময়ে চিকিৎসা না পাওয়া”। এ সংস্থার পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে যে, “ বাংলাদেশে প্রতি পাঁচজন পুরুষের মধ্যে একজন এবং প্রতি ছয়জন নারীর মধ্যে একজন ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়”। বর্তমানে বাংলাদেশে মেয়েদের ক্ষেত্রে আক্রান্তের ঝুঁকি বেশি। মেয়েদের ক্ষেত্রে স্তন ও জরায়ু ক্যান্সারে আক্রান্তের সংখ্যা বেশি পরিলক্ষিত হয়।

স্তন ক্যান্সারে মৃত্যুঝুঁকি দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, “বাংলাদেশে প্রতিবছর স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হয় প্রায় ১৩হাজারের ও বেশি নারী। তন্মধ্যে মারা যায় প্রায় সাড়ে ৭হাজার নারী”। আর এক সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, “নারীদের মধ্যে ক্যান্সারে আক্রান্তের হার ২৪শতাংশ, মৃত্যুর হার ১৬.৯শতাংশ”।

গ্লোবাল ক্যান্সার স্ট্যাটিটিক্স (গ্লোবোক্যান) এর তথ্যমতে, “বাংলাদেশে প্রতিবছর স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছে প্রায় ১৯লাখ নারী”। এখন সময় এসেছে পুরুষদের ও সচেতন হওয়ার। কারণ বর্তমানে এ সমস্যা পুরুষদের মধ্যেও দেখা দিয়েছে। সাধারণত ৫০বছরের বেশি নারীদের এ ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। ১৩-১৪বছর বয়সে পিরিয়ড শুরু হওয়ার যথাযথ সময় হলেও অনেক মেয়ের ১০-১১বছর বয়সেই পিরিয়ড শুরু হয়। ফলে ওইসব মেয়েরা স্তন ক্যান্সারে আক্রান্তের ঝুঁকিতে থাকে। আবার কখনো কখনো বংশগত ভাবে ও এই সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। মায়ের শরীরে ক্যান্সার থাকলে মেয়ে ও আক্রান্তের ঝুঁকিতে থাকে। মূলত সচেতনতার অভাবে এটি আক্রান্ত ব্যক্তিকে মৃত্যুর দিকে টেনে নিয়ে যায়। যদি প্রাথমিক অবস্থায় ক্যান্সার শনাক্ত গয় তাহলে ৯০শতাংশ রোগীকে বাঁচানো সম্ভব। তাই স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধে প্রতি বছর একবার করে স্তন পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দিয়েছেন ক্যান্সার বিশেষজ্ঞরা। বর্তমানে  বাংলাদেশে প্রতিবছর জরায়ুমুখ ক্যান্সারে আক্রান্তের সংখ্যা ও ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে সাথে মৃত্যু ঝুঁকিও। প্রতি বছর  বাংলাদেশে প্রায় ১২হাজার নারী এই ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়। প্রায় ৭হাজার নারী মৃত্যুবরণ করে।

International Agency for Research on Cancer(IARC) তথ্যমতে, “প্রতিবছর বাংলাদেশে প্রায় ২০শতাংশ নারী স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হয় এবং প্রায় ১৬শতাংশ নারী মৃত্যুবরণ করে”। এক সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, “সারাবিশ্বে প্রতি ২মিনিটে একজন নারী জরায়ুমুখ ক্যান্সারে মৃত্যুবরণ করে এবং প্রতি বছর ৫০লক্ষাধিক নারী নতুন করে আক্রান্ত হয়”। বাংলাদেশে ক্যান্সার আক্রান্ত নারীদের মধ্যে শতকরা ৩০শতাংশ নারী জরায়ু ক্যান্সারে আক্রান্ত। ঘন ঘন সন্তান প্রসব, বহুগামিতা, অসচেতনতা এসবের কারণে এই সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়।

একজন ক্যান্সার গবেষকের মতে, “একজন মেয়ের বাল্যবিবাহ জরায়ুমুখ ক্যান্সারের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ আবার দেরিতে বিয়ে হলে তা স্তন ক্যান্সারের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। তার মতে, বর্তমানে অনেক মেয়ে রয়েছে যারা নিজের ক্যারিয়ার গঠনের কথা চিন্তা করে দেরিতে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেয়। ২৮বছরের মধ্যে একজন মেয়ের প্রথম সন্তান জন্মদানের প্রস্তুতি নেওয়া এবং মা হওয়া উচিত। অন্যথায় স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি থাকে”। লজ্জার কারণে মেয়েরা এই সমস্যার সম্মুখীন হলেও কাউকে কিছু বলতে পারে না। তাই লজ্জা নয় বরং এই সমস্যা নিয়ে খোলাখুলি কথা বলা উচিত এবং সচেতন হওয়া জরুরি।

কুশিয়ারাভিউ২৪ডটকম/২৮ জুন,২০২১/ ইসরাত

 






এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ





















© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD
themesbazar_brekingnews1*5k